Ajker Patrika

দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১১: ৩৫
দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী
বুধবার সকাল ১০টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের কোনো সম্মেলনে এটিই তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন এবং সেখানে আগত বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করছেন।’

এবারের বার্ষিক সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জভিংগি।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সম্মেলনে অংশ নেওয়া চীনা বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কর সুবিধা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি প্রত্যক্ষ ধারণা পাবেন।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগি। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই জ্বালানি নীতির মতো দ্বিপক্ষীয় ও বৈশ্বিক গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়গুলো স্থান পায়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতের রূপান্তর নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণ করা।’

বৈঠকে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ভাবনার প্রশংসা করেন ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগি। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বৈশ্বিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

জভিংগি বলেন, ‘বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বৈশ্বিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।’

তিনি আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয় ও প্রস্তাবগুলো ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ঢাকার সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বৈঠক শেষে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মূল বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।

তথ্যসূত্র: বাসস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত