
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সাতক্ষীরার পর্যটন স্পটগুলো। শেষ হয়েছে ধোয়ামোছাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে সুন্দরবন-সংলগ্ন আকাশনীলা ইকোট্যুরিজম সেন্টার ও দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটনকেন্দ্র। পাশাপাশি মোজাফফর গার্ডেনসহ জেলার অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রও পর্যটক আকর্ষণে প্রস্তুত রয়েছে।
পর্যটন প্রসারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০১৫ সালে সুন্দরবনের আদলে শ্যামনগরের কলবাড়িতে চুনা ও মালঞ্চ নদীর সংযোগস্থলে প্রায় ২৫০ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘আকাশনীলা ইকোট্যুরিজম সেন্টার’। ঈদ উপলক্ষে কেন্দ্রটি নতুন করে রং করা ও সাজানো হয়েছে।
আকাশনীলা ইকোট্যুরিজম সেন্টারের সুপারভাইজার আহাদুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবন দেখার জন্য একটি উঁচু ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে।’
দেবহাটা উপজেলার সীমান্ত নদী ইছামতীর তীরে গড়ে ওঠা রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটনকেন্দ্রও ঈদ উপলক্ষে সাজানো হয়েছে। এখানে কেওড়া, বাইন, গোলপাতা, কাঁকড়া, সুন্দরী, হরকচাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।
রূপসী ম্যানগ্রোভের তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল ইসলাম বলেন, এখানে সেলফি পয়েন্ট, শিশু কর্নার ও নাগরদোলা রয়েছে। এ ছাড়া ইছামতী নদীতে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থাও আছে। নদীর ওপারেই ভারতের বিভিন্ন এলাকা দেখা যায়। পর্যটকদের আকর্ষণে কেব্ল কার ও দোলনা নৌকাও রাখা হয়েছে।
দেবহাটার ইউএনও মিলন সাহা বলেন, রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ একটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বড় পর্যটনকেন্দ্র মোজাফফর গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্টেও নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতি। সাতক্ষীরা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে খড়িবিল এলাকায় ২০০২ সালে প্রায় ৬০ একর জমিতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে প্রায় ১২০ একরে বিস্তৃত। এখানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড, নৌকাবিহারের লেক, পুকুরে ফোয়ারা, আবাসিক হোটেল, থ্রিডি থিয়েটার ও পিকনিক স্পট রয়েছে।
এদিকে ঈদে সুন্দরবন ভ্রমণেও পর্যটকদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকার ট্রলার ও লঞ্চঘাটগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।
সুন্দরবনের ট্যুর অপারেটর ফেরদৌস আলম বলেন, ‘পর্যটনবাহী ট্রলারগুলো সংস্কার করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এবার সারা দেশ থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করছি।’
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার বলেন, ‘সড়কপথে সুন্দরবন—সাতক্ষীরার আকর্ষণ’ প্রতিপাদ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। ঈদকে ঘিরে এবার সাতক্ষীরার পর্যটন জমজমাট হবে।।
ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি সামনে রেখে পর্যটক বরণে ইতিহাস আর প্রকৃতির মিলনে সমৃদ্ধ বাগেরহাটেও চলছে নানা প্রস্তুতি। সুলতানি আমলের অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন ষাট গম্বুজ মসজিদ ও বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন–এই দুই বিশ্ব ঐতিহ্যকেন্দ্রিক এলাকায় ছুটির দিনে পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
মসজিদের কাস্টডিয়ান মো. জায়েদ বলেন, ‘এ বছর সরকারি ছুটি অনেক দিন হওয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে আশা করছি।’
ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে সিংগাইর মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, অযোধ্যা (কোদলা) মঠসহ জেলাজুড়ে ৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এলাকা পর্যটকদের বরণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার ও বিশাল দিঘি এলাকায়ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য সুন্দরবনে সাতটি প্রধান পর্যটনকেন্দ্র করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলারচর, আন্দারমানিক ও আলীবান্দা সাজানো হয়েছে। করমজল বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্রকে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষিত রেখে পর্যটকদের ভ্রমণ করার পরামর্শ দেন তিনি।

হাওরে পানিতে তলিয়ে যাওয়া বোরোখেত থেকে যে ধান সংগ্রহ করেছেন, তা ঠিকমতো শুকাতে না পারায় দাম পাচ্ছেন না প্রান্তিক চাষিরা। এমনকি সরকারি গুদামের আর্দ্রতার শর্ত আর খোলাবাজারে ধসের মুখে পড়ে পানির দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
২ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম খসরু। ১৯৯৬ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর মা আয়েশা সিদ্দিকা। নিজের হাতেই মলমূত্র পরিষ্কার থেকে মায়ের সব সেবা করতেন তিনি। দুই দশকের বেশি সময় পর ২০১৭ সালে মারা যান তাঁর মা।
৩ ঘণ্টা আগে
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অন্তত ৫০ হাজার জনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের গোয়েন্দারা তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করছেন। এসব নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ ও প্রশ্ন ওঠায় বাহিনীতে অভ্যন্তরীণ এই তদন্ত চলছে।
৩ ঘণ্টা আগে
রফিকুল ইসলাম বলেন, পদকের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীতদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলমান থাকায় আপাতত পদক প্রদান স্থগিত রাখা হয়েছে। যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সুবিধাজনক সময়ে তাঁদের পদক দেওয়া হবে...
৫ ঘণ্টা আগে