
ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন নতুন ট্রেন্ড আসতেই থাকে। তবে কিছু ট্রেন্ড এমনভাবে নজর কেড়ে নেয় যে, তা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। বর্তমানে গয়নার জগতে এমনই এক নতুন ও গ্ল্যামারাস সংযোজন হলো ‘ফেইস চেইন’, যা এখন ফ্যাশনসচেতনদের কাছে ‘ফেইসলেট’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। এই ট্রেন্ডটি সাধারণ সাজগোজকেও নিমেষে অসাধারণ রূপ দিতে সক্ষম।
ফেইসলেট মূলত কী?
সহজ ভাষায় ফেইসলেট হলো মুখের বিশেষ একধরনের অনুষঙ্গ বা গয়না। এটি মূলত গালের হাড়ের ওপর দিয়ে, চোখের বাইরের কোণ ঘেঁষে বা কপালে রগ বরাবর পরা হয়। প্রথাগত গয়না যেমন কানের দুল বা গলার হারের মতো এটি ঝুলে থাকে না, বরং মেকআপের মতো করে মুখমণ্ডলের কাঠামোকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলে। এতে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট পাথর, ক্রিস্টাল, সোনার প্রলেপ বা রুপার কারুকাজ থাকে। কোনোটিতে আবার সরু চেইন কানের পাশ থেকে গাল পর্যন্ত নেমে আসে, যা দেখতে বেশ নান্দনিক লাগে। ডিজাইনারদের মতে, এটি চেহারায় একটি ‘স্কাল্পচারাল’ বা ভাস্কর্যসদৃশ আবহ সৃষ্টি করে, যা বিশেষ করে এডিটোরিয়াল বা হাইফ্যাশন লুকের জন্য উপযুক্ত।
কেন এত জনপ্রিয়
এ বছরের ট্রেন্ডে ফেইসলেট বেশ জনপ্রিয়। বিশেষজ্ঞ ও ডিজাইনারদের মতে, বর্তমানের ‘হাইপার-ডিজিটাল’ যুগে রিলস, সেলফি বা বিয়ের ভিডিওতে চেহারার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফেইসলেট ঠিক সে কাজটাই করে—এটি সরাসরি মানুষের দৃষ্টি মুখের দিকে আকর্ষণ করে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এই অপ্রচলিত সাজটি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে, কারণ তারা সব সময় নতুন কিছু করতে পছন্দ করে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে এ গয়নাটি দ্রুত সাধারণ মানুষের নজরে এসেছে। অনেকের মতে, এর বিরল ব্যবহারের দিকটিই এটিকে অন্য সবকিছু থেকে আলাদা করে তোলে।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া
ফেইসলেট শুনতে আধুনিক মনে হলেও এর শিকড় বেশ গভীরে। দক্ষিণ এশিয়ায় কয়েক শতাব্দী ধরে নাকফুল বা মাথাপট্টির প্রচলন রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায়ও মুখে ধাতব অলংকার পরার রীতি ছিল। সেই প্রাচীন ঐতিহ্যই আজ আধুনিক ‘ফেইসলেট’ রূপে ফ্যাশন দুনিয়ায় জায়গা করে নিয়েছে।

বিয়ের সাজে অনন্য মাত্রা
বর্তমানে বিয়ের কনেদের মধ্যে ফেইসলেট ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গায়েহলুদের মতো অনুষ্ঠানে কনেরা একটু ভিন্নধর্মী লুক চাইছেন। প্রথাগত মাথাপট্টি বা টিকলির পাশাপাশি সূক্ষ্ম চেইন বা পাথরের একটি ফেইসলেট পুরো সাজে ভিন্নতা এনে দেয়। এটি খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ না হয়েও কনের চেহারায় একধরনের স্নিগ্ধতা ও গ্ল্যামার যোগ করে। অনেকে আবার হালকা ঝুমকা বা ছোট চার্ম যুক্ত ফেইসলেট বেছে নিচ্ছেন, যা মুখের নড়াচড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক চমৎকার সৌন্দর্য তৈরি করে।
দৈনন্দিন ফ্যাশন ও সেলিব্রিটি প্রভাব
শুধু বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠান নয়, সাধারণ ঘরোয়া পার্টি বা বিকেলের আড্ডায় ফেইসলেট পরা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে মেকআপ হতে হবে খুব হালকা। যেহেতু ফেইসলেট নিজেই একটি উজ্জ্বল অনুষঙ্গ, তাই অতিরিক্ত হাইলাইটার বা গ্লিটারের ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো। পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গে মেটালিক ডিজাইনের ফেইসলেট এবং কামিজ বা শাড়ির সঙ্গে ফ্লোরাল বা পুঁতির কাজ করা ফেইসলেট বেশ মানানসই। বিশ্বখ্যাত তারকা যেমন বিয়ন্সে থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়ার কে-পপ আইকনরাও বিভিন্ন মিউজিক ভিডিও এবং ফটোশুটে এই ফেইসলেট ব্যবহার করছেন, যা এর গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বজুড়ে বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফেইসলেট কেবল একটি গয়না নয়, এটি ব্যক্তিত্ব প্রকাশের এক সাহসী মাধ্যম। যাঁরা ফ্যাশন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসেন, তাঁদের সংগ্রহের জন্য ফেইসলেট হতে পারে একটি দারুণ অনুষঙ্গ। আপনার সাধারণ সাজে আভিজাত্যের ছোঁয়া দিতে এই সিজনে আপনিও এই গ্ল্যামারাস ট্রেন্ডটি ট্রাই করতে পারেন।

মাঝেমধ্যেই আমাদের চকলেট খাওয়ার প্রচণ্ড ইচ্ছা বা ‘ক্রেভিং’ হয়। আমরা একে সাধারণ মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা মনে করি। কিন্তু শরীর আসলে এর মাধ্যমে আমাদের বিশেষ কিছু সংকেত দেয়। এর বিশেষ কিছু কারণ আছে। মনে রাখবেন, চকলেটের প্রতি তীব্র ইচ্ছা আপনার শরীরের কোনো দুর্বলতা নয়। এটি শরীরের একটি ফিডব্যাক।
৪ ঘণ্টা আগে
টাকা জমানোর খুব ইচ্ছা হবে, কিন্তু ওই যে অনলাইনে ‘সেল’ চললে আপনার আঙুল নিজের বশেই থাকে না। গ্রহ বলছে, আপনার ওয়ালেট আজ আইসিইউতে যাওয়ার পথে। প্রেমের ক্ষেত্রে অবস্থা একটু নড়বড়ে; তর্কে জেতার চেষ্টা করবেন না। কারণ, দিন শেষে আপনাকে হার মানতেই হবে। অকারণে এটিএম কার্ডের দিকে তাকাবেন না।
১০ ঘণ্টা আগে
আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যাঁরা সব সময় নিজেদের একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ওপরের মানুষ বলে মনে করেন। এমনও হয় যে কিছু করছেন না বলেই তাঁরা অপরাধবোধে ভোগেন। নিজের জন্য সময় বের করাকে তাঁরা কাজে ফাঁকি দেওয়া বোঝেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিরতি নেওয়া বা ‘না’ বলা কোনো দুর্বলতা তো নয়ই, উল্টো এটিকে...
১০ ঘণ্টা আগে
এ বছর বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন জনমত জরিপের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত বা অপছন্দের দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ। অপছন্দের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে চীন। এর পরই যথাক্রমে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল। তালিকায় শীর্ষ ৩০টি দেশের নাম উল্লেখ...
১২ ঘণ্টা আগে