
তামাটে রঙের একটি পাত্রের তাপে জ্বলছে বালুর ওম। তার ওপর বসানো লম্বা হাতলওয়ালা একটি ছোট্ট পাত্র। ভেতরে ফুটছে ঘন কালো তরল। বাতাসে ছড়াচ্ছে কফির তীব্র সুবাস। বলছিলাম তুর্কি কফির কথা। এক কাপ তুর্কি কফিতে যেন জমে ওঠে সব বিচিত্র গল্প! কফি-কাপে শেষ চুমুকটা দেওয়ার পর যে কালো তলানি পড়ে থাকে, তা নাকি শুধু কফির অবশিষ্টাংশ নয়। ওখানেই নাকি লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার আগামী দিনের সাফল্য কিংবা সুখ-শান্তি! শুনতে রূপকথার মতো লাগলেও তুর্কি কফি-কাপের তলানি দেখে, ট্যাসোগ্রাফি বা ভাগ্য গণনার এই চল কিন্তু শত বছরের পুরোনো। মধ্যপ্রাচ্যের ও তুরস্কের সংস্কৃতিতে এটি শুধু একটি কুসংস্কার নয়, বরং আড্ডার সঙ্গে আবেগের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। এ যেন কাপ উল্টে দিলেই খোলে ভাগ্যের ঝাঁপি!
তুর্কি কফি খাওয়ার নিয়মটাই অন্য রকম। কফি খাওয়ার আনন্দ শুধু শেষ চুমুক পর্যন্ত নয়। কফি শেষ হওয়ার পর, পানকারী একটি পিরিচ দিয়ে কাপের মুখটি ঢেকে মনে মনে একটি গোপন ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর কাপটি পিরিচের ওপর আলতো করে উল্টে দেওয়া হয়। কাপটি যেন তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়, তাই অনেকে তার নিজের হাতের আংটি বা একটি মুদ্রা রেখে দেন। কফির গুঁড়া থিতিয়ে গিয়ে নকশা তৈরি হতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ মিনিট। কিছুক্ষণ পর কাপটি সোজা করলে ভেতরের দেয়ালে কফির তলানি দিয়ে তৈরি হয় অদ্ভুত সব নকশা বা রেখা কিংবা অবয়ব। কেউ সেখানে দেখতে পান কোনো পাখির ডানা, যার অর্থ হয়তো কোনো শুভ সংবাদ আসছে। কেউ আবার খুঁজে পান কোনো আঁকাবাঁকা পথ, যা জীবনের আসন্ন কোনো সংগ্রামের ইঙ্গিত দেয়। মাছের মতো আকৃতিকে মনে করা হয় আর্থিক সমৃদ্ধি। বৃত্তাকৃতিকে মনে করা হয় আশা পূরণ এবং হৃদয়ের আকৃতিকে মনে করা হয় নতুন প্রেম বা সম্পর্কের গভীরতা। কাপের ওপরের দিকের নকশাগুলো বলে বর্তমানের কথা আর একদম নিচের জমাট বাঁধা অংশটি ধরে রাখে ভবিষ্যতের না-বলা গল্প। এই নকশাগুলোর রয়েছে নিজস্ব ভাষা। ভাগ্য গণনার এই প্রাচীন শিল্পকেই বলা হয় ট্যাসোগ্রাফি। তাদের এই ঐতিহ্য এতটাই শক্তিশালী যে ২০১৭ সালে ফালাদিন নামের একটি তুর্কি ভাগ্য গণনা অ্যাপ তৈরি হয়।
তুর্কিদের একটি বিখ্যাত প্রবাদ আছে, ‘এক কাপ কফি চল্লিশ বছর ধরে মনে থাকে।’ এর পেছনে লুকানো গল্পটি কফি বিক্রেতা এক গ্রিক ক্যাপ্টেনের। যেখানে ক্যাপ্টেনকে এক কাপ কফি খাইয়েছিলেন এক কফি বিক্রেতা। তার ঠিক চল্লিশ বছর পর এক যুদ্ধের ময়দানে তাঁদের দেখা হয়। সেখানে ক্যাপ্টেন তাঁর জীবন বাঁচান।

শেষ চুমুকে শিষ্টাচার
তুর্কি কফি যখন টেবিলে আনা হয়, তার সঙ্গে সব সময় থাকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি এবং এক টুকরা মিষ্টি লোকুম বা তুর্কিশ ডিলাইট। কফি মুখে দেওয়ার আগে এক চুমুক পানি খেয়ে মুখটা পরিষ্কার করে নিতে হয়। যেন কফির তীব্র স্বাদটি জিবের প্রতিটি কোণে পৌঁছাতে পারে। আর শেষ চুমুকের পর মুখে দেওয়া হয় সেই মিষ্টি বা লোকুম।
তুর্কি কফি তৈরির প্রক্রিয়াটি একটি ধীর এবং নান্দনিক শিল্প। ঐতিহ্যবাহী এই কফি তৈরি করতে লাগে পানি, মিহি গুঁড়ার তুর্কি কফি, সেজভে বা লম্বা কাঠের হাতলযুক্ত একটি চওড়া ও সরু গলার তামার পাত্র, ফিনচান বা হাতলহীন চিনামাটির তৈরি ছোট কাপ, যা তাপ দীর্ঘ সময় ধরে রাখে। ছাঁকনি ছাড়া তৈরি এই কফির স্বাদ যেন ঠোঁটে লেগে থাকার মতো। প্রথমে ফিনচান বা কাপ মেপে, সেজভেতে পানি নিতে হয়। প্রতি কাপের জন্য এক চা চামচ বা প্রায় ৭ গ্রাম মিহি গুঁড়া করা তুর্কি কফি দেওয়া হয়। স্বাদমতো চিনি মিশিয়ে পানি ঠান্ডা থাকা অবস্থাতেই শুধু একবার চামচ দিয়ে নেড়ে নেওয়া হয়। এরপর পাত্রটিকে একেবারে অল্প আঁচে বসানো হয়। কফি যত আস্তে গরম হবে, ওপরে তত ঘন ও গাঢ় ফেনা জমবে। এই ফেনাই হলো ভালো তুর্কি কফির পরিচয়।
কফি ফুটে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে ওপরের ফেনা, চামচ দিয়ে তুলে প্রতিটি কাপে ভাগ করে দেওয়া হয়। এরপর কফি আরেকবার সামান্য ফুটিয়ে কাপে ঢেলে উপভোগ করা হয় ঐতিহ্যবাহী তুর্কি কফি।
সূত্র: মেমফিস ট্যুরস

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেশি শিরোপাজয়ী দল সেলেসাও বা ব্রাজিল। আর তাদেরই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে হাইতি। তবে এই চিরচেনা দলগুলোর খবরের আড়ালে আসল চমক লুকিয়ে আছে ম্যাচের ভেন্যুতে। খেলাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার বিখ্যাত 'লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ড' মাঠে।
১৪ ঘণ্টা আগে
খেলা চলছে দূর পরবাসে; উত্তর আমেরিকার তিন দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোতে। মাঠের লড়াই যখন জমজমাট, গ্যালারিতে যখন উল্লাসের গর্জন, আমাদের এদিকের ঘড়িতে তখন হয়তো রাত ২টা কিংবা ভোর ৪টা! ফুটবল আর নির্ঘুম রাত তাই আমাদের অঞ্চলে চিরকালের আপন ভাই।
১৬ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ইন্টারনেটে যে ‘নো মেকআপ’ লুক নিয়ে এত মাতামাতি হচ্ছে, তারও কিন্তু একটা কারণ আছে। এমন এক মৌসুম চলছে, যখন সকালবেলা ভারী ফাউন্ডেশন মেখে বের হলে তা দুপুরের খাবারের আগেই গলে যায় এবং গরমে ম্যাট মেকআপ ত্বকে ফেলে ক্লান্তির ছাপ। আর তখন আড়ম্বরহীন সৌন্দর্য হঠাৎ করেই যেন অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে।
১৭ ঘণ্টা আগে
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা শুধু সোনার খনি, কোকো উৎপাদন কিংবা সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যই পরিচিত নয়; দেশটি তার বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ঘানার খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে স্থানীয় কৃষি, উপকূলীয় মাছ শিকার, ঐতিহ্যবাহী মসলা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর রান্নার প্রভাবের সমন্বয়ে।
২০ ঘণ্টা আগে