
আপনি কি এমন কারও প্রেমে পড়েছেন, যাঁর চিন্তায় সারা দিন ব্যাকুল হয়ে থাকেন? যাঁর একটা খুদে বার্তা বা সামান্য হাসির ওপর নির্ভর করে আপনার সারা দিনের মেজাজ? কিংবা যাঁর কাছ থেকে সামান্য অবহেলা পেলেই আপনার মনে হয় পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে! সাধারণ দৃষ্টিতে একে অতি-রোমান্টিকতা মনে হলেও মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই তীব্র ও ঘোরের মতো অবস্থাকে বলা হয় লিমেরেন্স। এটি কোনো সাধারণ ভালো লাগা বা সুস্থ ভালোবাসা নয়, বরং এটি একটি অবসেসিভ বা আচ্ছন্ন মানসিক অবস্থা, যা অনেক সময় মানুষকে বাস্তবে বাঁচতে দেয় না।
১৯৭৯ সালে আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী ডরোথি টেনোভ তাঁর গবেষণায় প্রথম ‘লিমেরেন্স’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তাঁর মতে, লিমেরেন্স হলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি একধরনের অনিয়ন্ত্রিত, তীব্র ও মোহাচ্ছন্ন আকর্ষণ। যাঁকে নিয়ে এই অনুভূতি তৈরি হয়, তাঁকে মনোবিজ্ঞানে লিমেরেন্ট অবজেক্ট বলা হয়। লিমেরেন্সে পড়া একজন মানুষ সারাক্ষণ সেই প্রিয় মানুষের ভাবনায় বুঁদ হয়ে থাকেন। সেখানে ব্যক্তির বাস্তব গুণাবলির চেয়ে তাঁকে ঘিরে তৈরি করা মোহের রাজ্য প্রাধান্য পায়।
সুস্থ ভালোবাসা ও লিমেরেন্সকে অনেকে এক করে ফেলেন। কিন্তু দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
স্বার্থহীনতা বনাম স্বীকৃতি: প্রকৃত ভালোবাসায় সঙ্গীর ভালো-মন্দ ও তার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু লিমেরেন্সে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রধান লক্ষ্য থাকে যেকোনো মূল্যে অপর পক্ষ থেকে সাড়া বা আবেগপূর্ণ স্বীকৃতি পাওয়া।
বাস্তবতা বনাম কাল্পনিক জগৎ: ভালোবাসায় মানুষের ভুলত্রুটিসহ তাকে গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে লিমেরেন্সে প্রিয় মানুষকে একদম নিখুঁত বা পারফেক্ট মনে করা হয় এবং তার বাস্তব ভুলগুলোকে মন এড়িয়ে চলে।
স্থায়িত্ব: লিমেরেন্স সাধারণত স্থায়ী হয় না। এটি কয়েক মাস থেকে শুরু করে ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অন্য পক্ষ থেকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান পেলে বা কোনো কারণে সেই মোহ ভেঙে গেলে এই অনুভূতি হুট করে মিলিয়ে যায়।
লিমেরেন্সে পড়া মানুষের ক্ষেত্রে বেশ কিছু স্পষ্ট শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেগুলোর মধ্যে আছে—
অনবরত সেই মানুষকে ভাবা: দিনের বেশির ভাগ সময় সেই মানুষের কথা ভাবা এবং তাঁর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি ঘটনা বা কথা বারবার মনে করা।
শারীরিক প্রতিক্রিয়া: তাঁর সামনে গেলে বা তাঁর কথা ভাবলে হৃৎকম্পন বেড়ে যাওয়া, হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা বা ক্ষুধা না লাগা।
আবেগের ওঠানামা: অন্য পক্ষ থেকে একটু গুরুত্ব পেলে চরম আনন্দ এবং সামান্য উদাসীনতা দেখলেই গভীর হতাশায় ডুবে যাওয়া।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, লিমেরেন্স মূলত মস্তিষ্কের ডোপামিন ও সেরোটোনিন হরমোনের তারতম্যের কারণে ঘটে। অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে যেমন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, লিমেরেন্সের ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই। এ ছাড়া শৈশবে ভালোবাসার অভাব বা একাকিত্বে ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে বড় হয়ে লিমেরেন্সে পড়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
লিমেরেন্স মানুষের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম, ক্যারিয়ার ও অন্যান্য সামাজিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি থেকে উত্তরণের কিছু সহজ উপায় হলো—
বাস্তবতা স্বীকার করা: অনুভূতির ঘোর থেকে বের হয়ে সেই মানুষের বাস্তব রূপ এবং সম্পর্কের সীমাবদ্ধতাগুলো ঠান্ডা মাথায় বোঝার চেষ্টা করুন।
যোগাযোগ কমানো: সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে বারবার দেখা বা মেসেজ দেওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
নিজের দিকে নজর দেওয়া: নিজের শখ, কর্মজীবন ও স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ দিন এবং অন্য বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান।
কারও প্রতি আকর্ষিত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তা আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নিলে সতর্ক হওয়া জরুরি। লিমেরেন্স কোনো স্থায়ী ভালোবাসা নয়, বরং একটি ক্ষণস্থায়ী মানসিক ঘোর। এই ব্যবধানটুকু বুঝতে পারলেই একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে ও অন্যান্য

শরতের সকালে গোসল করে বাইরে বের হওয়ার পরও অফিসে পৌঁছতে পৌঁছতে ঘেমে একাকার অবস্থা হচ্ছে। অনেকে বৃষ্টির দিনের মতো এই মৌসুমেও অফিসে এক সেট বাড়তি কাপড় রাখছেন। তবে যাঁরা অতিরিক্ত ঘামেন এবং মাথার ত্বক থেকে পায়ের তালু অব্দি দীর্ঘ সময় ঘেমে থাকে, তাঁরা ডাক্তারি পরীক্ষা তো করাবেনই, পাশাপাশি...
৩ ঘণ্টা আগে
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হওয়া একটি সাধারণ বিষয়। জ্বর চলাকালে আমরা শরীরের যত্ন নিলেও জ্বর সেরে ওঠার পর অনেকেই এক নতুন সমস্যায় পড়েন। আয়নার সামনে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে ত্বকের শুষ্কতা, ঠোঁট ফেটে যাওয়া, চোখের নিচে কালো দাগ এবং মাথায় চিরুনি চালালেই গোছা গোছা চুল উঠে আসার সমস্যা এখন ঘরে
৫ ঘণ্টা আগে
মেকআপ না থাকা সত্ত্বেও ঝলমলে ত্বক, টাইট করে বাঁধা চুল, সুতির সাদা টি-শার্ট আর হাতে এক কাপ মাচা চা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েক বছর ধরে রাজত্ব করছে ‘ক্লিন গার্ল’ নান্দনিকতা। আর এখন এই ধারার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘বেয়ার নেলস’ বা নেল পলিশ ছাড়া খালি নখের ফ্যাশন।
৬ ঘণ্টা আগে
পূজার আমেজ ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। পোশাক-আশাকের বিজ্ঞাপন ও ছাড়ের বার্তা বলে দিচ্ছে আনন্দের কথা। আর উৎসবের প্রস্তুতিতে ঘরদোর একদম ঝকঝকে-তকতকে রাখা চাই। পূজার ঠিক আগের দিনগুলোতে রান্নাবান্না, নতুন পোশাক আর মণ্ডপে ঘোরার ব্যস্ততা থাকে। তাই শেষ মুহূর্তের ধকল এড়াতে এখন থেকেই একটু একটু করে ঘর ডিপ ক্লিন...
৭ ঘণ্টা আগে