Ajker Patrika

পায়রা বন্দরে অনিয়ম ৭০০ কোটি টাকার

  • ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরের ২৭টি অডিট আপত্তিতে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে
  • সরকারি পরিবহন অডিট দপ্তরের হিসাব-সম্পর্কিত কমপ্লায়েন্স অডিট ইন্সপেকশন রিপোর্টে আপত্তি এসেছে
 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম
পায়রা বন্দরে অনিয়ম ৭০০ কোটি টাকার
পায়রা বন্দর। ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর প্রকল্পে দুই বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরের ২৭টি অডিট আপত্তিতে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। সরকারি পরিবহন অডিট দপ্তরের হিসাব-সম্পর্কিত কমপ্লায়েন্স অডিট ইন্সপেকশন রিপোর্টে এসব আপত্তি এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পরিবহন অডিট দপ্তর ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পায়রা বন্দর অডিট করে। ৪ সদস্যের অডিট দলের নেতৃত্বে ছিলেন অডিট অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রব মিয়া। সম্প্রতি সেই অডিট আপত্তির তথ্য প্রকাশিত হয়।

পরিবহন অডিট দপ্তরের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, পায়রা বন্দরে তিন মাস ধরে চলা অডিটে ২৭টি আপত্তিতে মোট ৬৯৪ কোটি ৯৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৯ টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। এর মধ্যে বড় অনিয়ম হয়েছে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে ৭৫ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ে। ১৮ মাস জ্রেজিংয়ের কথা থাকলেও ১২ মাস ড্রেজিং করে ১৮ মাসের বিল তোলা হয়েছে। এতে কয়েক শ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে।

এ ছাড়া পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ২১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার ৫২০ টাকার কোনো হিসাব দিতে পারেনি। অডিট দল পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালকের কাছে বারবার এই টাকার প্রয়োজনীয় বিল ভাউচার ও দলিলাদি দাখিলের অনুরোধ জানালেও তা সরবরাহ করা হয়নি।

নিরীক্ষার চাহিদা মোতাবেক তথ্যাদি উপস্থাপন না করায় দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এই টাকার নিরীক্ষা সুপারিশে।

এ ছাড়া পায়রা বন্দরের প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় ভবন নির্মাণে ৬২ কোটি ৮৭ লাখ ১২১ টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের অফিসার্স কোয়ার্টার ও বাংলোসমূহে জেনারেটরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে নথি জালিয়াতি করে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৫ টাকার আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। সরকারি আদেশ পালন না করায় দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয় এই টাকার নিরীক্ষা সুপারিশে।

জানতে চাইলে পায়রা বন্দরের অডিট শাখার উপপরিচালক (নিরীক্ষা-১) মো. মাহবুবুর রহমান পায়রা বন্দরে অডিট আপত্তির কথা স্বীকার করে বলেন, এগুলোর কিছু নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি হবে। তবে এর মধ্যে যেগুলো সংসদে চলে গেছে, সেগুলো নিষ্পত্তিযোগ্য নয়।

পায়রা বন্দরের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমোডর মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চোধুরীও পায়রা বন্দরে অডিট আপত্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এগুলোর কিছু নিষ্পত্তি হয়েছে বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি হবে।’

অনিয়মের বিষয়ে জানতে পায়রা বন্দরের প্রকল্প পরিচালক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত