মাসুদ উর রহমান

সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রপ্রত্যাশী জনগণের কাছে এই নির্বাচনটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। কারণ, এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশে যে নির্বাচনী বাস্তবতা গড়ে উঠেছিল, তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, অংশগ্রহণহীন এবং বিতর্কে ভরপুর। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনব্যবস্থা থেকে ক্রমাগত সরে যাওয়া। জনগণের ভোটাধিকার সংকুচিত হওয়া, বিরোধীমতের দমন এবং পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচন—সব মিলিয়ে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার আস্থার সম্পর্ক ভেঙে পড়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এসব নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল সীমিত কিংবা অনুপস্থিত, আর প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল প্রবল। ফলে নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব না হয়ে পরিণত হয়েছিল আনুষ্ঠানিকতায়। এই প্রেক্ষাপটে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি যদি সত্যিই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের পুনরুদ্ধারে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে পারে।
কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গণভোট বা জনমত জরিপ মূলত এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি কোনো আইন, প্রস্তাব বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করে। এটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু এবারের প্রস্তাবিত গণভোটে জনগণকে ভোট দিতে বলা হচ্ছে একসঙ্গে ১১টি অনুচ্ছেদ বিবেচনা করে, একটিমাত্র ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে। এখানেই মূল সমস্যার সূত্রপাত।
বাস্তবতা হলো, একজন সচেতন নাগরিকের পক্ষে ১১টি ভিন্ন অনুচ্ছেদের সঙ্গে একযোগে সম্পূর্ণ একমত বা সম্পূর্ণ দ্বিমত হওয়া অত্যন্ত কঠিন, প্রায় অসম্ভব। প্রতিটি অনুচ্ছেদ ভিন্ন বিষয়বস্তু বহন করে, ভিন্ন প্রভাব ফেলে এবং ভিন্ন পরিণতি ডেকে আনে। কোনো অনুচ্ছেদের সঙ্গে কেউ নীতিগতভাবে একমত হতে পারেন, আবার অন্যটির সঙ্গে মৌলিক দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন। অথচ এই গণভোটে নাগরিককে বাধ্য করা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক প্যাকেজ হয় সম্পূর্ণ গ্রহণ করতে, নয়তো সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করতে।
এই ধরনের ভোটব্যবস্থা প্রকৃত অর্থে গণভোট নয়; বরং এটি জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত করার একটি কৌশল। যখন একাধিক পৃথক সিদ্ধান্তকে একত্র করে একটি মাত্র হ্যাঁ/না ভোটে পরিণত করা হয়, তখন নাগরিকের ব্যক্তিগত বিবেচনা, যুক্তি ও মতামত কার্যত অগ্রাহ্য হয়ে যায়। এটি গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনাবিরোধী। গণতন্ত্র মানে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন নয়; গণতন্ত্র মানে সংখ্যালঘু মতের সম্মান, মতের বৈচিত্র্য এবং প্রতিটি বিষয়ে স্বাধীনভাবে মত দেওয়ার অধিকার।
একটি ভোটে ১১টি অনুচ্ছেদের রায় নেওয়া কার্যত জনগণের ওপর একধরনের রাজনৈতিক অনিচ্ছা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ব্যাপারের মতো হতে পারে। একজন ভোটার জানেন, তিনি যদি ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দেন, তাহলে এমন কিছু অনুচ্ছেদও অনুমোদিত হবে, যেগুলোর সঙ্গে তিনি একমত নন। আবার যদি ‘না’-তে ভোট দেন তাহলে যেসব অনুচ্ছেদ তিনি সমর্থন করেন, সেগুলোকেও বাতিল করতে হবে। এই আরোপিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামতকে অবজ্ঞা করা হবে হয়তো। ফলে গণভোটের ফলাফল জনগণের সূক্ষ্ম ও বাস্তব মতামতের প্রতিফলন না হয়ে একটি আরোপিত সিদ্ধান্তে পরিণত হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
তবে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিশ্বের গণতান্ত্রিক চর্চায় আমরা কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখে থাকি। গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বা সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রস্তাব আলাদা প্রশ্ন হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়। কারণ, গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো—প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। ‘সব না হলে কিছুই না’—এই দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক গণতন্ত্রের নয়। যদি বলি কর্তৃত্ববাদী চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ তাহলেও ভুল বলা হবে না। কাজেই যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় এই আয়োজন তা গণতন্ত্র উত্তরণের পথে সহায়ক হবে বলে ঠিক মনে হচ্ছে না। নাকি এক সংকট থেকে বেরিয়ে এসে অন্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে দেশ। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে–‘বরি কইলেও মরি, টরি কইলেও মরি’। অর্থাৎ গণতন্ত্রের পরীক্ষায় যেন আজ উভয়সংকটে বাংলাদেশ!
লেখক: কলেজশিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী

সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রপ্রত্যাশী জনগণের কাছে এই নির্বাচনটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। কারণ, এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশে যে নির্বাচনী বাস্তবতা গড়ে উঠেছিল, তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, অংশগ্রহণহীন এবং বিতর্কে ভরপুর। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনব্যবস্থা থেকে ক্রমাগত সরে যাওয়া। জনগণের ভোটাধিকার সংকুচিত হওয়া, বিরোধীমতের দমন এবং পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচন—সব মিলিয়ে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার আস্থার সম্পর্ক ভেঙে পড়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এসব নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল সীমিত কিংবা অনুপস্থিত, আর প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল প্রবল। ফলে নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব না হয়ে পরিণত হয়েছিল আনুষ্ঠানিকতায়। এই প্রেক্ষাপটে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি যদি সত্যিই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের পুনরুদ্ধারে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে পারে।
কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গণভোট বা জনমত জরিপ মূলত এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি কোনো আইন, প্রস্তাব বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করে। এটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু এবারের প্রস্তাবিত গণভোটে জনগণকে ভোট দিতে বলা হচ্ছে একসঙ্গে ১১টি অনুচ্ছেদ বিবেচনা করে, একটিমাত্র ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে। এখানেই মূল সমস্যার সূত্রপাত।
বাস্তবতা হলো, একজন সচেতন নাগরিকের পক্ষে ১১টি ভিন্ন অনুচ্ছেদের সঙ্গে একযোগে সম্পূর্ণ একমত বা সম্পূর্ণ দ্বিমত হওয়া অত্যন্ত কঠিন, প্রায় অসম্ভব। প্রতিটি অনুচ্ছেদ ভিন্ন বিষয়বস্তু বহন করে, ভিন্ন প্রভাব ফেলে এবং ভিন্ন পরিণতি ডেকে আনে। কোনো অনুচ্ছেদের সঙ্গে কেউ নীতিগতভাবে একমত হতে পারেন, আবার অন্যটির সঙ্গে মৌলিক দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন। অথচ এই গণভোটে নাগরিককে বাধ্য করা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক প্যাকেজ হয় সম্পূর্ণ গ্রহণ করতে, নয়তো সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করতে।
এই ধরনের ভোটব্যবস্থা প্রকৃত অর্থে গণভোট নয়; বরং এটি জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত করার একটি কৌশল। যখন একাধিক পৃথক সিদ্ধান্তকে একত্র করে একটি মাত্র হ্যাঁ/না ভোটে পরিণত করা হয়, তখন নাগরিকের ব্যক্তিগত বিবেচনা, যুক্তি ও মতামত কার্যত অগ্রাহ্য হয়ে যায়। এটি গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনাবিরোধী। গণতন্ত্র মানে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন নয়; গণতন্ত্র মানে সংখ্যালঘু মতের সম্মান, মতের বৈচিত্র্য এবং প্রতিটি বিষয়ে স্বাধীনভাবে মত দেওয়ার অধিকার।
একটি ভোটে ১১টি অনুচ্ছেদের রায় নেওয়া কার্যত জনগণের ওপর একধরনের রাজনৈতিক অনিচ্ছা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ব্যাপারের মতো হতে পারে। একজন ভোটার জানেন, তিনি যদি ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দেন, তাহলে এমন কিছু অনুচ্ছেদও অনুমোদিত হবে, যেগুলোর সঙ্গে তিনি একমত নন। আবার যদি ‘না’-তে ভোট দেন তাহলে যেসব অনুচ্ছেদ তিনি সমর্থন করেন, সেগুলোকেও বাতিল করতে হবে। এই আরোপিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামতকে অবজ্ঞা করা হবে হয়তো। ফলে গণভোটের ফলাফল জনগণের সূক্ষ্ম ও বাস্তব মতামতের প্রতিফলন না হয়ে একটি আরোপিত সিদ্ধান্তে পরিণত হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
তবে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিশ্বের গণতান্ত্রিক চর্চায় আমরা কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখে থাকি। গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বা সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রস্তাব আলাদা প্রশ্ন হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়। কারণ, গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো—প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। ‘সব না হলে কিছুই না’—এই দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক গণতন্ত্রের নয়। যদি বলি কর্তৃত্ববাদী চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ তাহলেও ভুল বলা হবে না। কাজেই যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় এই আয়োজন তা গণতন্ত্র উত্তরণের পথে সহায়ক হবে বলে ঠিক মনে হচ্ছে না। নাকি এক সংকট থেকে বেরিয়ে এসে অন্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে দেশ। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে–‘বরি কইলেও মরি, টরি কইলেও মরি’। অর্থাৎ গণতন্ত্রের পরীক্ষায় যেন আজ উভয়সংকটে বাংলাদেশ!
লেখক: কলেজশিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের পালে হাওয়া লাগা যাকে বোঝায়, সে রকম কোনো কিছু এখনো সাধারণ জনপরিসরে দেখা যাচ্ছে না। এবারই একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে একই দিনে। কিন্তু মানুষকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হতে দেখা যাচ্ছে না।
৩ ঘণ্টা আগে
বর্তমান সময়ে চাকরি হলো সোনার হরিণ। যে হরিণের পেছনে ছুটছে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী। যেকোনো ধরনের চাকরি পেতে কারও প্রচেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। বিশেষ করে আমাদের দেশে সরকারি চাকরির বাজারে এখন প্রতিযোগিতার অভাব নেই।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে দ্রুত। দেশের নাগরিকেরা যেমন অধীর আগ্রহে দিনটির অপেক্ষা করছেন, তেমনি করছেন প্রবাসীরাও। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী নির্বাচনের জন্য মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ প্রবাদটিই যেন সত্যে প্রমাণিত হতে চলেছে খুলনা নগরের উপকণ্ঠে রূপসা সেতুর নিকটবর্তী মাথাভাঙ্গা মৌজার ৩২টি দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের মানুষের কাছে। কারণ, এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। জায়গাটি একসময় বিরান ভূমি ছিল।
১ দিন আগে