আমাদের দেশে লাল মাটির পাহাড় নেই। ফলে ‘লাল পাহাড়ি দ্যাশে’ও যাওয়া যায় না। কিন্তু আমাদের নদের নাম আছে নর্ত, ইউনিয়নের নাম ভোগনগর আর গ্রামের নাম আছে সিংড়া। না, শিঙাড়া নয়, সিংড়া। এই নাম শুনে আমার এক বন্ধু বলেছিল, নাটোর থেকে সিংড়া দিনাজপুরে গেল কীভাবে? হ্যাঁ, সিংড়া নামে আমাদের দেশে একটি বন আছে, আর তার অবস্থান দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায়। নাটোরের সিংড়া উপজেলায় নয়।
বীরগঞ্জ একটি ছোট শহর। সেখান থেকে আরও ১৫ কিলোমিটার উত্তরে গেলে ভোগনগর ইউনিয়ন। সেখানে বড় রাস্তার ওপর আছে বটতলা নামের ছোট্ট একটি বাজার। সেই বাজার থেকে নাক বরাবর দক্ষিণে কিলোমিটার দুয়েক সরু রাস্তা ধরে এগোলে চোখের সীমানায় ধরা পড়বে সবুজ রেখা। ধীরে ধীরে তার রূপ স্পষ্ট হতে থাকে। চোখের সামনে ধরা দেয় শালগাছ। নিস্তব্ধ চরাচরে এখানে শুধুই পাখির গান। সেই অর্কেস্ট্রায় চড়া সুরে গাইতে থাকবে বউ কথা কও কিংবা কোকিল। ঝিঁঝিপোকা তাল মিলিয়ে যাবে ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর পেছনে সার বেঁধে বসা বাঘা বাঘা যন্ত্রীর মতো।
আমাদের দেশে চিড়িয়াখানা ছাড়া বনে সিংহ না থাকলেও প্রতিটি গেরস্ত বাড়িতে থাকে সিংহ-দরজা। সিংড়া বনেও সিংহ-দরজা পেরোতে হয়। তারপর ছোট্ট একটা গেস্টহাউস। সেটি ছাড়িয়ে গেলেই চোখের সামনে ধরা দেবে ছোট্ট নর্ত—একেবারে ছিপছিপে। দেখেই বোঝা যায়, নর্ত বর্ষার অপেক্ষায় বিরহী প্রহর কাটাচ্ছে। এই তো আর কটা দিন। তারপর শেষ হবে অপেক্ষার পালা। তারই জন্য প্রাণপণে সে ধরে রেখেছে একেবারে শেষ জলবিন্দু—সবুজ করে নিজের আঁচল। নর্ত পার হলেই সিংড়া বন—পাতাঝরা শালের রাজ্য।
আমরা দলেবলে ঢুকে যাই শুকনো পাতা পায়ে মাড়িয়ে। মর্মর শব্দ হয় ধুলো ওড়া সরু বনপথে। দালানের জঙ্গল দেখা আমাদের নাগরিক চোখ জুড়ায় সবুজ কচি পাতা দেখে আর কান জুড়ায় কলতানে। ধীরে ধীরে শালবন ঘন হতে থাকে। এযাত্রায় তাদের সঙ্গ দেয় জারুল, তরুল, শিরীষ, শিমুল, মিনজিরি, সেগুন, গামারি, আকাশমণি, ঘোড়ানিম, সোনালু, গোলাপজাম, হরীতকী, বহেড়া, আমলকীসহ নাম না জানা বহুসংখ্যক মহিরুহ। মহিরুহই বটে। তবে বনে গাছ থাকাটা সম্মানজনক নয়। বনের রাজা যেমন সিংহ বা বেঙ্গল টাইগার, তেমনি বনের সম্রাট মহিরুহ।
সরু পথে আমাদের পাশ কাটিয়ে, শালপাতার শুকনো বস্তা মাথায় নিয়ে যাচ্ছেন সাঁওতাল নারী-পুরুষেরা। কেউ কেউ বাইসাইকেলেও নিয়েছেন একাধিক শুকনো পাতার বস্তা। কথা বলে জানা গেল, শালের শুকনো পাতা তাঁদের রান্নার প্রধান জ্বালানি।

সিংড়া খুব বড় বন নয়। আয়তন ৩৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান ৩০৫ দশমিক ৬৯ হেক্টর। এই ছোট্ট বনের ভেতর দিয়ে সরু সরু পায়ে চলা পথ চলে গেছে দূরদূরান্তের গাঁয়ে। মানুষ চলাফেরাও করে। তবে আমরা মূল রাস্তা ধরে এগোতে এগোতে প্রায় বনের মাঝামাঝি চলে গেলাম রিকশা ভ্যানে করে। বেশ অনেকখানি পথ পেরোনোর পর পথ আরও সরু হয়ে গেল। এখানে শালগাছের গোড়া ঢেকে রেখেছে বেতের ঝোপ। বসন্তের এই পেলব সময়ে বেতের সরু পাতারা গাঢ় সবুজ রং ধরেছে। তাদের গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে আমরা এগিয়ে চলি। ডানে-বাঁয়ে দুটি রাস্তা এখানে ভাগ হয়ে গেছে। আমরা বাঁয়ের রাস্তা ধরি। এই রাস্তা বন থেকে বেরিয়ে যে গ্রামে ঢুকেছে, তার নাম সিংড়া। সাঁওতাল গ্রাম। এই গ্রামের নামে বনের নামও সিংড়া। বনের প্রান্তে বলেই বুঝি, গ্রামটিও বড়ই উদাস করা নৈঃশব্দ্যে ডুবে আছে। মানুষ ঘুরছে-ফিরছে, কিন্তু শব্দ নেই। এখানেও ডেকে চলেছে কোকিল। গ্রাম ছেড়ে আবারও ঢুকে পড়ি বনে, একটু ঘুরপথে।
শাল ছাড়াও সিংড়া বনের একটা আকর্ষণ আছে। সেটা হলো গিলা লতা। অজগর আকৃতির গিলা লতা আর কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ে না। সংখ্যায় তারা একটি বা দুটিই আছে এখন। মাটি থেকে গাছ বেয়ে বেয়ে উঠে গেছে আকাশের দিকে, ছড়িয়ে গেছে এ-গাছ থেকে সে-গাছের মগডালে। তবে দামাল ছেলের দল সেই লতা বেয়ে ওপরে উঠে দোল খায়।
প্রেক্ষাপটে শাল, জারুল, তরুল, শিরীষ ও গিলা লতা আর বেতের সবুজ পাতা রেখে ছবি তোলা হলো বিস্তর। নাগরিক হতে গিয়ে জখম হয়ে যাওয়া বুকের কোণে এগুলোই জমে থাকবে স্মৃতি হিসেবে। কখনো কোনো দিন, কোনো একান্ত নির্জনতায় পুরোনো ক্ষতে হাত বোলানোর মতো করে ডিভাইসের পর্দায় ভেসে উঠবে এগুলো। মনে পড়বে, এক বসন্ত দিনে শালবৃক্ষ আমাদের খানিক শান্তি দিয়েছিল।
ফিরতে হয় বলে আমরা ফিরি—সরু পথ ধরে, বৃক্ষরাজি পেছনে রেখে, নর্ত নদের ওপর হাস্যকর সিঁড়িযুক্ত সেতু পার হয়ে। তবে সিংড়া বনের এই নৈঃশব্দ্য কোথায় যেন আমাদের বিরক্ত করে!

নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। মেঘনা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠেছিল এই দ্বীপ। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপ খ্রিষ্টপূর্ব ১৫ অব্দের দিকে প্রথম মানুষের নজরে আসে। সুদীর্ঘ সময় ধরে প্রকৃতির ভাঙাগড়ার খেলায়...
৩ ঘণ্টা আগে
সৌন্দর্য কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে বাঁধা নেই। কখনো এটি ধরা দেয় পাহাড়ের বাঁকে, কখনো প্রাচীন মন্দিরের কারুকাজে। আবার কখনো গোধূলির আলোয় রঙিন হওয়া সমুদ্রসৈকতে এর দেখা মেলে। বিশ্বের সুন্দর ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকায় এশিয়া মহাদেশের বৈচিত্র্যময় কিছু জায়গা পর্যটকদের মনে আলাদা দাগ কেটেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
চৈত্র মাসে অতটা তাপ বোঝা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, এবার গরম পড়বে খুব। এপ্রিলে যাঁরা ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের সঙ্গে রাখতে হবে গরমের উপযোগী কিছু জিনিসপত্র। এতে ভ্রমণকালে স্বস্তি মিলবে অনেকটাই। পাহাড় বা সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গেলে অবশ্যই ব্যাগে সানস্ক্রিন রাখুন। এ ছাড়া অতিরিক্ত রোদ থেকে চোখ রক্ষায়...
৫ ঘণ্টা আগে
স্বাধীনতা অর্জন একদিকে যেমন রণাঙ্গনে বিজয়ের বিষয়, অন্যদিকে তেমন নিজ সংস্কৃতির সব শাখার পুষ্পপল্লবে বিকশিত হওয়ারও। গত ৫৫ বছরে আমরা সেটা অর্জন করতে পেরেছি। সংস্কৃতির সব শাখার মতো এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের নিজস্ব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিও বর্ণিল হয়ে উঠেছে, খুঁজে নিয়েছে নিজস্ব রং, নিজস্ব ছন্দ আর গতি ও প্রকৃতি...
১৪ ঘণ্টা আগে