Ajker Patrika

ওজন কমানোর জন্য গড়ে তুলুন ৯ অভ্যাস

ওজন কমানোর যাত্রাটা কোনো জাদুর কাঠি নয়। তীব্র ও কঠিন কোনো নিয়ম বেছে নিয়ে মাঝপথে হাল ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে এই ছোট ছোট বাস্তবসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। নিজের জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ১৪: ৩৮
ওজন কমানোর জন্য গড়ে তুলুন ৯ অভ্যাস
ওজন কমানোর জন্য গড়ে তুলুন ৯ অভ্যাস। ছবি: পেক্সেলস

ওজন কমানোর কথা শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে কঠিন ডায়েট চার্টের চিত্র। সঙ্গে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে ঘাম ঝরানো আর পছন্দের সব খাবার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিভীষিকা। কিন্তু জীবন ব্যস্ত হয়ে উঠলে এই বড় বড় পরিবর্তন ধরে রাখা কঠিন। এখানেই ম্যাজিকের মতো কাজ করে মাইক্রো-হ্যাবিট বা খুদে অভ্যাস। এগুলো এমন ছোট ও সহজ দৈনন্দিন কাজ; যেগুলো করতে বাড়তি কোনো ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু নিয়মিত চর্চায় দীর্ঘ মেয়াদে ওজন কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তাই জীবন এলোমেলো না করে ওজন কমানোর জন্য গড়ে তুলুন ৯ অভ্যাস। সেগুলোর রহস্য জেনে নিন এখানে।

সকাল হোক প্রোটিন দিয়ে

দিনের প্রথম খাবার বা ব্রেকফাস্টে প্রোটিনকে প্রাধান্য দিন। ডিম, গ্রিক দই, বাদাম কিংবা ওটসের মতো খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে দুপুরের আগে হুটহাট অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়।

খাওয়ার আগে পানি পান করুন

খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার পানি পান করলে তা দৈনিক প্রায় ১৭০ ক্যালরি পর্যন্ত গ্রহণ কমিয়ে দেয়। পানি পেট কিছুটা ভরিয়ে রাখে বলে ক্ষুধা কম অনুভব হয়।

ভাবুন, কোনটা খাচ্ছেন

‘আমি কি খেতে পারব না?’ এই চিন্তায় মানসিক ক্লান্তি বাড়ে। রাস্তায় চলার সময় অন্য কাউকে ফুচকা খেতে দেখলে ইচ্ছা জাগতেই পারে মনে। তবে নিজেকে বোঝান, এটা না খেয়ে এর মতো কী খেতে পারেন বাড়ি গিয়ে। ভাবুন, থালায় পুষ্টিকর কী যোগ করা যায়। প্রতি বেলার খাবারে একটু বেশি শাকসবজি, চর্বিহীন প্রোটিন বা ভালো চর্বি; যেমন বাদাম ও বীজ যোগ করুন। ভালো খাবার দিয়ে পেট ভরলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জায়গা এমনিতেই কমে আসবে।

অলস সময়ে একটু নড়াচড়া

ওজন কমাতে সব সময় ভারী ব্যায়ামের দরকার নেই। ওজন কমাতে জিমে যেতে হবে, ব্যাপারটা এমন নয়। এ জায়গায় লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, অল্প দূরত্বে রিকশায় না চড়ে হেঁটে যাওয়া কিংবা ট্রাফিক সিগন্যালে বসে থাকার সময় শরীর একটু স্ট্রেচ করা। এই ছোট ছোট কাজ সারা দিনের ক্যালরি পোড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।

নাশতার আগে ২০ সেকেন্ডের বিরতি

যখনই কোনো চিপস বা চকলেটের দিকে চোখ পড়বে, ঠিক ১০ থেকে ২০ সেকেন্ডের একটি বিরতি নিন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার কি সত্যিই ক্ষুধা পেয়েছে? নাকি আপনি বিরক্ত বা ক্লান্ত? যদি এটি শুধুই চোখের ক্ষুধা হয়, তবে মন অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিন।

ভালো খাবার চোখের সামনে রাখুন

ইচ্ছাশক্তির চেয়ে চারপাশের পরিবেশ বেশি কাজ করে। টেবিল বা বাসার এমন জায়গায় ফল, বাদাম বা কেটে রাখা সবজি রাখুন, যেখানে সহজে চোখ পড়বে। আর অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস চোখের আড়ালে বা এমন জায়গায় রাখুন, যেন সহজে হাত না পৌঁছায়। এতে অবচেতন মনে ভুল খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমে যাবে।

ধীরেসুস্থে চিবিয়ে খান

তাড়াহুড়ো করে খেলে পেট ভরে গেলেও মস্তিষ্ক তা সময়মতো টের পায় না। ফলে অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়। খাওয়ার সময় লোকমাটি মুখে দিয়ে ধীরে ধীরে চিবোতে থাকুন। খাবারের স্বাদ ও টেক্সচার অনুভব করুন। ধীরগতির খাওয়া তৃপ্তি বাড়ায় এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ থেকে বাঁচায়।

খাওয়ার পর ১০ মিনিট হাঁটুন

ভারী খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট আরামদায়ক গতিতে হাঁটুন। ২০২৫ সালের গবেষণা বলছে, খাওয়ার ঠিক পরপরই এই সংক্ষিপ্ত হাঁটা রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করে। এটি হজমে সাহায্য করে এবং শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখে।

আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন

সারা দিনে কত ক্যালরি খেলেন, তা মেপে অস্থির হওয়ার কিছু নেই। এর চেয়ে যেকোনো একটি ভালো অভ্যাস খেয়াল করুন। যেমন আজ ঠিকমতো সবজি খেয়েছেন কি না, কিংবা পানি পানের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কি না। এই ছোট ছোট কাজ আত্মবিশ্বাস জোগায়।

মোবাইল ফোন ও মাইন্ডলেস ইটিং বাদ দিন

খাওয়ার সময় মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকলে আমরা কগনিটিভ আউটসোর্সিং বা অবচেতন খাওয়ার শিকার হই। যন্ত্রটি দূরে রেখে পরিবারের সবার সঙ্গে গল্প করতে করতে খেলে শরীরের ক্ষুধার সঠিক সংকেত বোঝা সহজ হয়।

সূত্র: হেলথ লাইন, হেলথ শর্টস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত