Ajker Patrika

গাজায় ট্রাম্প বাহিনীর অংশ হতে চায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রকে জানালেন খলিলুর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ০০
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে (আইএসএফ) অংশগ্রহণে ‘নীতিগত আগ্রহ’ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে এ অবস্থান তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ভিসা নীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে গঠিতব্য বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি উত্থাপন করলে যুক্তরাষ্ট্র তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। মার্কিন কর্মকর্তারা একে একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) নেতৃত্বে একজন মার্কিন দুই তারকা জেনারেল নিয়োগের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মাধ্যমে গাজার নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, বেসামরিক ও সামরিক ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও মানবিক সহায়তা সমন্বয়ের জন্য ইতিমধ্যে ইসরায়েলে একটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বেসামরিক–সামরিক সদর দপ্তর গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনার নেতৃত্বও দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত কাঠামোতে গাজা বোর্ড অব পিস নামে একটি আন্তর্জাতিক নির্বাহী পরিষদ গঠনের কথা রয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গাজায় সরাসরি কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না। তবে আন্তর্জাতিক বাহিনীর কমান্ডে একজন মার্কিন জেনারেলের উপস্থিতি ইসরায়েলের আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁরা মনে করছেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইতিমধ্যে আইএসএফ ও বোর্ড অব পিস গঠনের অনুমোদন দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের আগ্রহকে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ কর্তৃক মার্কিন কৃষিপণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানান এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় আরোপিত ‘ভিসা বন্ড’ শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানান। জবাবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ শুধু জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গেও বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে একদিকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়তে পারে, অন্যদিকে এ উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত