Ajker Patrika

আয়নাঘরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আয়নাঘরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) ও জেআইসি সেলের সঙ্গে যেসব কর্মকর্তা সম্পৃক্ত ছিলেন তাঁদের অনেককেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাঁদের বিচার চলছে। ভবিষ্যতেও যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাঁদেরও এই অমানবিক কাজের জন্য বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

আজ শনিবার ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘর হিসেবে পরিচিত গোপন বন্দীশালা পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই জেআইসিতে ব্রিগেডিয়ার আজমীসহ অন্যান্য বন্দীদের দিনের পর দিন অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে। এক-এগারোর সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখানকার কোনো একটি কামরায় রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ জানাব, বাংলাদেশে যাতে আর এইরকম কোনো আয়নাঘর ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত না হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল। যেখানে কিছু সংখ্যক অতি উৎসাহী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সরকারের কিছু অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই আয়নাঘর নামীয় টর্চার সেলগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যাঁরা মতপথের ভিন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন তাদের ধরে এনে গুম করা হয়েছে। সেই গুমের অনেক ভিকটিমদের এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অনেক ভিকটিমদের সেখানে মাসের পর মাস বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে। তাঁদের ওপরে অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হয়েছে।

আয়নাঘর। ছবি: ফাইল ছবি
আয়নাঘর। ছবি: ফাইল ছবি

আলামত নষ্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর নতুন করে রং করে দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় সিমেন্ট দিয়ে এবড়োথেবড়ো করে ওয়ালগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কারণ অনেক বন্দীরা সেখানে লিখে রাখত। যেমন হুম্মাম কাদের চৌধুরী এই জেআইসি সেলে কত দিন বন্দী ছিলেন তাঁর নিজের হাতের একটা লেখা ছিল। হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নিজ হাতে লেখা ‘এইচকিউ-থ্রি’ প্রতীকী চিহ্নটি সাদা রং করে প্লাস্টার করে দেওয়া হলেও তা এখনো একটি কক্ষে বিদ্যমান। জেআইসি ও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে পাওয়া এসব আলামত সিলগালা করে প্রসিকিউশনের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম জানান, জেআইসিতে ২৬টি এবং টিএফআইতে ২৯টি কক্ষ ছিল। এর বাইরে র‍্যাব-২ এর দপ্তরে আরও একটি আয়নাঘর ছিল। যেখানে নির্যাতনের জন্য ইলেকট্রিক চেয়ার বসানো ছিল। জেআইসি মূলত মানুষকে ধরে এনে অত্যাচার ও নির্যাতন চালানোর একটি সেল ছিল, যা পরে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এই বন্দিশালার কক্ষগুলো ছিল সাউন্ডপ্রুফ এবং অন্ধকার প্রকোষ্ঠ। সেখানে ভারী এক্সজস্ট ফ্যান লাগানো ছিল, যাতে বন্দীদের কান্নার শব্দ বাইরে যেতে না পারে।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান ও দুই সদস্য, প্রসিকিউশন টিম, আসামি পক্ষের আইনজীবী ও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী আয়নাঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন ডিজিএফআইয়ের প্রধান এবং ল’রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও সেক্রেটারি। আয়নাঘর হিসেবে পরিচিত র‍্যাবের টিএফআই সেলে গত ১ আগস্ট গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ ও সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়া হলেও এখানে তা দেওয়া হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত