
বাজারে এবার ইলিশের দাম অত্যন্ত চড়া। সরবরাহের ঘাটতিসহ নানা কারণে বাঙালির প্রিয় এ মাছের দাম এত বেড়েছে যে সচ্ছল মধ্যবিত্তদেরও নাগালের বাইরে চলে গেছে তা। এমন পরিস্থিতিতে ইলিশ মাছের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সরকারের ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। তবে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) দাম নির্ধারণের বিষয়টি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।
ইলিশ মাছের বাজারমূল্য-সংক্রান্ত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে দাম বেঁধে দেওয়ার সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। এটি বাস্তবায়নের জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে অনুরোধ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, দাদন ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেওয়া উচ্চ মূল্যকে নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকার কর্তৃক ইলিশের আকার অনুযায়ী সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের পরামর্শ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের সরবরাহব্যবস্থা আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ হবে।
একই সঙ্গে তা জেলে ও ভোক্তা উভয়ের জন্য সহায়ক হবে।
ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, ইলিশ মাছ শিকারে প্রতি কেজিতে ব্যয় ছোট নৌকায় ৪৮৪ টাকা, মাঝারি নৌকায় ৫০৪ টাকা এবং বড় নৌকায় ৪৯৩ টাকা। এর সঙ্গে উৎপাদকের মুনাফা, সংরক্ষণ ব্যয়, আড়তের কমিশন, ফড়িয়া ও পাইকারদের মুনাফা ইত্যাদি মিলিয়ে প্রতি কেজির খরচ দাঁড়ায় ৬৭৭ টাকা থেকে ৭০৬ টাকা পর্যন্ত। আর খুচরা ব্যবসায়ীর মুনাফা ১৩৫ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ১৪১ টাকা ১২ পয়সা ধরা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ প্রতি কেজি মাছের খরচ পড়ছে ৮১৩ টাকা থেকে ৮৪৭ টাকা পর্যন্ত।
মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে ইলিশের সরবরাহ ক্রমাগত বাড়লেও ২০২৩-২৪ সালে কমে গেছে।
ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে দেখা গেছে ২০১৯-২০ সালে ইলিশ উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার টন, ২০২০-২১ সালে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ টন, ২০২১-২২ সালে ৫ দশমিক ৬৭ লাখ টন, ২০২২-২৩ সালে ৫ দশমিক ৭১ লাখ টন এবং ২০২৩-২৪ সালে ৫ দশমিক ২৯ লাখ টন।
কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য রোধে জেলেদের সমবায় সমিতি গঠনের জন্য উৎসাহিত করা যেতে পারে। সরবরাহের ধাপ কমানোর জন্য সরকার একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে। উৎপাদন মৌসুমে দেশের প্রধান শহরগুলোয় সরকারি উদ্যোগে বিপণন কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। মাছের অপচয় রোধ এবং গুণগত মান বজায় রাখতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং পরিবহনে আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ, আইস প্ল্যান্ট এবং রেফ্রিজারেটেড ভ্যান নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের গবেষণার উদ্দেশ্যে ছিল ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কারণ পর্যালোচনা, আহরণ থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থা, আহরণের ব্যয়, সংরক্ষণপদ্ধতি, সরকারের নীতি সহায়তা পর্যালোচনা এবং রপ্তানির সম্ভাবনা ও মূল্য পর্যালোচনা করা।
দাম নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ইলিশ মাছের দাম নির্ধারণ করা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কারিগরি সহায়তা নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইচ্ছা করলে তা করতে পারবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে একটি খুদে বার্তা পাঠানো হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বার্তার জবাব পাওয়া যায়নি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মৎস্য অনুবিভাগ) সৈয়দা নওয়ারা জাহান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ট্যারিফ কমিশনের চিঠিটি এখনো আমরা পাইনি। চিঠি পাওয়া গেলে হয়তো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান দাম নির্ধারণের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দাদন চক্র ভেঙে দিতে হবে। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সহজে পুঁজি পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, রুই-কাতলা চাষে খাবার খরচ, পুকুর খরচ, চুরি যাওয়া ইত্যাদি ধরেও সর্বোচ্চ প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি করেও চাষি লাভবান হতে পারেন। কিন্তু ইলিশ মাছের ক্ষেত্রে খরচ মূলত শুধু আহরণ ও বিপণনের। সে হিসাবে ইলিশের দাম কেমন হওয়া উচিত, তা সংশ্লিষ্টরাই ভালো জানেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী টোল-ফ্রি ন্যাশনাল হেল্পলাইন-১০৯ চালু রয়েছে। এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
১৮ মিনিট আগে
মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করা সংক্রান্ত শ্রম আইনের ৪৬(১) ও ৪৬(২) ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) ১৯৭ (১) ও (১এ) বিধি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
১ ঘণ্টা আগে
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালরের কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
১ ঘণ্টা আগে
কর্ণফুলী চালু হওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে দৈনিক প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় ছিল। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং সেতু কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টার ফলে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় হ্রাস করে দৈনিক ২২-২৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে