পোস্টাল ব্যালটে ভোট নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক মহল থেকে এই অভিযোগ ওঠার পর ইসিও বলেছে যে বিষয়টি সম্পর্কে তারাও অবহিত। কিন্তু সেই অনিয়ম রোধের কোনো পদক্ষেপের কথা এখনো শোনা যায়নি। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সুশীল সমাজের প্ল্যাটফর্ম নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অরুণ কর্মকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের পালে হাওয়া লাগা যাকে বোঝায়, সে রকম কোনো কিছু এখনো সাধারণ জনপরিসরে দেখা যাচ্ছে না। এবারই একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে একই দিনে। কিন্তু মানুষকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হতে দেখা যাচ্ছে না। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর কথা আলাদাভাবে ভাবা উচিত। রাজনীতিবিদদের সব কর্মকাণ্ডই এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। এক সপ্তাহ পর, ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে হয়তো জনপরিসরের অবস্থা পাল্টাবে। তখন হয়তো সারা দেশ ভোটের ময়দানে পরিণত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচনকে উৎসবমুখর এবং সারা পৃথিবীর কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে রেখেছে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) সরকারের সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য যারপরনাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর আগে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তন ও পুনর্গঠন দাবি করা হলেও এখন আর তেমন কিছু শোনা যাচ্ছে না। হয়তো ইস্যুগুলোর নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এগুলো সরকার, নির্বাচন কমিশন ও দেশবাসীর জন্য অবশ্যই স্বস্তির বিষয়।
কিন্তু এর পাশাপাশি বড় ধরনের অস্বস্তির বিষয়ও বিদ্যমান রয়েছে। সেই অস্বস্তিগুলো যে অচিরেই দূর হওয়ার মতো কিংবা দূর হবে, তা-ও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় অস্বস্তির বিষয় হচ্ছে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অন্তর্বর্তী সরকারের বিগত বছর দেড়েকের শাসনকালে কখনোই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কখনো তা নিয়ন্ত্রণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরোধী প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নানা শক্তি। কখনো তা নিয়ন্ত্রণে ছিল বহুল আলোচিত ও অসীম ক্ষমতাধর মবের (মতান্তরে প্রেশার গ্রুপের)। কিন্তু নির্বাচনী ময়দানেও যদি সেই একই শক্তিগুলো আইনশৃঙ্খলার প্রকৃত নিয়ন্ত্রক হয়, তাহলে দেশে-বিদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মুখরক্ষা হবে কীভাবে! নিশ্চয়ই সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ভাবছে এবং প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নির্ধারণ করছে।
এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কিন্তু পুলিশের উচ্চতম মহল থেকে ইতিমধ্যে বলে দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনের আগে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব নয়। অবশ্য এ কারণে যে নির্বাচনে বিশেষ কোনো বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমনটাও তারা মনে করে না। তবে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি প্রায়ই শোনা যায়। হয়তো নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই অবৈধ অস্ত্রধারীরা সংযত হতে থাকবে। কিন্তু যেমনটি ধারণা বা অভিযোগ করে আসা হচ্ছে তাতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের সঙ্গে নির্বাচনবিরোধী শক্তির একটা যোগসাজশ রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচনকে বিঘ্নিত করে প্রশ্নবিদ্ধ করা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। তার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা দেখতে পেয়েছি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। নির্বাচনের মুখে তাদের নিষ্ক্রিয়তা কীভাবে আশা করা যায়!
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পুলিশের। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারের সহযোগী বলে পুরো পুলিশ বাহিনীকে যেভাবে হেনস্তা এবং কোণঠাসা করা হয়েছে, সেখান থেকে পুলিশ বাহিনী এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারেনি। এই অবস্থায় তাদের ওপর এসে পড়েছে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুদায়িত্ব। কিন্তু পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ‘সমাজের সম্পূর্ণ সমর্থন না পেলে আমি নির্বাচন করতে পারব না।’ (সূত্র: আজকের পত্রিকা, ১১ জানুয়ারি)।
১০ জানুয়ারি রংপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি এসব কথা বলেছেন। এর আগে তিনি রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে রংপুর বিভাগে কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বিশেষ সভা করেন। এরপর আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, আইনগত কাজ করতে গেলে মানুষ ভুল বোঝে। তারা মনে করে, এরা ৫ আগস্টের আগের পুলিশ, তারা কেন গ্রেপ্তার করবে। তারা কেন রাস্তা ছেড়ে দিতে বলবে। নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগ করাই পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
আইজিপি সাংবাদিকদের এ কথাও বলেছেন যে ‘আইনশৃঙ্খলা সভায় উপদেষ্টাদের বলেছি, নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগে আমাকে সমর্থন ও গ্রিন সিগন্যাল দিতে হবে। আমি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে চাই। আমার যদি ভয় থাকে, এটা বললে তো এনসিপির ওরা আমাকে ইয়ে করবে। এটা বললে তো অমুক বড় দল এসে আমাকে ইয়ে করবে। এটা যদি আমার ওসির ভেতরে, সাবইন্সপেক্টরের ভেতরে থাকে, আমি তো পারব না ইয়ে করতে। এইটাই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ এটা যেমন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি এটা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সবচেয়ে বড় ভাবনার কথা হলো এই চ্যালেঞ্জ সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ বাহিনী কীভাবে মোকাবিলা করবে?
এসব অস্বস্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্বস্তি রয়েছে। এই অস্বস্তি রাজনৈতিক মেরুকরণকে কেন্দ্র করে। এখানে সবচেয়ে বড় অস্বস্তি হচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে যে ছাত্র নেতৃত্ব অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপির জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে। ফলে শুধু যে তাঁদের নেতৃত্বের একটা বড় অংশ দল ছেড়েছেন তা নয়, তাঁদের গুপ্ত অথচ প্রকৃত পরিচয়ও প্রকাশিত হয়েছে বলে মানুষ মনে করছে। এরপর বিষয়টি আরও গভীর একটি মাত্রা পেয়েছে, যখন এনসিপির নেতৃত্ব পর্যায় থেকেই চাউর হয়েছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কোনো কোনো সদস্য ইন্ধন দিয়েই তাঁদেরকে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে ভূমিকা রেখেছেন। এরপর এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে উপদেষ্টা পরিষদের ওই সদস্যদের এ ক্ষেত্রে স্বার্থ কী! তাহলে এর পেছনে কি এমন কোনো সমীকরণ রয়েছে যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটই আগামী সরকার গঠন করছে! সেই সরকারের অংশ হওয়া নিশ্চিত করার জন্যই এনসিপিকে ইন্ধন দেওয়া হয়েছে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে? এর মধ্যে আবার এবি পার্টির চেয়ারম্যান জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই বাধ্য হয়ে তাঁরা জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন।
তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে সমঝোতা না হওয়ায় তারা ১১ দলীয় জোট থেকে গতকাল শুক্রবার বেরিয়ে গিয়ে ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
বিএনপি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোট সবকিছু অনেকটাই সামলে নিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং যেসব অন্য রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সমীকরণের উল্লেখ করা হলো, সেগুলো নির্বাচনকে কতটা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ এখনো কাটেনি। পোস্টাল ব্যালটে ভোট নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক মহল থেকে এই অভিযোগ ওঠার পর ইসিও বলেছে যে বিষয়টি সম্পর্কে তারাও অবহিত। কিন্তু সেই অনিয়ম রোধের কোনো পদক্ষেপের কথা এখনো শোনা যায়নি।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সুশীল সমাজের প্ল্যাটফর্ম নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই আশঙ্কা সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যেই কম-বেশি রয়েছে।
লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের পালে হাওয়া লাগা যাকে বোঝায়, সে রকম কোনো কিছু এখনো সাধারণ জনপরিসরে দেখা যাচ্ছে না। এবারই একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে একই দিনে। কিন্তু মানুষকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হতে দেখা যাচ্ছে না। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর কথা আলাদাভাবে ভাবা উচিত। রাজনীতিবিদদের সব কর্মকাণ্ডই এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। এক সপ্তাহ পর, ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে হয়তো জনপরিসরের অবস্থা পাল্টাবে। তখন হয়তো সারা দেশ ভোটের ময়দানে পরিণত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচনকে উৎসবমুখর এবং সারা পৃথিবীর কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে রেখেছে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) সরকারের সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য যারপরনাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর আগে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তন ও পুনর্গঠন দাবি করা হলেও এখন আর তেমন কিছু শোনা যাচ্ছে না। হয়তো ইস্যুগুলোর নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এগুলো সরকার, নির্বাচন কমিশন ও দেশবাসীর জন্য অবশ্যই স্বস্তির বিষয়।
কিন্তু এর পাশাপাশি বড় ধরনের অস্বস্তির বিষয়ও বিদ্যমান রয়েছে। সেই অস্বস্তিগুলো যে অচিরেই দূর হওয়ার মতো কিংবা দূর হবে, তা-ও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় অস্বস্তির বিষয় হচ্ছে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অন্তর্বর্তী সরকারের বিগত বছর দেড়েকের শাসনকালে কখনোই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কখনো তা নিয়ন্ত্রণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরোধী প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নানা শক্তি। কখনো তা নিয়ন্ত্রণে ছিল বহুল আলোচিত ও অসীম ক্ষমতাধর মবের (মতান্তরে প্রেশার গ্রুপের)। কিন্তু নির্বাচনী ময়দানেও যদি সেই একই শক্তিগুলো আইনশৃঙ্খলার প্রকৃত নিয়ন্ত্রক হয়, তাহলে দেশে-বিদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মুখরক্ষা হবে কীভাবে! নিশ্চয়ই সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ভাবছে এবং প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নির্ধারণ করছে।
এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কিন্তু পুলিশের উচ্চতম মহল থেকে ইতিমধ্যে বলে দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনের আগে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব নয়। অবশ্য এ কারণে যে নির্বাচনে বিশেষ কোনো বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমনটাও তারা মনে করে না। তবে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি প্রায়ই শোনা যায়। হয়তো নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই অবৈধ অস্ত্রধারীরা সংযত হতে থাকবে। কিন্তু যেমনটি ধারণা বা অভিযোগ করে আসা হচ্ছে তাতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের সঙ্গে নির্বাচনবিরোধী শক্তির একটা যোগসাজশ রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচনকে বিঘ্নিত করে প্রশ্নবিদ্ধ করা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। তার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা দেখতে পেয়েছি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। নির্বাচনের মুখে তাদের নিষ্ক্রিয়তা কীভাবে আশা করা যায়!
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পুলিশের। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারের সহযোগী বলে পুরো পুলিশ বাহিনীকে যেভাবে হেনস্তা এবং কোণঠাসা করা হয়েছে, সেখান থেকে পুলিশ বাহিনী এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারেনি। এই অবস্থায় তাদের ওপর এসে পড়েছে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুদায়িত্ব। কিন্তু পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ‘সমাজের সম্পূর্ণ সমর্থন না পেলে আমি নির্বাচন করতে পারব না।’ (সূত্র: আজকের পত্রিকা, ১১ জানুয়ারি)।
১০ জানুয়ারি রংপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি এসব কথা বলেছেন। এর আগে তিনি রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে রংপুর বিভাগে কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বিশেষ সভা করেন। এরপর আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, আইনগত কাজ করতে গেলে মানুষ ভুল বোঝে। তারা মনে করে, এরা ৫ আগস্টের আগের পুলিশ, তারা কেন গ্রেপ্তার করবে। তারা কেন রাস্তা ছেড়ে দিতে বলবে। নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগ করাই পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
আইজিপি সাংবাদিকদের এ কথাও বলেছেন যে ‘আইনশৃঙ্খলা সভায় উপদেষ্টাদের বলেছি, নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগে আমাকে সমর্থন ও গ্রিন সিগন্যাল দিতে হবে। আমি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে চাই। আমার যদি ভয় থাকে, এটা বললে তো এনসিপির ওরা আমাকে ইয়ে করবে। এটা বললে তো অমুক বড় দল এসে আমাকে ইয়ে করবে। এটা যদি আমার ওসির ভেতরে, সাবইন্সপেক্টরের ভেতরে থাকে, আমি তো পারব না ইয়ে করতে। এইটাই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ এটা যেমন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি এটা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সবচেয়ে বড় ভাবনার কথা হলো এই চ্যালেঞ্জ সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ বাহিনী কীভাবে মোকাবিলা করবে?
এসব অস্বস্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্বস্তি রয়েছে। এই অস্বস্তি রাজনৈতিক মেরুকরণকে কেন্দ্র করে। এখানে সবচেয়ে বড় অস্বস্তি হচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে যে ছাত্র নেতৃত্ব অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপির জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে। ফলে শুধু যে তাঁদের নেতৃত্বের একটা বড় অংশ দল ছেড়েছেন তা নয়, তাঁদের গুপ্ত অথচ প্রকৃত পরিচয়ও প্রকাশিত হয়েছে বলে মানুষ মনে করছে। এরপর বিষয়টি আরও গভীর একটি মাত্রা পেয়েছে, যখন এনসিপির নেতৃত্ব পর্যায় থেকেই চাউর হয়েছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কোনো কোনো সদস্য ইন্ধন দিয়েই তাঁদেরকে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে ভূমিকা রেখেছেন। এরপর এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে উপদেষ্টা পরিষদের ওই সদস্যদের এ ক্ষেত্রে স্বার্থ কী! তাহলে এর পেছনে কি এমন কোনো সমীকরণ রয়েছে যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটই আগামী সরকার গঠন করছে! সেই সরকারের অংশ হওয়া নিশ্চিত করার জন্যই এনসিপিকে ইন্ধন দেওয়া হয়েছে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে? এর মধ্যে আবার এবি পার্টির চেয়ারম্যান জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই বাধ্য হয়ে তাঁরা জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন।
তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে সমঝোতা না হওয়ায় তারা ১১ দলীয় জোট থেকে গতকাল শুক্রবার বেরিয়ে গিয়ে ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
বিএনপি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোট সবকিছু অনেকটাই সামলে নিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং যেসব অন্য রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সমীকরণের উল্লেখ করা হলো, সেগুলো নির্বাচনকে কতটা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ এখনো কাটেনি। পোস্টাল ব্যালটে ভোট নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক মহল থেকে এই অভিযোগ ওঠার পর ইসিও বলেছে যে বিষয়টি সম্পর্কে তারাও অবহিত। কিন্তু সেই অনিয়ম রোধের কোনো পদক্ষেপের কথা এখনো শোনা যায়নি।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সুশীল সমাজের প্ল্যাটফর্ম নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই আশঙ্কা সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যেই কম-বেশি রয়েছে।
লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

বর্তমান সময়ে চাকরি হলো সোনার হরিণ। যে হরিণের পেছনে ছুটছে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী। যেকোনো ধরনের চাকরি পেতে কারও প্রচেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। বিশেষ করে আমাদের দেশে সরকারি চাকরির বাজারে এখন প্রতিযোগিতার অভাব নেই।
৩ ঘণ্টা আগে
সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রপ্রত্যাশী জনগণের কাছে এই নির্বাচনটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। কারণ, এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশে যে নির্বাচনী বাস্তবতা গড়ে উঠেছিল, তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, অংশগ্রহণহীন এবং বিতর্কে ভরপুর।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে দ্রুত। দেশের নাগরিকেরা যেমন অধীর আগ্রহে দিনটির অপেক্ষা করছেন, তেমনি করছেন প্রবাসীরাও। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী নির্বাচনের জন্য মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ প্রবাদটিই যেন সত্যে প্রমাণিত হতে চলেছে খুলনা নগরের উপকণ্ঠে রূপসা সেতুর নিকটবর্তী মাথাভাঙ্গা মৌজার ৩২টি দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের মানুষের কাছে। কারণ, এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। জায়গাটি একসময় বিরান ভূমি ছিল।
১ দিন আগে