Ajker Patrika

আইনজীবীদের অসদাচরণ: বার কাউন্সিলে ১৮৮টি অভিযোগ, শাস্তি নেই

  • এক দশকে বার কাউন্সিলে ১৮৬ অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি ১০৫টির।
  • সর্বোচ্চ ৬৩টি অভিযোগ আসে ২০১৮ সালে। ২০২৪ সালে ছিল ৬২টি।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অঙ্গভঙ্গি করা নিয়ে সতর্ক করে নোটিশ।
এস এম নূর মোহাম্মদ, ঢাকা  
আইনজীবীদের অসদাচরণ: বার কাউন্সিলে ১৮৮টি অভিযোগ, শাস্তি নেই
ফাইল ছবি

আইনজীবীদের বিরুদ্ধে গত এক দশকে পেশাগত অসদাচরণের ১৮৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে। এর মধ্যে ১০৫টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছেন বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল। তবে কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আইনজীবীদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ এখনো উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনজীবীদের অঙ্গভঙ্গির ঘটনায় সতর্ক করে ইতিমধ্যে নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আগে কী হয়েছে, তা জানি না। তবে বর্তমানে কোনো অভিযোগ এলে ছাড় নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা প্রশিক্ষণ দেব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালে ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পেশাগত অসদাচরণের ১৮৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে এজলাসে বিচারকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বেশ কয়েকটি অভিযোগও রয়েছে। ২০১৬ সালের আগে ২০০৮ সালে একটি এবং ২০১০ সালে একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সর্বোচ্চ ৬৩টি অভিযোগ আসে ২০১৮ সালে। ২০২৪ সালে আসে ৬২টি। ২০১৯ সালে ৪১টি এবং ২০২০ সালে ১৯টি অভিযোগ আসে। এর মধ্যে পাঁচটি ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১০৫টি অভিযোগ। এগুলোর মধ্যে ৪২টি অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। নিষ্পত্তি হওয়া কোনো অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৮৩টি অভিযোগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, অভিযোগ দিলেও অনেক সময় সাক্ষী আসে না। আবার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যার কারণে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে গত ৭ জুন বার কাউন্সিল কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা বারের আইনজীবী মিঠুন সাহাকে। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অপেশাদার আচরণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে আইনজীবী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় এর আগেও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান তাঁকে বারবার ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছিলেন।

বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি বার কাউন্সিলে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আশা করেন, বর্তমান কমিটি প্রশিক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগ নেবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনজীবীদের অঙ্গভঙ্গির ঘটনায় সতর্ক করে ৯ জুন নোটিশ দিয়েছে বার কাউন্সিল। নোটিশে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করা যাচ্ছে, কিছু আইনজীবী বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যেমন টিকটক, ফেসবুক রিলস, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদিতে আইনজীবীর পোশাক পরে বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি, বিনোদনমূলক ভিডিও এবং অন্যান্য অনুপযুক্ত কনটেন্ট, ছবি ইত্যাদি প্রকাশ করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনজীবী পেশার মর্যাদা, শালীনতা ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচার বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

নোটিশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সব আইনজীবীকে আহ্বান জানানো হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দৃষ্টিগোচর হলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১০ মে ঢাকা ক্লাবে ব্যারিস্টার ও করপোরেট আইনজীবীদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮০ হাজার আইনজীবীকে পর্যায়ক্রমে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএনপি সরকারের সময় প্রশিক্ষণ অব্যাহত ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই প্রশিক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। তাই আবারও প্রশিক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত