Ajker Patrika

হাদি হত্যায় অভিযুক্তের ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া গেছে: মন্ত্রণালয়

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। ফাইল ছবি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার এক অভিযুক্তের ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া গেছে। তবে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল সিমের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে বিটিআরসিকে তাগিদ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো।

আজ বৃহস্পতিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে মোবাইল ফোনের শুল্ক ও কর কমিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে এনইআইআর বাস্তবায়ন এবং মোবাইল সিমের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, অভিযুক্ত খুনির ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে এনইআইআর বাস্তবায়ন ও জনপ্রতি সিমসংখ্যা কমানোর বিষয়ে জোরালো তাগিদ রয়েছে।’

১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে রাজধানীর বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে মাথায় গুলি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। ১৪ ডিসেম্বর রাতে ফয়সালকে আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের যুগ্ম সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

এখন পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মামলার তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। এঁদের মধ্যে প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ (দাউদ) বর্তমানে পলাতক। পুলিশ দাবি করেছিল তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক যুবক নিজেকে ফয়সাল দাবি করে বলেছেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে আছেন এবং এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন।

সরকার মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ৭ জানুয়ারির মধ্যে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত