
স্লিপ ডিভোর্সের খবর আপনার কাছে নিশ্চয় এত দিনে পৌঁছে গেছে। ব্যাপারটি বিশ্বের অনেক দেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে গত কয়েক বছরে। স্লিপ ডিভোর্স হলো, সঙ্গীর ঘুমের সমস্যা তৈরি না করার জন্য আলাদা ঘরে, আলাদা বিছানায় ঘুমোনোর অভ্যাস। ঘুমানোর বিষয়ে ছাড়াছাড়ি হলে খাবারের ব্যাপারে নয় কেন? কেউ তো আর চলে যাচ্ছে না জীবন থেকে! তাই এবার ফুড ডিভোর্সের পথে হাঁটছেন যুগলেরা। না না, ডিভোর্স বিষয়টিকে যতটা বিপজ্জনক ভাবছেন, ততটা কিন্তু নয়। বিষয়টি খানিক অন্য রকম। ঝামেলা এড়াতে দম্পতিরা ফুডের দিকে ঝুঁকছেন। খাদ্য শুধু বেঁচে থাকার অনুষঙ্গ নয়, এটি মানুষের সংস্কৃতি, লাইফস্টাইল এবং আবেগের সঙ্গেও জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে দাম্পত্য ও প্রেমের সম্পর্কে ফাটল ধরার পেছনে এক অদ্ভুত কিন্তু বাস্তব কারণ হিসেবে সামনে এসেছে খাদ্যাভ্যাসের অমিলের কথা।
এককথায় ফুড ডিভোর্স হলো, সঙ্গীর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস বা খাবারের মতাদর্শগত অমিল দূর করতে আলাদাভাবে ডাইনিংয়ে বসে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। স্বামী হয়তো কট্টর নিরামিষভোজী বা ভেগান; অন্যদিকে স্ত্রী মাছ-মাংসের খাবার খেতে ভালোবাসেন। অথবা দুজনের একজন স্বাস্থ্যসচেতন, অন্যজন জাঙ্ক ফুডে অভ্যস্ত। আপাতদৃষ্টে এটি ছোট সমস্যা মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ও প্রতিদিন বেলায় বেলায় খেতে বসলে এটি আসলে মানসিক দূরত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফুড ডিভোর্স হলে দুজনই ভিন্ন সময়ে নিজের মতো একা ডাইনিং টেবিলে বসে পছন্দের খাবার খান। তাই সেই খাবার অন্যজনকে প্রভাবিত করে না।
সাধারণত বলা হয়, দিনের যেকোনো এক বেলার খাবার পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খেলে নিজেদের মধ্য়ে আন্তরিকতা বাড়ে। কিন্তু এমন যদি হয়, খেতে বসে একজন অন্যজনকে নিজের পছন্দের খাবারটি খেতে জোর করছেন বা সঙ্গীর খাবার নিয়ে ঠাট্টা করছেন; তাহলে আলাদা খাওয়াই ভালো। এ ছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, খেতে বসে দুজনের একজন অনবরত স্ক্রিনে সময় কাটাচ্ছেন বা ফোনে কথা বলছেন। সে ক্ষেত্রে অন্যজনের খারাপ লাগার অনুভূতি কাজ করে। সেদিক বিবেচনায়ও ফুড ডিভোর্স ইতিবাচক ভাবেন অনেকে। সাধারণত যেসব কারণে ফুড ডিভোর্স হয়—

লাইফস্টাইল ও আদর্শের সংঘাত: ভেগানিজম বা অরগানিক লাইফস্টাইল এখন শুধু ডায়েট নয়, একটি সামাজিক ও নৈতিক অবস্থান। সঙ্গী যখন সেই আদর্শকে সম্মান দেয় না, তখন সম্পর্কে ফাটল ধরে।
একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দ হারিয়ে যাওয়া: কাপলদের জন্য ডিনার ডেট বা একসঙ্গে খাওয়া একটি বড় রোমান্টিক মুহূর্ত। খাবার টেবিলে রোজ রোজ তর্ক বা ভিন্ন রান্নার ঝক্কি সম্পর্কের মাধুর্য নষ্ট করে।
স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সচেতনতা: একজন যখন কঠোর ডায়েটে থাকেন এবং সঙ্গী তাঁর সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার খান, তখন তা বিরক্তি ও মানসিক দূরত্বের জন্ম দেয়।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আধুনিক মানুষ সঙ্গীর মাঝে নিজের প্রতিফলনের পাশাপাশি লাইফস্টাইলের শতভাগ মিল খোঁজেন। খাবার নিয়ে রোজকার ছোটখাটো খিটমিট একসময় বড় রূপ নেয়। এর ফলে অনেক কাপল এখন বিয়ের আগেই একে অপরের ফুড চয়েস বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করছেন।
তবে রোজ খাবার টেবিলে একা খাওয়া পারিবারিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বিশেষ করে পরিবারের ছোট সদস্যদের জীবনবোধ তৈরিতে দিনের যেকোনো একটি বেলার খাবার একসঙ্গে খাওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে ভালো কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা গেলে ঝামেলা অনেকটাই কমানো যায়। সঙ্গীর খাবারের পছন্দকে ব্যঙ্গ না করে তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া তিনি কীভাবে খাচ্ছেন, কতটুকু খাচ্ছেন, তাঁর শরীরের গঠন নিয়ে বিদ্রূপ এড়ালে সম্পর্কের উন্নতি হবে। বাইরে খেতে গেলে এমন রেস্তোরাঁ বেছে নেওয়া যেতে পারে, যেখানে ভেগান এবং নন-ভেগান উভয় ধরনের খাবারই পাওয়া যায়। এতে দুজনই নিজ নিজ পছন্দের খাবার খেতে পারবেন। পছন্দের খাবারের বেলায় একদিন একজনের পছন্দের খাবার রান্না হলে অন্যদিন অন্যজনের পছন্দের তালিকায় গুরুত্ব দেওয়া গেলে পরিবারের খাদ্যসংস্কৃতিও দারুণভাবে গড়ে উঠবে। এতে পরিবারের ছোট সদস্যরাও জানতে পারবে, সবার পছন্দকেই শ্রদ্ধা করতে হয়।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস ও অন্যান্য

মাঝেমধ্যে একেবারে সাধারণ তরকারি দিয়ে খাওয়াই তৃপ্তিদায়ক হয়ে ওঠে। রাতের খাবারে রাঁধতে পারেন বেগুন দিয়ে রান্না করা সুস্বাদু পোয়া মাছ। আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। পোয়া মাছ ১২ টুকরা, বেগুন ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজবাটা ২ টেবিল চামচ...
৪ ঘণ্টা আগে
আমাদের ফোনের গ্যালারিটা খুললেই চোখে পড়ে রাশি রাশি ছবির মেলা। কোথাও ঘুরতে গেলে পাহাড়, সমুদ্র, সূর্যাস্ত কিংবা বিশেষ মুহূর্তগুলো আমরা ক্যামেরায় বন্দী করে রাখি। উদ্দেশ্য একটাই—সময় চলে গেলেও মুহূর্তটা যেন হারিয়ে না যায়। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, গ্যালারিতে জমে থাকা এই হাজারটা ছবির মধ্যে ঠিক...
১৭ ঘণ্টা আগে
পুরুষ মানেই যে অগোছালো আর খামখেয়ালি—এ ব্যাপারটা বোধ হয় এখন আর সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ২০২৬-এ এসে পুরুষেরা অনেক বেশি রূপ ও ফ্যাশন সচেতন হয়েছেন। অফিসে, শপিং মলে বা যাওয়া-আসার পথে আশপাশে তাকালেই টের পাবেন, চলতি সময়ের পুরুষেরা নিজেদের ত্বক ও চুল নিয়ে কতটা ভাবেন।
১ দিন আগে
অনেক সময় সকালে উঠেই ক্লান্ত লাগে। এমনকি সারা দিন ক্লান্তিতে কাটে। এ ধরনের অলস সময় অনেকের যায়। সব সময় ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করার পেছনে জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস কিংবা নানা শারীরিক কারণ জড়িত থাকতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তির পেছনে থাকা প্রধান কারণগুলো জানা থাকলে এই ক্লান্তি থেকে মুক্তি মেলা সহজ হয়ে যায়।
১ দিন আগে