
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। তার আগে ইরাকের হাতে ‘গণবিধ্বংসী’ অস্ত্র আছে দাবি করে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম। সেই দাবি কতটা সত্য ছিল, আজ সারা বিশ্ব জানে। তবে সেই যুদ্ধের একটি বিশেষ দিক ছিল, ইরাকে দীর্ঘদিনের একনায়ক সাদ্দাম হোসেনের পতন।
ইরাক যুদ্ধ বুশ শুরু করেছিলেন ঠিকই, সমাপ্তি টানতে পারেননি। তাঁর উত্তরসূরি বারাক ওবামা ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তবে ইরাক যুদ্ধের একটি বিশেষ দিক হলো, সাদ্দাম হোসেনের পতনের পরপরই বলতে গেলে যুদ্ধের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ইরাকি বাহিনী। এরপর মূলত সাদ্দাম হোসেনের অনুগত বাহিনী এবং খণ্ড খণ্ড বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল জঙ্গিবাদ। ফলে ইরাক যুদ্ধের জয় সুসংহত করতে আট বছর লেগে গিয়েছিল।
ইরান যুদ্ধে অবশ্য প্রথম দিনই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর দুই দেশের আঘাতে একের পর এক ঝরে পড়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। খামেনির ছেলে মোজতবা আলী খামেনিকে ঘিরে ইরান ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেও দৃশ্যপটে তিনি নেই। কিন্তু ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে এই যুদ্ধের বড় পার্থক্য হলো, খামেনি নিহত হলেও ইরানের সামরিক শক্তি ও কৌশল দমে যায়নি। বরং শুরুর তুলনায় দিনে দিনে তারা আরও কৌশলী হয়ে উঠছে।
কোনো উপায়ান্তর না দেখে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার সেই বৈঠক ফলশূন্য। একই শহরে দ্বিতীয় দফার আলোচনার আয়োজন করা হলেও তা শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। হরমুজ প্রণালি হলো বিশ্ব অর্থনীতির টুঁটি। সেটা চেপে ধরে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দুর্বল হলেও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো ফল না পেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ইরানের দখলমুক্ত করারও চেষ্টা করেছেন। সেখানে ইরানি জাহাজ অবরোধের পাশাপাশি মিত্রদের জাহাজ চলাচলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু তাতেও ফল হয়নি। বরং একসময় হাল ছেড়ে দিয়ে হরমুজ থেকে সরে যায় মার্কিন বাহিনী।
ট্রাম্প ঘোষিত একের পর এক যুদ্ধবিরতি আর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি শর্তের মধ্যেই এখন ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা সীমিত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ইরান যুদ্ধ বন্ধে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। দুই দিন আগে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ক্রমেই আরও বেশি ভঙ্গুর হয়ে উঠছে। এর মাধ্যমে তিনি মূলত ইরানে আবারও হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছেন। তিনি হয়তো প্রত্যাশা করছেন, ইরান এই হুমকিতে ভয় পেয়ে তাঁর শর্তে রাজি হয়ে যাবে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে ইরানের দিক থেকে মনোযোগ সরাতে পারবেন।
কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণে যা আঁচ করা যাচ্ছে, তা হলো—ইরান সহজে বশে আসবে না। তারা বুঝে গেছে, হরমুজ প্রণালি পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ‘বোমা’। এই প্রণালিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে রথী-মহারথীরা বশে না এলেও কথা শুনতে বাধ্য। আর তাই তো যেকোনো মূল্যে ইরান হরমুজ নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া। তাদের দেওয়া শর্তাবলিতে হরমুজের ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়ার শর্ত সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই অচলাবস্থা কি ট্রাম্প মেনে নেবেন? তিনি কি মৌন পরাজয় মেনে ইরান থেকে সরে আসবেন? বাস্তবতা বলছে, ট্রাম্পের সামনে বিকল্প আছে খুব কমই। প্রথমত, এই যুদ্ধে ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মিত্র নেই। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো আছে দোটানায়, সংশয়-শঙ্কায়। ফলে তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি, পাবেও না। ইউরোপীয় মিত্ররাও ইরান প্রশ্নে একেবারেই পিঠ দেখিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এদিকে ইসরায়েলের প্ররোচনায় হোক কিংবা নিজ তাগিদে, এ যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতি তো অবশ্যই স্বীকার করতে হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর প্রাণহানির সংখ্যা হয়তো ইরানের তুলনায় নগণ্য। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে এত দিন যে দাপটের সঙ্গে মার্কিন বাহিনী তার উপস্থিতি জানান দিয়েছে, সেই দাপটে বড়সড় কুঠারাঘাত করেছে ইরান।
এদিকে আর মাত্র কয়েক মাস পরই যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এখন ট্রাম্পের জনসমর্থনের রেটিং ৩০ বা তারও কম। ইরান যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাসের বাজার যেভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে, তার প্রভাব এরই মধ্যে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। ফলে ভোটাররা ভালো নেই। সেই ভালো না থাকার মূল্য ট্রাম্পকে অবশ্যই চোকাতে হবে নির্বাচনে। তাঁর জনসমর্থনে ভাটা পড়ার খেসারত দিতে হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের। এমনটা হলে মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের দলের অবস্থান অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয়ে পড়বে। সেটা অবশ্যই প্রেসিডেন্টের জন্য সুখকর হওয়ার কথা নয়।
এ তো গেল রাজনীতির হিসাব-নিকাশ। আরও বিষয় আছে। ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলা চালাতে গেলে মার্কিন বাহিনী হয়তো আগের তুলনায় এখন বেশ কিছু ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত জবাব পাবে। কারণ, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরানের সামরিক বাহিনী মিত্রদেশগুলোর কাছ থেকে রসদ সংগ্রহ করেছে। সেই মিত্র কিন্তু যে সে কেউ নয়। এসব দেশের তালিকায় রাশিয়ার শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এমনকি চীনও যে কোনো না কোনোভাবে ইরানকে সহযোগিতা করছে না, তা কে বলতে পারে! ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করা যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী যে জবাব পেয়েছিল, নতুন করে হামলা শুরু করলে তার জবাব পুরোপুরি ভিন্ন ও কৌশলী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর এমনটা হলে মার্কিন বাহিনী কিছুটা হলেও বেকায়দায় পড়বে।
ইরানের সবচেয়ে বড় সুবিধার জায়গা হলো তার ভূপ্রকৃতি। সাগর ও পাহাড়ঘেরা মরু-প্রকৃতির এই দেশটি আসলেই দুর্ভেদ্য। কাজেই মার্কিন বাহিনীর জন্য সেখানে স্থল অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত কঠিন হবে। ভরসা থাকবে কেবল নৌ আর আকাশ হামলা। কিন্তু ইরান যদি সত্যই নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে থাকে, তাহলে এসব হামলায় এবার ভিন্ন কিছু দেখবে বিশ্ব। এমনিতেই ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন গোয়েন্দারা যে প্রতিবেদন দিয়েছিল, তাতেই যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছিল। কিন্তু কথা শোনেননি ট্রাম্প। ফলাফল—ইরান খোদ যুক্তরাষ্ট্রকেই অবাক করেছে। এবার যে আরও কিছু করবে না, তার নিশ্চয়তা কী?
আমরা দর্শক, ক্ষুদ্র জ্ঞানের মানুষ। ডোনাল্ড ট্রাম্প বয়োজ্যেষ্ঠ, অভিজ্ঞ, তাঁর আশপাশ ঘিরে রয়েছেন বিশেষজ্ঞ, গোয়েন্দারা। ফলে তাঁর কাছে অবশ্যই নিগূঢ়, গভীর তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এটা সোজাসাপ্টা বলা যায় যে ইরানে আবারও হামলা চালাতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে, তার প্রভাব কেবল বিশ্বের অন্যান্য দেশ নয়, খোদ যুক্তরাষ্ট্র ও তার জনগণের ওপরও পড়বে।

গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পুরাতন ফজিলাতুন নেছা হলের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এক শিক্ষার্থী। এ সময় হঠাৎ তাঁর পিছু নেওয়া এক ব্যক্তি তাঁকে গলায় দড়ির মতো কিছু একটা দিয়ে পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। করে ধর্ষণচেষ্টা। কয়েকজন ছাত্র ওই দিক দিয়ে যাওয়ার সময়...
১৭ ঘণ্টা আগে
ভারতের জাতীয় এবং তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সাবেক অভিনেতা জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়ের উত্থান চমকের সৃষ্টি করেছে। অবশ্য তামিল রাজনীতিতে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। বিজয়ের আগে এমজিআর—এমজি রামাচন্দ্রন এবং জয়ললিতা জয়রাম সিনেমার জগৎ থেকে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।
১৮ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এখন শুধু জ্বালানি সংকটেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক খাদ্যসংকটে রূপ নিচ্ছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল, গ্যাস এবং সার পরিবাহিত হয়। ফলে এর ব্যাঘাত সরাসরি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
‘মোহিনী’ অর্থ যে নারী সবাইকে মুগ্ধ করে। আর ‘আট্টম’ মানে নৃত্য। এই মোহিনী আর আট্টম শব্দ দুটি এক হয়ে নাম হয়েছে ভারতের কেরালা রাজ্যের একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুপ্রসিদ্ধ শাস্ত্রীয় নৃত্যকলার—মোহিনীয়াট্টম। তাহলে শব্দযুগলটির অর্থ দাঁড়ায়, মুগ্ধকারিণীর নৃত্য! বোঝাই যাচ্ছে, এই নাচ শুধু নারীরাই পরিবেশন করেন।
১৮ ঘণ্টা আগে