মালয়েশিয়ায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে ক্ষুধায় মাথা ভোঁ ভোঁ করছিল। আমাদের গন্তব্য জোহর রাজ্যের রাজধানী জোহর বাহরু শহর, ঠিক সিঙ্গাপুরের পাশে। ঠিক করা হলো, রাস্তায় কিছু খেয়ে নেব। বিমানবন্দরের অদূরেই ম্যাকডোনাল্ডস পেয়ে গেলাম। ভ্রমণে যতটা পারা যায়, আঞ্চলিক খাবারের স্বাদ নেওয়া উচিত বলে মনে হয়। কিন্তু তখন সেসব না পেয়ে বিদেশি বার্গারেই কামড় বসাতে হলো। তখনই ঠিক করে ফেললাম, জোহর বাহরুতে পৌঁছে আগে নাসি গোরেং খেতে হবে। বুঝতে হবে, জনপ্রিয় এই আঞ্চলিক খাবার কেমন।
চার-পাঁচ ঘণ্টা আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে জেবিতে পৌঁছালাম। স্থানীয়রা জোহর বাহরুকে সংক্ষেপে জেবি নামে ডাকে। হোটেলে তল্পিতল্পা রেখে পাশের ধাবা মতো এক রেস্তোরাঁয় খেতে গেলাম। ক্ষুধা তখন চরমে। ফরমাশ করলাম নাসি গোরেং দাগিং। নাসি মানে ভাত, গোরেং মানে ভাজা আর দাগিং মানে গরুর মাংস। অর্থাৎ, সহজ ভাষায় বিফ ফ্রায়েড রাইস! ব্যাপক ক্ষুধা লাগার পরেও বুঝলাম, এই খাবার আমার জন্য নয়, রোচেনি মুখে। আমার সঙ্গে থাকা যাঁরা নাসি গোরেং আয়াম অর্থাৎ চিকেন ফ্রায়েড রাইস নিলেন, তাঁদেরও ছিল একই মত। একটা অজানা গন্ধে আমরা খেতে পারছিলাম না ঠিকমতো। তবে যাঁরা সি ফুড নাসি গোরেং নিলেন, তাঁরা মোটামুটি তৃপ্তি করে খেলেন।
মালয়েশিয়ার আঞ্চলিক খাবার খেতে পরদিন স্থানীয় এক পরিবারের নিমন্ত্রণ পেলাম। সেদিন বুঝলাম, সব রেস্তোরাঁর খাবার এক স্বাদের হয় না। সেখানকার বাসিন্দারা সহজে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না করেন না। রেস্তোরাঁ থেকে ফরমাশ করেন যেকোনো বেলার খাবার। কারণ, তাঁদের মতে সেখানে খাবারদাবারের দাম কম। সে জন্য রান্নার পেছনে সময় ব্যয় করার কোনো মানেই দেখেন না তাঁরা। সবখানে খাবারের দোকান কিংবা রেস্তোরাঁর দেখা মেলে।
যাহোক, সেদিন খেলাম জম্পেশ! নাসি লেমাক—মানে নারকেল দুধে রান্না ভাত। পান্দান লিভস কিংবা পোলাও পাতা ব্যবহার করে এই ভাতটায় সুঘ্রাণ যোগ করা হয়। ভাতটা আমরা খেলাম ভাজা সামুদ্রিক মাছ, ডুবো তেলে ভাজা চিনাবাদাম ও মচমচে শুঁটকি দিয়ে। শুঁটকিকে বলা হয় অ্যাঙ্কোভিস। বাদাম ও শুঁটকির এই পদটির নাম ইকান বিলিস। এর মূল আকর্ষণ সাম্বাল উদাং। এটি চিংড়ির একধরনের ঝাল-ঝাল ব্যঞ্জন।
ঝাল গ্রেভির নাম সাম্বাল আর বুঝতেই পারছেন, উদাং মানে চিংড়ি। আমরা বাংলাদেশিরা যেমন অতিথি এলে মাংসের পদ রান্না করি, জোহরবাসী তেমন রান্না করেন এই পদ। সঙ্গে আরও ছিল কচি শসার টুকরা ও তেলুর পিন্দাং। তেলুর পিন্দাং হলো বিশেষ প্রক্রিয়ায় সেদ্ধ করা ডিম। অনেকক্ষণ ধরে বিভিন্ন ধরনের মসলা, ভেষজ আর সয়া সস দিয়ে সম্পূর্ণ সেদ্ধ করা হয় তেলুর, মানে ডিম। সেদ্ধ করার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় পিন্দাং। এভাবে সেদ্ধ করা ডিম স্বাভাবিক তাপমাত্রায় অনায়াসে অন্তত দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে তো কথাই নেই। সেদ্ধ এই ডিম খোসার ভেতর কালচে-বাদামি রং ধারণ করে। পিন্দাং প্রক্রিয়ার জন্যই এমন রং হয় ডিমের। বিয়েশাদিতে অতিথিদের তেলুর পিন্দাং উপহার দেন জোহরের লোকেরা। এটা তাঁদের ঐতিহ্য। এমনভাবে ডিমগুলোকে সুন্দর করে নানা রকম নকশায় মুড়িয়ে দেওয়া হয় যে আপনার খেতেই ইচ্ছা করবে না; সাজিয়ে রাখতে মন চাইবে।
মালয় বাড়ির প্রতিটি খাবার বেশ সুস্বাদু লেগেছে আমাদের। ভরপেট খাওয়ার পর হাজির হলো মিষ্টান্ন—সেটি ছিল আবার দুই ধরনের। পরিবারের সদস্যরা জানালেন, এগুলো তাঁদের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন, জেলি-পুডিংজাতীয়, রঙিন। দুটোই খুব হালকা মিষ্টি। একটির নাম সেরি মুকা, মানে সুন্দর মুখ। দুই স্তরের এই মিষ্টান্নের নিচের স্তর আঠালো চাল ও নারকেলের দুধ দিয়ে তৈরি হয়। আর ওপরের স্তরটি পোলাও পাতার রস, ডিম এবং নারকেলের দুধ দিয়ে সবুজ রঙের কাস্টার্ড। দুটি স্তরই ভাপিয়ে তৈরি করা হয়। কী যে দারুণ খেতে কুইহ কাসউই পান্দান নামের দ্বিতীয় মিষ্টান্নটি! এটিও ভাপিয়ে তৈরি করা হয়। চালের গুঁড়া, শিমুল আলুর স্টার্চ ও তাজা পোলাও পাতার রস দিয়ে তৈরি সবুজরঙা এই মিষ্টান্ন খেতে হয় এর ওপরে নারকেলকুচি ছিটিয়ে। পানীয় হিসেবে পেলাম জিঞ্জার এল। যদিও এটি ঐতিহ্যবাহী কোনো পানীয় নয়, আদার স্বাদযুক্ত কোমল পানীয়; তবে এটি নাকি হজমে বেশ সহায়তা করে। তাই ওদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। খেতে আসলেই ভালো।
মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়—দেশি কিংবা বিদেশি। কোনোটা মুখরোচক, আবার কোনোটা মুখে রোচে না। আর কিছু না হলেও সেখানকার ডাবের সুমিষ্ট পানি এবং কচি শাঁস মন-প্রাণ জুড়িয়ে পেটও ভরিয়ে রাখে।
তবে ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবারের সন্ধান শুধু স্থানীয়রাই সঠিকভাবে দিতে পারেন। মালয় পরিবারের আতিথেয়তা যেমন মনে ধরেছে, তেমনি তাদের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার স্বাদকোরকে দাগ কেটেছে। আর সেই দাগ বয়ে নিয়ে এক পাশে সিঙ্গাপুর রেখে জোহর প্রণালির অন্য পাশ দিয়ে পড়ন্ত সূর্য দেখতে দেখতে আমরা হোটেলের উদ্দেশে ফিরে গেলাম।

একা ভ্রমণ বা সলো ট্রাভেল একজন পর্যটককে পূর্ণ স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন সব অভিজ্ঞতার আনন্দ দেয়। সেই অভিজ্ঞতার ঝুলি বাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর সেরা দেশ নির্বাচন করে থাকে। অনলাইন ভ্রমণ ম্যাগাজিন ‘ট্রাভেল+লিজার’ও তেমনি একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
২ ঘণ্টা আগে
বর্ষাকালে ঘুরতে যাওয়ার ঝক্কি আছে বৈকি! তবে এ সময় যখন-তখন বৃষ্টি নামে, পথে-ঘাটে কাদাপানি থাকে। সে কারণে বর্ষাকালের ভ্রমণ নিরাপদ এবং আরামদায়ক করতে সঙ্গে কী কী নিতে হবে, দেখে নিন...
২ ঘণ্টা আগে
এবারের মতো শেষ হয়ে গেছে ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু এর রেশ থেকে গেছে এখনো। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচটির হাফ-টাইম শো ছিল ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হাফ-টাইম শো। ফাইনাল ম্যাচটি শুধু মাঠের খেলার জন্যই নয়, বিশ্বমঞ্চে সংগীত, ফ্যাশন ও নাচের এক অ
১৪ ঘণ্টা আগে
যখন আপনি একা বোধ করেন এবং চারপাশের পৃথিবীটাকে অন্ধকার ও এলোমেলো মনে হয়, তখন অসহায় লাগে, তাই না? মন খুলে কারও সঙ্গে কথা বলবেন, সেটাও হয়তো পারছেন না। আজকাল মানুষের সঙ্গে সত্যিকারের আত্মিক যোগাযোগ একদম কমে গেছে, কারণ, অনলাইনের অগভীর সম্পর্কগুলো কেবল ‘লাইক’, ‘কমেন্ট’ ও ‘ইমোজি’র মাধ্য়মেই এখন বেশি সরব।
১৭ ঘণ্টা আগে