
দম্পতি হিসেবে একসঙ্গে ভ্রমণে যাওয়া ‘সম্পর্কের শক্তি’ যাচাই করার দারুণ উপায়। ভ্রমণ শেষে হয়তো দম্পতিরা ফিরে আসবেন নতুন স্মৃতির ভান্ডার এবং আরও দৃঢ় বন্ধন নিয়ে অথবা উল্টোভাবে সম্পর্কটি আসলে কতটা টেকসই—সেই প্রশ্ন নিয়ে।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘পুওর মোয়া’র নতুন এক বিশ্লেষণে এমন কিছু গন্তব্য চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোতে দম্পতিদের ছুটি কাটানো তুলনামূলক ঝামেলামুক্ত ও স্মরণীয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্ক ও যৌনতা বিষয়ক থেরাপিস্ট জর্জিনা ভাসের সহায়তায় ৪০টির বেশি দেশের ১০০টি গন্তব্য বিশ্লেষণ করে সেরা জায়গাগুলো নির্ধারণ করেছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ছুটিতে গিয়ে দম্পতিদের মধ্যে বিরোধ বা মনোমালিন্যের সম্ভাবনা সবচেয়ে কম, এমন শীর্ষ পাঁচ গন্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো:
ইতালির লেক গার্দা ১০০ স্কোরের মধ্যে ৯০ পেয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অঞ্চলটিতে চার তারকা বা তার বেশি মানের হোটেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিক থেকে এটি বিশেষভাবে এগিয়ে। পাশাপাশি এখানকার শান্ত ও রোমান্টিক পরিবেশ দম্পতিদের ধীরগতিতে সময় কাটিয়ে একে অপরের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
লেক গার্দার মূল আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে হ্রদের উত্তর প্রান্তে চমৎকার শহর রিভা দেল গার্দা, হ্রদের দক্ষিণ তীরের ঐতিহাসিক শহর সিরমিয়োন। এটি দুর্গ ও মনোরম পরিবেশের জন্য জনপ্রিয়। এ ছাড়া আছে রঙিন বাড়ি এবং পাহাড়ের খাড়া ঢালে তৈরি বাগানের জন্য বিখ্যাত ও আকর্ষণীয় শহর লেমন সুল গার্দা। আছে মনটে বালদো নামের পাহাড়, মালচেসিন শহর থেকে কেব্ল কারে করে এর চূড়ায় পৌঁছানো যায় এবং যেখান থেকে পুরো হ্রদের প্যানোরামিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। তা ছাড়া কোনো ট্রাফিক ছাড়াই এই হ্রদে ঘুরে বাড়ানো যায় ফেরিতে।

স্লোভেনিয়ার ব্লেড ৭৩ দশমিক ৫৫ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকে এটি গবেষণায় সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছে। এ ছাড়া প্রশান্তি ও অ্যাডভেঞ্চারের সমন্বয়ের কারণেও এটি এগিয়ে, যা দম্পতিদের জন্য চাপমুক্ত ও ঝামেলাহীন ভ্রমণের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
স্লোভেনিয়ার জুলিয়ান আলপাইন অঞ্চলের একটি শহর ও পর্যটন কেন্দ্র ব্লেড। স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ নীল জলের হ্রদ এবং তার দ্বীপ ও প্রাচীন স্থাপনা এর মূল আকর্ষণ। রাজধানী লিউব্লিয়ানা থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হ্রদটি সারা বিশ্বের প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। মে, জুন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই শহর ভ্রমণের সেরা সময়। জুলাই-আগস্টে এই লেকে সাঁতার কাটা ও নৌবিহার করা যায়।
লেকের ঠিক মাঝখানে আছে ব্লেড আইল্যান্ড। এই দ্বীপে আছে ১৫ শতকের দ্য অ্যাজাম্পশন অব মেরি গির্জা। দ্বীপে যাওয়ার জন্য কাঠের তৈরি ঐতিহ্যবাহী প্লেনটনা নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে। এর অন্যতম আকর্ষণ ব্লেড ক্যাসেল। খাড়া পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি এই প্রাচীন দুর্গটি থেকে পুরো লেক ও আশপাশের আলপাইন পর্বতমালার প্যানারোমিক দৃশ্য দেখা যায়। এটি স্লোভেনিয়ার অন্যতম প্রাচীন দুর্গ।
তালিকার তিন নম্বরে রয়েছে মরক্কোর এসাওয়াইরা। এটি পেয়েছে ৬৯ দশমিক ৯৫ স্কোর। আরামদায়ক পরিবেশ, সাশ্রয়ী খরচ এবং হেঁটে ঘোরার মতো নানা কার্যক্রমের কারণে এটি ভালো অবস্থান পেয়েছে। ভ্রমণের সময় আর্থিক চাপ অনেক সময় দম্পতিদের মধ্যে বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই তুলনামূলক কম খরচে ভালো খাবার, সংস্কৃতি ও অর্থবহ অভিজ্ঞতা পাওয়া গেলে সেটি সব সময় ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলের এই বন্দর শহরে আছে প্রাচীন শহর মেডিনা। গোছানো এবং শান্ত শহরটি এখন ইউনেসকো হেরিটেজ। এখানে স্থানীয় কাঠের কাজ, চামড়ার পণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের অসংখ্য দোকান রয়েছে। এসাওয়াইরা সৈকত সার্ফিং এবং কাইট-সার্ফিংয়ের জন্য বিখ্যাত। একে উইন্ডি সিটি অব আফ্রিকা বলা হয়। বন্দর শহর বলে এখানে আছে বিখ্যাত মাছ বাজার। তাজা মাছ কিনে পাশেই রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে।
নেদারল্যান্ডসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ওভারিজেল প্রদেশের অপরূপ ও শান্ত গ্রাম গিথর্ন। আধুনিক জীবনের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এই গ্রামে কোনো বড় রাস্তা নেই। এখানে চলাচল করতে হয় নৌকায়। এই গ্রামে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল রয়েছে। এ জন্য একে ‘ডাচ ভেনিস’ বলা হয়।
গিথর্ন ৬৯ দশমিক ১২ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। খাল, হাঁটার পথ এবং ধীরগতির জীবনযাত্রা এখানে রোমান্স ও পারস্পরিক সংযোগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
মন্টিনিগ্রোর কোটর ৬৮ দশমিক ৪৬ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ছোট ও কমপ্যাক্ট পুরোনো শহর, সমুদ্রতীরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, হাইকিংয়ের সুযোগ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয়—সব মিলিয়ে এটি দম্পতিদের জন্য সহজে ঘোরার উপযোগী গন্তব্য। বড় শহরে ভ্রমণের সময় যে ধরনের পরিকল্পনাগত চাপ তৈরি হয়, এখানে তা তুলনামূলক কম।
কোটর মন্টিনিগ্রোর অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের ইউনেসকো-সুরক্ষিত মধ্যযুগীয় শহর। শহরটি খাড়া পর্বতমালা এবং বোকা উপসাগরের মাঝে অবস্থিত। প্রাচীন দুর্গ, ভেনিসীয় স্থাপত্য এবং সরু পাথরের রাস্তার জন্য এটি বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এসব পর্যটন গন্তব্যে ঘুরেফিরে পরখ করে নিন আপনাদের সম্পর্ক।
সূত্র: ফোর্বস

কোরবানির ঈদে খাওয়া হয় হরেক রকমের সুস্বাদু মাংসের পদ। তবে এর আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় রান্নাবান্না ও খাওয়াদাওয়ার পর। মাংসের চর্বিযুক্ত ঝোল, ভুনা বা কাবাব তৈরির পর কড়াই, পাতিল ও প্লেটে যে চটচটে তেলের আস্তরণ জমে, তা সাধারণ উপায়ে ধুতে গেলে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। অনেকে অলসতা করে লোহার কড়াই বা ননস্টিকের...
৪ ঘণ্টা আগে
ঈদে বিরিয়ানি হবে না, সেটা অনেকেই মেনে নিতে পারবেন না। তাই রেঁধে ফেলুন খাসির বিরিয়ানি। মূলত আগে বিরিয়ানি রান্না করা হতো খাসির মাংস দিয়ে, যদিও এখন তাতে দেওয়া হয় গরুর মাংস। যা হোক, ঈদের পরদিন বাড়িতে খাসির মাংস আছে নিশ্চয়ই। থাকলে রান্না করে ফেলুন খাসির ঝাল বিরিয়ানি। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী...
৬ ঘণ্টা আগে
গরুর মাংসের কোয়াব হলো চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। এই ঈদে আপনি নিজেই রান্না করে নিতে পারেন চট্টগ্রামের জনপ্রিয় ও মজাদার এই পদ। আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী ঝুমু হক...
১ দিন আগে
ঈদের সময় ঘরে ঘরে মাংসের নানা আয়োজন হয়ে থাকে। আর শিশুরাও গরু বা খাসির মাংস খেতে পছন্দ করে। তবে গরমের এই সময়ে বেশি মাংস খাওয়া শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সচেতন থাকতে হবে। কেননা, পরিমাণমতো না খেলে শিশুদের হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের রোগে হতে...
১ দিন আগে