
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, এটি সর্বজনীন আন্দোলন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কারও একক পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আপনারা জুলাইকে বিক্রি করবেন না। জুলাই যে সর্বজনীন একটি আন্দোলন ছিল, সেটিকে সেভাবেই রাখতে হবে।’
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। তাই কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের এ আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করার সুযোগ নেই। তিনি জুলাইয়ের সব শহীদের মর্যাদা এবং বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতরা জাতির গর্ব। তাঁদের আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশ একটি নতুন বাস্তবতার দিকে এগিয়েছে। রাষ্ট্র তাঁদের কাছে চিরঋণী থাকবে।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, আহত, অঙ্গহানি হওয়া, দৃষ্টিশক্তি হারানো, চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়া ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা মূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের পুনর্বাসনের জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইশরাক হোসেন জানান, আহত জুলাই যোদ্ধাদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে পুনর্বাসন ও ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। দেশের সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অনেক জুলাই যোদ্ধাকে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন, রাশিয়া ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অনেকের বিদেশে চিকিৎসা এখনো চলছে।

শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানসহ বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ওই অর্থ বণ্টন করা হয়েছে।
নতুন অর্থবছরে শহীদ এবং গুরুতর আহত ও স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিনা মূল্যে আবাসনের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবাসন নির্মাণ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তা বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধাদের শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল করে রাখতে চায় না সরকার। তাঁদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
যাত্রাবাড়ীতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের শহীদদের পরিবারের দাবির প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ী ছিল আন্দোলনের অন্যতম হটস্পট। এখানে অনেক মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং অনেকে শহীদ হয়েছেন। তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের যে দাবি উঠেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী এটি করার জন্য অতি শিগগিরই অনুমোদন দেবেন।’
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ‘৭১-এর ইতিহাস যেন আমরা বিকৃত না করি, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসও যেন বিকৃত না করি। এই গণ-অভ্যুত্থানের কোনো একক দাবিদার হতে পারে না।’
ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে, সে জন্য সবাইকে শান্তি ও ঐক্যের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর হাসান কামাল তাপসসহ শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
৩ মিনিট আগে
‘মব’ করে হত্যার ঘটনা থামছেই না। চলতি সেপ্টেম্বরেও খুলনায় এক শিক্ষার্থী এবং কক্সবাজারে এক যুবক মবের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মবের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ১৫৪ জন।
১০ ঘণ্টা আগে
সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা আনতে ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা সোজা ও প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীদের যাতায়াতের জন্য চলমান ১৪টি পিংক বাসের সঙ্গে আরও ১০০টি বাস দ্রুত চালুর ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি...
১৫ ঘণ্টা আগে
সংবিধান সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেগুলোতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ কমিটি আগামী ডিসেম্বরেই সংসদে তাদের প্রতিবেদন
১৫ ঘণ্টা আগে