Ajker Patrika

হাদি হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা বাপ্পির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৬: ২৯
হাদি হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা বাপ্পির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা
তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা করেছে সিআইডি।

আজ শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া শাখা।

বাপ্পি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অন্যতম আসামিও। মামলার অভিযোগপত্রে পুলিশ বলেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির পরিকল্পনাতেই হাদিকে হত্যা করা হয়। তবে তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

সিআইডির করা মামলায় বাপ্পি ছাড়াও নাম না জানা আরও ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পল্লবী থানায় বৃহস্পতিবার মামলাটি করা হয়েছে। পল্লবী এলাকায় পরিবহন, ফুটপাতের অস্থায়ী বাজার, গার্মেন্টসের ঝুট কাপড়, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে বাপ্পির আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সম্পদ অর্জনের নানা তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাপ্পির ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের হিসাবের মিল পাওয়া যায়নি। প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৬ টাকার উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সিআইডি আরও বলছে, পল্লবী থানার উত্তর সেনপাড়া এলাকায় জমি কেনার সময় বাপ্পি দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করেছেন। দলিলে জমির মূল্য ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ৪৮ লাখ টাকার উৎস গোপন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সব মিলিয়ে অনুসন্ধানে প্রায় ২ কোটি ৫১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫১ টাকা অবৈধভাবে অর্জন, স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাপ্পির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হওয়া অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকারও বেশি। বর্তমানে এসব হিসাবের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭১ টাকা আদালতের আদেশে জব্দ রয়েছে।

ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা-পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত