Ajker Patrika

ভোলা সদর হাসপাতাল: বাড়তি খরচে নাকাল রোগী

  • ফিল্ম না থাকায় হাসপাতালটিতে এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে।
  • এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ।
শিমুল চৌধুরী, ভোলা 
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০১: ০৬
ভোলা সদর হাসপাতাল: বাড়তি খরচে নাকাল রোগী
ছবি: আজকের পত্রিকা

‘এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ’—এমন লেখা সেঁটে দেওয়া হয়েছে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষের সামনে। কক্ষটি তালাবদ্ধ। রোগীরা জানিয়েছেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে এক্স-রে করা হচ্ছে না। আর দালালেরা সেই সুযোগে তাঁদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের রোগীদের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিল্ম না থাকায় হাসপাতালটিতে এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে।

জেলার ১৭ লক্ষাধিক মানুষের জন্য এই হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতালটিতে এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনদের বেসরকারি ক্লিনিক থেকে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় হাত ভাঙা রোগীদের। হাসপাতালটির অর্থোপেডিক বিভাগে আসা রোগীদের এক্স-রের জন্য বাইরের ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়।

গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিচতলায় এক্স-রে কক্ষে তালা ঝুলছে। দরজায় সাদা কাগজে টানানো হয়েছে নোটিশ। তাতে লেখা ‘এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ।’ হাসপাতালের ছয়তলায় অর্থোপেডিক চিকিৎসক শুভ প্রসাদের কক্ষের সামনে বেশ কয়েকজন রোগীকে দেখা যায় অপেক্ষা করতে। তাঁদের কারও হাত ভাঙা, আবার কারও পা।

কথা হয় শহরের গাজীপুর রোডের ব্যবসায়ী বাবুলের সঙ্গে। বাবুল জানান, আড়াই মাস আগে অটোরিকশা থেকে পড়ে তাঁর ডান হাত ভেঙে যায়। এরপর অর্থোপেডিক চিকিৎসকের কাছে এলে তাঁকে এক্স-রে করাতে পরামর্শ দেন। বাবুল জানান, হাসপাতালে এক্স-রে না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেই অন্তত পাঁচবার এক্স-রে করাতে হয়েছে। এতে তাঁর তিন হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এ ছাড়া ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। অথচ হাসপাতালে এক্স-রে করাতে সরকারি খরচ ছোট ফিল্ম ১০০ টাকা এবং বড় ফিল্ম ২০০ টাকা।

সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের দিনমজুর মো. রহিজল বলেন, রোজার মধ্যে সিঁড়ি থেকে পড়ে তাঁর বাম হাতটি ভেঙে যায়। অর্থোপেডিক চিকিৎসক শুভ প্রসাদকে দেখালে তিনি তাঁকে এক্স-রে করাতে বলেন। হাসপাতালে এক্স-রে করাতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে তিনবার এক্স-রে করাতে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান রহিজল।

জানতে চাইলে হাসপাতালের অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. শুভ প্রসাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, এখানে প্রায় প্রত্যেক রোগীরই এক্স-রে লাগে। কিন্তু হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম না থাকায় এক্স-রে হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হয়ে বেশি টাকা দিয়ে বাইরে থেকে এক্স-রে করান। এ চিকিৎসক জানান, শুধু অর্থোপেডিক বিভাগে তিনি একাই প্রতিদিন প্রায় ১০০ রোগী দেখেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই হাত-পা ভেঙে যাওয়া রোগী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় এক বছরের বেশি সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট খাতে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় এবং অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে এক্স-রে ফিল্ম কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও বাইরে থেকে এক্স-রে করতে আসা রোগী ও স্বজনদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সামছুল আলম বলেন, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন বেশ ভালো মানের। কিন্তু ফিল্মের অভাবে এক বছরের অধিক সময় ধরে এ সেবা বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, মাঝখানে কিছুদিন ৫২৫ জন হজযাত্রীর জন্য ৫০০ ফিল্ম এসেছিল। এর মধ্যে ২৫ জন হজযাত্রী বাইরে থেকে এক্স-রে করিয়েছেন। কবে নাগাদ ফিল্ম হাতে পাওয়া যাবে সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, ফিল্মের প্রয়োজন থাকলেও হয়তো দাম বাড়ার কারণে সেটি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ হলে ফিল্ম পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করি দ্রুত এর সমাধান করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত