Ajker Patrika

রেলওয়ের জমি লিজের ৭৭ কোটি টাকা বকেয়া

তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা 
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ১২: ৪৩
রেলওয়ের জমি লিজের ৭৭ কোটি টাকা বকেয়া
ফাইল ছবি

রেলের জমি লিজ বাবদ প্রায় ৭৭ কোটি টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়ে গেছে। একাধিক নোটিশ ও সতর্কবার্তা পাঠানো সত্ত্বেও অধিকাংশ লিজগ্রহীতা বকেয়া অর্থ পরিশোধে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে রেলের রাজস্ব বাড়াতে নেওয়া ভূমি লিজ ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের জমির লিজ বাবদ ৭৩ কোটি ৮৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা আদায় হয়েছে। তবে বকেয়া রয়ে গেছে আরও ৭৭ কোটি ৬৬ লাখ ৬৯ হাজার ১০৭ টাকা। অন্যদিকে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ৩৮ কোটি ৭২ লাখ ৪৪ হাজার ৩৮০ টাকা এবং পৌরকর বাবদ রেলের বড় অঙ্কের দেনা রয়েছে।

রেলের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট জমির পরিমাণ ৬০ হাজার ২১ একর। এর মধ্যে বৈধভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে ১৪,৪১১ একর। রেল পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ৩০ হাজার ২৮৬ একর, অবৈধ দখলে আছে ৬ হাজার ৭৫৪ এবং অব্যবহৃত রয়েছে ৮ হাজার ৫৫৪ একর জমি।

বেহাত ও অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধারে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। বলা হয়, সার্টিফিকেট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চট্টগ্রাম, খুলনা, নীলফামারী ও বগুড়ার জেলা প্রশাসকদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ লিজ ও লাইসেন্স ফি বকেয়া পড়ে থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে, ভূসম্পত্তি বিভাগের তদারকি দুর্বল।

বর্তমানে রেলের ভূমি বিভাগে গড়ে মাত্র ৩৫-৪০ শতাংশ জনবল নিয়ে কাজ চলছে। জনবল সংকটের কারণে ভূমি ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। ভূমি উন্নয়ন কর দাবির সময় জেলা প্রশাসকদের পাঠানো চিঠিতে মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও জমির শ্রেণি উল্লেখ না থাকায় কর নির্ধারণে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মকর্তার অবস্থান ও নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

সভায় রেলের ভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য নিয়মিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রতি মাসে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন রেল মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। দখলমুক্ত করা জমি প্রকৌশল বিভাগের সহায়তায় দখলে রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় রেলের ভূমির বকেয়া থাকা লিজ ও লাইসেন্স ফি দ্রুত আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। উপযোগী হলেও যেসব জমি এখনো লিজ দেওয়া হয়নি, তা নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত লিজ দিতে হবে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের গত ৮ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী লিজ ও লাইসেন্স ফি আদায় নিশ্চিত করতে হবে।

রেলওয়ের হিসাব বিভাগ থেকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে এবং কোনো অসংগতি ধরা পড়লে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূসম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২০ হালনাগাদ করার কাজ চলছে। এ জন্য অনেক সভা হয়েছে, যেখানে ইজারা বাড়ানো ও আয় বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশোধিত নীতিমালা এখনো অনুমোদিত হয়নি।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, রেলের জমি লিজের বকেয়া আদায় করতে না পারা রেলওয়ের দীর্ঘদিনের দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থারই ফল। লিজের অর্থ নিয়মমতো আদায়ে নেই কার্যকর তদারকি। আবার বিপুল জমি বেদখলে। এসব কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, রেলের উন্নয়ন হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। রেলের জমি ব্যবস্থাপনা এখনো পুরোনো কাগজনির্ভর ও বিশৃঙ্খল। জমির সঠিক নথি, হালনাগাদ তথ্য ও ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক ডিজিটাল ডেটাবেইস গড়া জরুরি। বেদখল জমি উদ্ধার ও স্বচ্ছ লিজ ব্যবস্থাপনা চালু করতে পারলে রেলওয়ে রাজস্ব দিয়ে আত্মনির্ভর হতে পারবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, ‘বৈধভাবে লিজ দেওয়া জমির টাকা তোলার ব্যবস্থা নিচ্ছি। লিজের বকেয়া কিছু উঠেছে, কিছু ওঠেনি। আইনি ব্যবস্থা হিসেবে বকেয়া শোধ না করলে একপর্যায়ে উচ্ছেদ করা হয়। আর ভূসম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালার খসড়া রেল মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন এনায়েত হোসেন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শপথ নিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাঁর খাসকামরায় তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

শপথ অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের ২২ জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ১২ নভেম্বর ২১ জনের শপথ অনুষ্ঠিত হলেও অসুস্থতার কারণে বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেন শপথ নিতে পারেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ইতালির লিওনার্দো এসপিএ থেকে জঙ্গি বিমান কিনছে বাংলাদেশ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২: ৫৯
ইউরোফাইটার টাইফুন। ছবি: এএফপি
ইউরোফাইটার টাইফুন। ছবি: এএফপি

ইতালি থেকে জঙ্গি বিমান ইউরোফাইটার টাইফুন কিনছে বাংলাদেশ। এ জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা লিওনার্দো এসপিএর সঙ্গে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা আগ্রহপত্র সই হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে এই সম্মতিপত্র সই হয় বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে।

ইউরোফাইটার টাইফুন (মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট—এমআরসিএ) কিনতে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। এরই অংশ হিসেবে আজ লিওনার্দো এসপিএর সঙ্গে আগ্রহপত্র সই করল বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এলওআই সই অনুষ্ঠানের সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল আহসানসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এলওআই সই অনুষ্ঠানের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন। ছবি: আইএসপিআর
বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এলওআই সই অনুষ্ঠানের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন। ছবি: আইএসপিআর

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফেসবুক পেজে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সম্মুখসারিতে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অত্যাধুনিক এমআরসিএর অংশ হিসেবে এই এলওআইয়ের আওতায় লিওনার্দো ইউরোফাইটার টাইফুন জঙ্গি বিমান সরবরাহ করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

পূর্বাঞ্চলে ট্রেনের ভাড়া বাড়ল সর্বোচ্চ ২১৪ টাকা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০: ৫৬
কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। ছবি: সংগৃহিত
কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের পথে ট্রেনের ভাড়া বাড়িয়েছে সরকার। পূর্বাঞ্চলের ১১টি রেলসেতুতে অভিন্ন পন্টেজ চার্জ আরোপ করার কারণে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়ার বোঝা বহন করতে হবে। বর্ধিত ভাড়া ২০ ডিসেম্বর কার্যকর হবে। আজ মঙ্গলবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন বিভিন্ন ব্রিজে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে অভিন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পন্টেজ চার্জ আরোপ করায় বিভিন্ন রুটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। সাধারণত রেললাইনের ওপরে ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের কোনো সেতু বা স্থাপনা থাকলে সেটির জন্য ‘পন্টেজ চার্জ’ আদায় করা হয়। এটি যাত্রীদের ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়।

এর মধ্যে কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে এসি বার্থের ভাড়া সর্বোচ্চ বেড়েছে। এই রুটের ভাড়া ২ হাজার ৪৩০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬৪৪ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২১৪ টাকা ভাড়া বেড়েছে। আর সর্বনিম্ন ভাড়া বেড়েছে ঢাকা–সিলেট রুটের শোভন চেয়ারের। এই রুটের শোভন সিটের ভাড়া ছিল ৩৭৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪১০ টাকা। অর্থাৎ ৩৫ টাকা বেড়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ভাড়ার বিষয়ে বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা (বিরতিযুক্ত আন্তনগর ট্রেন) রুটে আগে দূরত্ব ছিল ৩৪৬ কিলোমিটার, নতুন দূরত্ব ৩৮১ কিলোমিটার। এই রুটের ট্রেনে শোভন চেয়ারে আগে ভাড়া ছিল ৪০৫ টাকা, বেড়ে হয়েছে ৪৫০ টাকা। প্রথম শ্রেণির সিটের ভাড়া ৬২১ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮৫ টাকা, এসি চেয়ার ৭৭৭ থেকে বেড়ে ৮৫৭, এসি সিট ৯৩২ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩০ এবং এসি বার্থ ১ হাজার ৪৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৯১ টাকা করা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা (নন-স্টপ ট্রেন) রুটে আগে দূরত্ব ছিল ৩৪৬ কিলোমিটার, নতুন দূরত্ব ৩৮১ কিলোমিটার। এই রুটের ট্রেনে শোভন চেয়ারে আগে ভাড়া ছিল ৪৫০ টাকা, বেড়ে হয়েছে ৪৯৫ টাকা। এসি চেয়ার ৮৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪৩ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৩৩ টাকা হয়েছে।

কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন কক্সবাজার স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। ছবি: সংগৃহিত
কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন কক্সবাজার স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। ছবি: সংগৃহিত

কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার (নন-স্টপ ট্রেন) রুটে আগে দূরত্ব ছিল ৫৩৫ কিলোমিটার, নতুন দূরত্ব ৫৮৩ কিলোমিটার। এই রুটের ট্রেনে শোভন চেয়ারে আগে ভাড়া ছিল ৬৯৫ টাকা, বেড়ে হয়েছে ৭৫৪ টাকা। এসি চেয়ার ১ হাজার ৩২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৪৩ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ৫৯০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭২৮ এবং এসি বার্থ ২ হাজার ৪৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬৪৪ টাকা করা হয়েছে।

ঢাকা-সিলেট-ঢাকা (বিরতিযুক্ত আন্তনগর ট্রেন) রুটে আগে দূরত্ব ছিল ৩১৯ কিলোমিটার, নতুন দূরত্ব ৩৫০ কিলোমিটার। এই রুটের ট্রেনে শোভন চেয়ারে আগে ভাড়া ছিল ৩৭৫ টাকা, বেড়ে হয়েছে ৪১০ টাকা। প্রথম শ্রেণির সিটের ভাড়া ৫৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬৩৩ টাকা, এসি চেয়ার ৭১৯ থেকে বেড়ে ৭৮৮, এসি সিট ৮৬৩ থেকে বেড়ে ৯৪৩ এবং এসি বার্থ ১ হাজার ৩৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৬৫ টাকা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে পন্টেজ চার্জ আরোপের ফলে বর্ধিত ভাড়া এর আগেই কার্যকর করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলে পন্টেজ চার্জ আরোপের মাধ্যমে ভাড়া সমন্বয় করা হলে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যমান ভাড়ায় সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

হজযাত্রীদের প্লেনের টিকিটে ৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

আগামী বছরের হজযাত্রীদের আর বিমান টিকিট কেনার সময় অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক গুনতে হবে না। হজের উদ্দেশে সৌদি আরবে গমনকারী যাত্রীদের টিকিটে আরোপিত আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে সংস্থাটি জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বর্তমানে সৌদি আরবগামী প্রতিটি বিমান টিকিটে পাঁচ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। হজযাত্রীদের সহায়তার অংশ হিসেবে এ খরচ তুলে নেওয়া হয়েছে। হজযাত্রীদের টিকিটে এই করছাড় প্রথম নয়, এর আগে একাধিকবার দিয়েছে এনবিআর। করোনাভাইরাস মহামারি ও পরবর্তী সময়ে বিমান ভাড়ার ঊর্ধ্বগতির সময়ও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছিল।

এনবিআর জানায়, সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রির সময়ই ট্রাভেল ট্যাক্স ও আবগারি শুল্ক সংগ্রহ করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তবে ধর্মীয় যাত্রীদের জন্য এই শুল্ক ছাড় দেওয়া সরকারের পূর্ববর্তী নীতিরই ধারাবাহিকতা।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, হজযাত্রীদের যাত্রা যেন ব্যয়বহুল না হয়, সে বিবেচনায় শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি রাজস্ব প্রবাহে খুব বড় প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু লাখো মানুষের ধর্মীয় পালন সহজ হবে।

তিনি বলেন, বিমান সংস্থাগুলোকেও নির্দেশ দেওয়া হবে যেন শুল্ক প্রত্যাহারের সুবিধাটি পরিষ্কারভাবে টিকিটের ইনভয়েসে প্রতিফলিত হয়। অনেক সময় এজেন্সিগুলো যাত্রীদের ঠিকভাবে তথ্য দেয় না।

তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করতে পারবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, বিমান ভাড়া এখনো তুলনামূলক বেশি। তার ওপর আবগারি শুল্ক যুক্ত থাকলে হজযাত্রার খরচ আরও বাড়ত। সরকার ছাড় দেওয়ায় হজযাত্রীদের ব্যয় কিছুটা হলেও কমবে, যা অনেক পরিবারকে হজ পালনের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের করনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থির করা দরকার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত