Ajker Patrika

রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ২৪
রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই সভার আয়োজন করে।

‘ন্যায়বিচার সবার জন্যই প্রযোজ্য’ এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন মানুষও যাতে অর্থের অভাবে অ্যাকসেস টু জাস্টিস থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার লিগ্যালি কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। একজন ভুক্তভোগী টাকার অভাবে আইনজীবীর সহায়তা নিতে পারবে না, এমনটা যেন না হয়—সেটি সরকার চেষ্টা করবে সর্বতোভাবে নিশ্চিত করতে।’

সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়। এটি প্রত্যেক মানুষের জীবনেই সত্য এবং বাস্তব হয়ে উঠুক। এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।’

তারেক রহমান বলেন, ‘যেহেতু ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রত্যেক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। যেহেতু সেই অধিকার যাতে প্রত্যেকটি মানুষ চর্চা করতে পারে, তাদেরকে সরকার যথাসাধ্য আইনি সহায়তা দেবে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার বা তারও বেশি হবে, হাজারেরও বেশি হবে...বিরোধ-বিবাদ স্বল্প সময় এবং খুব কম খরচে আদালতের বাইরেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা বছরের পরিবর্তে, বরং কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। এতে আদালতে চাপ কমেছে। সরকারের খরচও হ্রাস পেয়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের মনে এমন বিশ্বাস থাকতে হবে যে জনগণের যেকোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। লিগ্যাল এইড সেই বিশ্বাসেরই একটি প্রতিফলন বলে আমি বিশ্বাস করি। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলি। যেখানে ন্যায়বিচারই হবে শেষ কথা আমাদের।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, অ্যাকসেস টু জাস্টিস প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় কিংবা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই কাম্য বা প্রত্যাশিত নয়।’

নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন আমি নিজে কারাগারে এমন অনেককে দেখেছি, যাঁরা শুধু আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বা হয়েছেন। একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য নয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘ন্যায়বিচার শুধু আদালত বা আইনের বিষয় নয়। এটি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল শক্তি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া সুগম করতে লিগ্যাল এইড ফার্ম তৈরি করেছিলেন।’

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত