
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেশি শিরোপাজয়ী দল সেলেসাও বা ব্রাজিল। আর তাদেরই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে হাইতি। তবে এই চিরচেনা দলগুলোর খবরের আড়ালে আসল চমক লুকিয়ে আছে ম্যাচের ভেন্যুতে। খেলাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার বিখ্যাত 'লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ড' মাঠে। এটি স্থানীয়দের প্রিয় ‘দ্য লিংক’স্টেডিয়াম। মরক্কোর সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার পর ব্রাজিল এবার পূর্ণ ৩ পয়েন্টের জন্য মরিয়া। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারা হাইতিও চাইছে অঘটন ঘটিয়ে ইতিহাস গড়তে। সব মিলিয়ে ফিলাডেলফিয়ার এই উন্মাদনার মঞ্চে এক দুর্দান্ত লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
২০০৩ সালের আগস্ট মাসে এই স্টেডিয়ামের প্রথম অফিশিয়াল উদ্বোধন হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম বার্সেলোনার একটি হাই ভোল্টেজ ফুটবল ম্যাচ দিয়ে। এই স্টেডিয়ামের প্রথম টিকিটযুক্ত ইভেন্ট ছিল এটি। আর উদ্বোধনের পর থেকে 'লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ড' এনএফএলের দল 'ফিলাডেলফিয়া ইগলস' এবং কলেজ ফুটবলের দল 'টেম্পল আউলস'-এর হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেই ফুটবল রোমাঞ্চের ধারাতেই মাঠে নামছে ব্রাজিল ও হাইতি। ৬৯ হাজার ৭৫৪ জন ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়াম মূলত আমেরিকান ফুটবলের জন্য ডিজাইন করা হলেও উদ্বোধনের পর থেকে এখানে অসংখ্য (সকার) ফুটবল ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরো স্টেডিয়ামে উগ্র উন্মাদনা থাকলেও খেলা দেখা যাবে অ্যালকোহল-মুক্ত ফ্যামিলি জোনে। ২০০৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ক্যারোলাইনা প্যান্থার্স এবং ফিলাডেলফিয়া ইগলসের মধ্যে এনএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ গেমটি এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এই মাঠ ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই মেক্সিকো এবং জ্যামাইকার মধ্যকার 'কনকাকাফ গোল্ড কাপ ফাইনাল' ম্যাচের আয়োজক ছিল। প্রায় ৬৮ হাজার ৯৩০ জন দর্শক ম্যাচটিতে মেক্সিকোর জয় দেখেছিল।
এমএলএসে খেলা দল 'ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন', তাদের নিজস্ব মাঠ 'সুবারু পার্ক'-এর নির্মাণকাজের কারণে ২০১০ সালে সাময়িকভাবে এই স্টেডিয়ামে খেলেছিল। ইউনিয়ন দল লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে দুটি ম্যাচ খেলে। যার মধ্যে ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল ডিসি ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানের জয়টি অন্তর্ভুক্ত। ২০০৯, ২০১৫, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে স্টেডিয়ামটি কনকাকাফ গোল্ড কাপ ম্যাচের আয়োজন করে। ২০১৫ সালের ফাইনাল ম্যাচটিতেও মেক্সিকো ৩-১ ব্যবধানে জ্যামাইকাকে পরাজিত করে। এ ছাড়া লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে হাই প্রোফাইল প্রাক্-মৌসুম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মধ্যে প্রিমিয়ার লিগ সামার সিরিজও রয়েছে, যেখানে চেলসি, নিউক্যাসল ইউনাইটেড এবং অ্যাস্টন ভিলার মতো দলগুলো এই স্টেডিয়ামে খেলেছে। রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যথাক্রমে ২০১০ ও ২০১১ সালে লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিরুদ্ধে প্রাক্-মৌসুম প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচ আয়োজন করার মাধ্যমে এই মাঠ বিশ্বকাপের জন্য দারুণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এবারের বিশ্বকাপের জন্য ফিফার স্টেডিয়াম নামকরণের নিয়ম মেনে চলতে লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডের নাম পরিবর্তন করে 'ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম' রাখা হয়। স্টেডিয়ামটিতে মোট ছয়টি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে।
লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ড ২০১৩ সালে এনএফএলের ‘সবচেয়ে সবুজ’ বা পরিবেশবান্ধব স্টেডিয়াম হিসেবে স্বীকৃতি পায় ২০১৩ সালে। পরিবেশগত স্থায়িত্ব বজায় রাখার অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ মার্কিন গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল থেকে সর্বোচ্চ এলইইডি প্লাটিনাম সার্টিফিকেট দেওয়া হয় স্টেডিয়ামটিকে। ২০০৩ সালে উদ্বোধনের পর এটিই ১০ বছরের বেশি পুরোনো একমাত্র এনএফএল স্টেডিয়াম, যা এই গৌরব অর্জন করেছে। ল্যান্ডফিলে ৯৯ শতাংশ বর্জ্য পাঠানো বন্ধ করা, ১০ হাজার ৪৫৬টি সোলার প্যানেল স্থাপন, এলইডি লাইটের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশন ও রিভার্স ভেন্ডিং মেশিনের মতো পরিবেশবান্ধব আর যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে স্টেডিয়ামটি পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঐতিহাসিক এই মাইলফলক স্পর্শ করে।

২০২৩ সালের জুনে ব্রিটিশ পপতারকা এড শিরান ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে একটি কনসার্ট করেন। ৭৭ হাজার ৯০০ জন দর্শকের উপস্থিতিতে সেটি ছিল একটি ঐতিহাসিক কনসার্ট। এটি স্টেডিয়ামের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড। এর আগে ২০১১ সালে ইউটুর করা রেকর্ডটি তিনি ভেঙে দেন। কনসার্টের আগে এড শিরান স্থানীয়দের প্রিয় চিজস্টেক দোকান 'ফিলিপস স্টেকস'-এ আকস্মিক ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি নিজ হাতে চিজস্টেক তৈরি করেন এবং সেখানে উপস্থিত শত শত ভক্তের জন্য নিজের খরচে খাবার কিনে দেন। মাঠের ঠিক মাঝখানে তৈরি ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণমান মঞ্চে ইগলস দলের জার্সি পরে গান গেয়ে এবং চিজস্টেক ও শহরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি ফিলাডেলফিয়াবাসীর মন জয় করে নেন।
শতকোটি ডলারের রাজকীয় এই 'স্পোর্টস ক্যাথেড্রাল' শুধু আমেরিকান ফুটবলের দুর্গই নয়, তা বৈশ্বিক বিনোদন ও সকার ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুধু ফুটবলই নয়, একদিকে পরিবেশ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গ্রিন সার্টিফিকেটের গৌরব, অন্যদিকে এড শিরানের মতো তারকাদের রেকর্ড ভাঙা ইতিহাসের সাক্ষী এই সবুজ চত্বর। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর অফিশিয়াল ভেন্যু হিসেবে 'ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম' নামে এটি বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছে। সেখানে ব্রাজিল ও হাইতির এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচ মাঠের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে আরও একটি নতুন এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় যোগ করতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, ফিলাডেলফিয়ার এই উন্মাদনার মঞ্চে এক অনন্য ফুটবল যুদ্ধ দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।
সূত্র: ফিফা, ফুটবল গ্রাউন্ড গাইড

চিকিৎসকের একটি সতর্কবার্তা আমূল বদলে দিয়েছিল দিল্লির দম্পতি রূপিকা আনন্দ ও রাকেশ আনন্দের জীবন। শারীরিক অসুস্থতা থেকে সুস্থ জীবনের খোঁজে শহরের আরাম-আয়েশ ও সফল করপোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন কৃষিকাজ।
৭ ঘণ্টা আগে
ওজন কমানো বা নিজেকে ফিট রাখা যে কতটা কঠিন, তা ভুক্তভোগীরাই ভালো বোঝেন। এর চিন্তা মাথায় এলেই মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে ওঠে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রিয় চকলেট কেকটিকে না ছুঁয়ে বিদায় জানানোর দুঃখ। কিংবা ধোঁয়া ওঠা কাচ্চি বিরিয়ানি প্লেটে নেওয়ার পর অপরাধবোধে ভোগার দৃশ্য। মন বলে ‘আরেকটু খাই’, যুক্তি বলে ‘না’।
১০ ঘণ্টা আগে
মানসিকভাবে মানুষ প্রতিটি সম্পর্কের এক জটিল ছক বা মানচিত্র তৈরি করতে ওস্তাদ। কে কার অনুগত, কার সঙ্গে কার প্রতিযোগিতা কিংবা কে কখন কার বিরুদ্ধে যেতে পারে—প্রতিনিয়ত আমাদের মন এসবের হিসাব রাখে। কিন্তু সম্পর্কের এই অভ্যন্তরীণ মানচিত্রে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বা বিরোধের ছাপ বেশি স্পষ্ট হয়। কখনো ভেবে দেখে
১২ ঘণ্টা আগে
ধারণা করা হয়, প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পান বা ঘাবড়ে যান। অনেকের হয়তো ভয়ে বুক ধুকধুক করে বা হাতের তালু ঘামতে শুরু করে। অনেক সময় আমাদের মাথা ফাঁকা হয়ে যায়, কণ্ঠস্বর ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয় এবং হাত-পা কাঁপতে থাকে। অনেক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আমরা
১৩ ঘণ্টা আগে