Ajker Patrika

ঈদযাত্রা

পদ্মা সেতুতে চালু হলো দেশের প্রথম সমন্বিত ক্যাশলেস টোলিং সেবা ‘ডি-টোল’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
পদ্মা সেতুতে চালু হলো দেশের প্রথম সমন্বিত ক্যাশলেস টোলিং সেবা ‘ডি-টোল’
ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুতে চালু হয়েছে দেশের প্রথম সমন্বিত ক্যাশলেস টোলিং সেবা ‘ডি-টোল’। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম এই সেবা পরিচালনা করছে। ডি-টোল চালু হওয়ায় যানবাহন চালকদের টোলপ্লাজায় থেমে নগদ অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে না। বরং স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে টোল পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ মোকাবিলা সহজতর হয়েছে।

আজ সোমবার এটুআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এটুআই-এর হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি যানবাহন এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়েছে এবং ৭ কোটি টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে। ডি-টোল চালুর ফলে যাতায়াতে স্বস্তি বেড়েছে, যানজট কমেছে এবং বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

ডি-টোল মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) বা তারহীন প্রযুক্তিনির্ভর একটি উন্মুক্ত ও আন্তঃসংযুক্ত টোলিং প্ল্যাটফর্ম। এতে যানবাহনের বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে আলাদা কোনো ডিভাইস বা অন-বোর্ড ইউনিট কিনতে হচ্ছে না, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সেবাটিকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে।

এটুআই জানিয়েছে, পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ধাপে ধাপে এই সেবা চালু করা হয়েছে এবং প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন ডি-টোল ব্যবহার করছে। ঈদ উপলক্ষে এর ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে টোল পরিশোধ করতে পারছেন।

বর্তমানে ডি-টোলের পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিকাশ, নগদ, ট্যাপ, উপায়, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), এনসিসি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আরও ব্যাংক ও ডিজিটাল ওয়ালেট এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা একটি সমন্বিত জাতীয় টোলিং ব্যবস্থার আওতায় সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডি-টোল প্ল্যাটফর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান টোলিং সিস্টেম’ ধারণা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের টোল ব্যবস্থাকে সমন্বিত, ক্যাশলেস ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি অভিন্ন জাতীয় টোলিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টোল সড়কে একই আরএফআইডি এবং একই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে টোল পরিশোধ করা সম্ভব হবে। পদ্মা সেতুতে সফল বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে যমুনা সেতুসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও এক্সপ্রেসওয়েতে ডি-টোল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য টোল অপারেটরদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় আন্তঃসংযুক্ত টোলিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত