
আমাদের ফোনের গ্যালারিটা খুললেই চোখে পড়ে রাশি রাশি ছবির মেলা। কোথাও ঘুরতে গেলে পাহাড়, সমুদ্র, সূর্যাস্ত কিংবা বিশেষ মুহূর্তগুলো আমরা ক্যামেরায় বন্দী করে রাখি। উদ্দেশ্য একটাই—সময় চলে গেলেও মুহূর্তটা যেন হারিয়ে না যায়। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, গ্যালারিতে জমে থাকা এই হাজারটা ছবির মধ্যে ঠিক কয়টা ঘটনার স্মৃতি আপনার স্পষ্ট মনে আছে? বেশির ভাগ অভিজ্ঞতাই হয়তো স্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে। তবে কি ক্যামেরার লেন্স দিয়ে জীবন দেখতে গিয়ে আমরা আসল স্মৃতিগুলোকেই হারিয়ে ফেলছি? ঘটনা যা ঘটে, একবার বুঝে নিই, চলুন।
অতিরিক্ত ছবি তোলার ফলে স্মৃতি ধূসর হয়ে যাওয়ার এই মনস্তাত্ত্বিক ঘটনাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ফটো-টেকিং ইমপেয়ারমেন্ট ইফেক্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ফেয়ারফিল্ড ইউনিভার্সিটির মনস্তত্ত্ববিদ লিন্ডা হেঙ্কেল এই বিষয়ে প্রথম একটি যুগান্তকারী গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণায় দেখা যায়, মানুষ যখন কোনো বস্তু চোখে দেখে, তখন মস্তিষ্কে তাঁর স্মৃতি যতটা গভীর হয়, ছবি তুললে তা ঘটে না। ক্যামেরা বা ফোনে ছবি তুললে মস্তিষ্ক ধরে নেয়, বাইরের যন্ত্রটিই তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে অফলোডিং মেমোরি। ফলে মস্তিষ্ক নিজে ঘটনাটিকে গভীর স্মৃতিতে রূপান্তরের চেষ্টা বন্ধ করে দেয়।
ক্যামেরা বা ফোন নিজে আসলে কোনো সমস্যা নয়। আসল সমস্যা তৈরি হয় আমাদের মনোযোগের বিভাজনে। ছবি তোলার সময় সঠিক ফ্রেম মেলানো, ফোনের আলো ঠিক করা বা অ্যাঙ্গেল খোঁজার পেছনে আমাদের মনোযোগের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়। ফলে আসল মুহূর্তটি মন দিয়ে অনুভব করা আর সম্ভব হয় না।
এ ছাড়া একটি ঘটনাকে পরিপূর্ণ স্মৃতি বানাতে আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয়ের ভূমিকা থাকে। কিন্তু ছবি তোলার সময় মস্তিষ্ক শুধু দৃশ্যমান তথ্যের ওপর জোর দেয়। এর ফলে সেই জায়গার বাতাস, শব্দ, গন্ধ বা সামগ্রিক পরিবেশের স্পর্শ অনুভূতির গভীরতাগুলো মনে গেঁথে যেতে পারে না। ফলে ছবিটি হয়তো মেমোরি কার্ডে থেকে যায়। কিন্তু মস্তিষ্কের স্মৃতির অ্যালবামে থেকে যায় এক বিরাট শূন্যতা।
অতীতে ক্যামেরার ফিল্মের সীমাবদ্ধতা ছিল বলে মানুষ বুঝে-শুনে শুধু বিশেষ মুহূর্তের ছবি তুলত। কিন্তু স্মার্টফোনের যুগে ডিজিটাল স্টোরেজ আনলিমিটেড হওয়ায় একই দৃশ্যের ডজন ডজন ছবি তোলা এখন কোনো ব্যাপারই না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগৎ। ছবি তোলার মুহূর্তে আমরা অনেক সময় ভাবি, অন্যরা ছবিটি দেখে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে বা ছবিতে কেমন লাইক বা কমেন্ট আসবে। অর্থাৎ, কোনো মুহূর্তকে বাস্তবে উদ্যাপনের বদলে সেটিকে ইন্টারনেটের কনটেন্ট বানানোর প্রতিযোগিতায় নামি আমরা। এই বাহ্যিক প্রদর্শনের মানসিক চাপ বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়।
ছবি তোলা মানেই যে সব সময় স্মৃতি নষ্ট হওয়া, ব্যাপারটা এমন নয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কোনো বস্তু বা দৃশ্যের একটি বিশেষ খুঁটিনাটি অংশে জুম করে বা গভীরভাবে লক্ষ রেখে ছবি তুললে সেটি উল্টো স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। এ ছাড়া তোলার পর নিয়মিত সেই ছবিগুলো দেখা এবং বন্ধুদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প করলেও মস্তিষ্ক অনেক সময় সেই স্মৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে শক্ত করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা এই যান্ত্রিক ফাঁদ থেকে বের হতে ৮০ অনুপাত ২০ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ, যেকোনো সুন্দর মুহূর্তের প্রথম ৮০ শতাংশ সময় শুধু নিজের দু’চোখ দিয়ে উপভোগ করুন এবং অনুভূতির অভিজ্ঞতা নিন। আর বাকি ২০ শতাংশ সময় ছবি তোলার পেছনে ব্যয় করুন। আগে নিজের মনে ঘটনাটির ছবি আঁকুন, তারপর ফোনের স্ক্রিনে তা বন্দী করুন। মনে রাখবেন, প্রযুক্তি যেন আপনার স্মৃতির সহায়ক হয়, মূল স্মৃতির বিকল্প নয়।
সূত্র: সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স ও সায়েন্স ফোকাস

প্রতিবছর বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ একটি অচেনা কিন্তু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে প্রাণ হারান। তার নাম সেপসিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও এটি এখনো বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এটি শুধু শারীরিক জটিলতা নয়, বরং এটি জীবাণু এবং মানবদেহের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার এক চরম সংঘাতের ফল।
২ মিনিট আগে
ফুল, প্রজাপতি, মৌমাছি কিংবা সবুজ পাতার সৌন্দর্য—প্রকৃতির এই ছোট ছোট উপাদান এবার জায়গা করে নিচ্ছে নখের সাজে। নেইল আর্টের জগতে এখন আলোচনায় গার্ডেন-ইন্সপায়ারড ম্যানিকিউর। শুধু একটি ফুল এঁকে নখ সাজানো নয়, বরং পুরো বাগানের আবহ তুলে আনার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে এই ধারায়।
১৩ ঘণ্টা আগে
প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, রোমের কোলোসিয়াম কিংবা চোখধাঁধানো কোনো ক্যাফে। ভ্রমণ মানে ‘ছবির মতো সুন্দর’ এসব জায়গায় ঘুরে বেড়ানো। সেখানে থাকবে হাজারো পর্যটকের ভিড়। কিন্তু কোলাহলময় শহরের ঠিক পেছনেই যদি লুকিয়ে থাকে শত শত বছরের নীরব গল্প, ইতিহাস ও শিল্প?
১৫ ঘণ্টা আগে
গরমের দিনে স্বস্তি দিতে এয়ার কন্ডিশনের জুড়ি নেই। বাইরে যখন তীব্র গরম, তখন ঠান্ডা ঘরে বসে থাকা যেন প্রশান্তির অনুভূতি দেয়। কিন্তু সারাক্ষণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার আরামই হতে পারে ত্বকের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ। কারণ এসি ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। আর বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে...
১৭ ঘণ্টা আগে