Ajker Patrika

গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে সহায়তায় আলাদা অধিদপ্তর: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ০৯
গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে সহায়তায় আলাদা অধিদপ্তর: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি বলেন, এসব পরিবারের জন্য নতুন করে একটি অধিদপ্তর করা হবে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আজম খান এসব কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আহমেদ আজম খান বলেন, ‘নির্যাতিতদের পরিবারগুলোর জন্য সরকার কিছু করতে চায়। এ-সংক্রান্ত নতুন করে একটি অধিদপ্তর করা হবে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে যারা গ্যাজেটভুক্ত হওয়ার কথা...অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে সেটা ক্লোজ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা বঞ্চিতদের মূল্যায়ন করতে সেটা আবার ওপেন করেছি। মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বিএনপির অনেক লোককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি যাদের বঞ্চিত করেছে, আমরা তাদের মূল্যায়ন করব।’

বর্তমান গ্যাস, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ বিরোধী দল এই ৫ মাসেই বলছেন আমরা ব্যর্থ। অথচ ১৮ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করা তো ১৮ মাসেও সম্ভব নয়। আজকের বিদুৎ, গ্যাস ও অর্থনৈতিক সংকট এগুলো কি আমাদের তৈরি? এগুলো ফ্যাসিবাদী সরকারের তৈরি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর যে, এ দেশকে বিনির্মাণ করবেন। কিন্তু যারা নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে তাদের বলব, আপনারা আওয়ামী রেজিমে যাবেন না।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশকে বিনির্মানে নেতৃত্বে আসা একজন ব্যক্তির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল, তবে তিনিও যেমন নিন্দিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, তাঁর কন্যাও তেমন নিন্দিত, ফ্যাসিবাদী হয়ে বিদায় নিয়েছেন। অপরদিকে আরেকটি পরিবার জিয়াউর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আরাম করে জীবন উপভোগ করেননি, লড়াই করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি ভগ্ন বাহিনীকে নতুন করে গঠন করেছেন। যার প্রতি মানুষের আশা থাকবার কথা ছিল না, তার জীবনের কর্ম দিয়ে মানুষের মনে আশা জাগিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া জীবিতকালে যেমন ইতিহাস ছিলেন, মৃত্যুর পরও ইতিহাস হয়ে আছেন। দেড় কোটির বেশি মানুষ তাঁর জানাযায় উপস্থিত হয়েছেন। ১০ কোটির বেশি মানুষ টিভিতে জানাজা দেখেছেন। আর ১৫ কোটি মানুষ ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলেছেন। এমন জনপ্রিয়তা পৃথিবীর ইতিহাসে একটা বিরল ঘটনা। যতবার নির্বাচনে এসেছেন, তিনি ততবারই মানুষের ভালোবাসা পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।’

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একটা অসমাপ্ত ইতিহাস...আমরা যারা উনার সাথে কাজ করেছি, তারা সবাই উনার কাছে মায়ের মতো ভালোবাসা পেয়েছি। আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে উনার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তখন উনি বলেছিলেন, “আলাল তোমার মা মারা গেছে তুমি জেলে থাকতে, আমার মাও মারা গেছে আমি জেলে থাকতে।” এই কথা শুনে আমার মন শান্ত হয়ে গেছিল। শোক ভুলে গিয়েছিলাম।’

বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা ও সেলিনা সুলতানা নিশিতা; বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও কৃষক দলের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত