
ওজন কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকে কিছুদিন কড়া ডায়েট বা ব্যায়াম করার পর হঠাৎ সব আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। স্কেলের ওপর দাঁড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ওজন না দেখলে মনে হয় পুরো প্রচেষ্টাই বৃথা। মনে হতে থাকে, কী লাভ হচ্ছে! এত কষ্ট করছি, সেই হিসাবে ওজন কমছে না। আবার কেউ কেউ ভাবেন, কী আর আছে জীবনে, খেয়ে পরে বেঁচে থাকি বাপু!
আমরা অনেকে ভাবি, ওজন না কমার পেছনে শুধু খাদ্যাভ্যাস বা অলসতাই দায়ী। কিন্তু জানেন তো, এ ক্ষেত্রে আসল খেলাটি খেলে আমাদের মস্তিষ্ক? কঠোর ডায়েট বা অতিরিক্ত কড়াকড়ি শুরু করলে মস্তিষ্ক এটিকে অস্তিত্বের সংকট বা বেঁচে থাকার হুমকি হিসেবে ধরে নেয়। আর তখনই সে আপনার ওজন কমানোর চেষ্টা নিজেই থামিয়ে দেয়। মূলত বিবর্তনের ইতিহাস এবং মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু বায়োলজিক্যাল সুইচের কারণেই এই বাধার সৃষ্টি হয়।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অংশটি হলো হাবেনুলা। এটি মস্তিষ্কে ডোপামিন বা সন্তুষ্টির হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটিকে মস্তিষ্কের মোটিভেশন সুইচ বা প্রেরণা বন্ধের চাবিকাঠি বলা চলে।
লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার প্রভাব
কেউ যখন কড়া নিয়ম মেনে ওজন মাপার যন্ত্র বা ক্যালরির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল পায় না, তখন লেটারাল হাবেনুলা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি ডোপামিন কমিয়ে দেয়, ফলে ব্যক্তি তাঁর কাজের আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন।
মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ
একবার কোনো ডায়েটে ব্যর্থ হলে হাবেনুলা ভবিষ্যতে আর চেষ্টা না করার জন্য সংকেত পাঠাতে থাকে। যেমন তুমি তো আগেও ব্যায়াম করে কাজ পাওনি, শুধু শুধু কষ্ট করার দরকার নেই। এর ফলে শুরু হয় অনাকাঙ্ক্ষিত ইয়ো-ইয়ো ডায়েটিং বা বারবার ওজন কমানো এবং পুনরায় বেড়ে যাওয়ার চক্র।
মানব মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট সেট পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট ওজনের স্কেল থাকে। এটা মস্তিষ্ক রক্ষা করতে চায়। গ্রেলিন ও লেপটিন নামের হরমোন দুটি ক্ষুধা ও তৃপ্তির বার্তা পাঠায়। রক্তে লেপটিনের মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্ক শরীরকে বেশি খেতে প্ররোচিত করে। আবার আদিম মানুষের ক্ষেত্রে চর্বি বা ফ্যাট রক্ষা করা ছিল জীবন বাঁচানোর উপায়। খাবার কম পেলে শরীর শক্তি বাঁচিয়ে রাখত। নোভো নরডিস্ক ফাউন্ডেশন সেন্টার ফর বেসিক মেটাবলিক রিসার্চ থেকে প্রকাশিত এবং ‘সেল’ সাময়িকীতে ছাপা এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক মানুষের মস্তিষ্ক তার আগের সর্বোচ্চ ওজনটি মনে রাখে। এরপর তা শরীরকে সব সময় সেই আগের ভারী ওজনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
‘সাইকোলজি টুডে’ এবং সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোর মতে, ওজন কমানো শুধু ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়। এটি বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়া। মস্তিষ্ককে ফাঁকি দিয়ে টেকসই অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কঠোর ডায়েট না করে এমন ছোট ছোট পরিবর্তন আনা উচিত, যা দীর্ঘ মেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব। স্কেলের নম্বরের দিকে না তাকিয়ে নিজের প্রচেষ্টার ওপর নজর দেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং কম ঘুম ক্ষুধা বাড়ায়। নিজের প্রতি সন্তুষ্ট মনোভাব রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক চর্চা করা মস্তিষ্কের এই ক্ষতিকর সুইচের সক্রিয় হওয়া প্রতিহত করে।
স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন শুধু কোনো ব্যক্তির একক সমস্যা নয়। এর মূল কারণগুলো দূর করতে পুরো সমাজভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন। বেশ কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন—
বিজ্ঞানীরা জীবনের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছেন। যেমন গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শিশুর প্রায় সাত বছর বয়স পর্যন্ত। এ সময় একটি শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিশেষভাবে সংবেদনশীল ও গঠনযোগ্য থাকে। প্রকৃতপক্ষে, বাবা-মা কী খাচ্ছেন, শিশুদের কীভাবে খাওয়ানো হচ্ছে এবং শৈশবের জীবনযাত্রার ধরন—সবই ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের ক্ষুধা এবং মেদ জমানোর প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ বছরের জন্য নির্ধারণ করে দেয়। আপনি তাই, যা আপনার বাবা-মা খান।
দ্রুত ওজন কমানোর বা ক্র্যাশ ডায়েটের দিকে নজর না দিয়ে সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখে—এমন টেকসই অভ্যাসের দিকে নজর দিন। পর্যাপ্ত ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্যদিকে নিয়মিত হাঁটাচলার মতো শারীরিক কার্যকলাপও রক্তে শর্করার মাত্রা ও হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে। মূলকথা হলো, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং এটি আমাদের মস্তিষ্ক, জিন এবং চারপাশের পরিবেশ দিয়ে নির্ধারিত একটি শারীরবৃত্তীয় অবস্থা। আশার কথা হলো, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং ফার্মাকোলজির অগ্রগতি চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, আর প্রতিরোধমূলক কৌশলগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
তাই আপনি যদি ওজন কমানো এবং তা ধরে রাখা নিয়ে লড়াই করে থাকেন, তবে জেনে রাখুন, আপনি একা নন এবং এটি আপনার কোনো দোষ নয়। মস্তিষ্ক এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও বুদ্ধিদীপ্ত নীতির সাহায্যে আমরা এই খেলার নিয়ম বদলাতে শুরু করেছি।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, দ্য কনভারসেশন, দ্য ডেইলি ডাইজেস্ট

মেদ ঝরিয়ে সুস্থ ও সুস্থির জীবন পেতে অনেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের ওপর জোর দেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যায়ামের ভূমিকা থাকলেও সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনিক ক্যালরির হিসাব।
১৭ মিনিট আগে
একই প্লেটে একসঙ্গে ভাত, মাংস আর মচমচে রুটি—শুনতে সাধারণ মনে হলেও মিসরের ঐতিহ্যবাহী ফাত্তা-তে এই উপকরণগুলো পায় একেবারে ভিন্ন স্বাদ। সুগন্ধি মসলা দিয়ে ধীরে ধীরে রান্না করা গরুর মাংস, ঝরঝরে ভাত, মসলা মাখানো মচমচে পিটা রুটি এবং রসুন-ভিনেগারের ঝাঁজালো সস—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং মিসরীয়...
৩ ঘণ্টা আগে
অনুষ্ঠান পার্বণে তো বটেই, কেউ কেউ এমনি শখের বশে খোঁপায় জড়িয়ে নেন ফুল। আর কনের খোঁপা বাঁধার কথায় ফুলের বিকল্প কে ভেবেছে আজ পর্যন্ত! যেকোনো রঙের ফুলই মানিয়ে যায় খোঁপায়। গুছিয়ে বাঁধা একটি খোঁপা, তার চারপাশে ফুটে থাকা কয়েকটি ফুল এই হালকা সাজেই কখনো তৈরি হয় স্নিগ্ধতা, কখনো রাজকীয়তা, আবার কখনো মিশে...
১৪ ঘণ্টা আগে
আমরা ধরে নিই, বিয়ের আগে ভালো করে চিনলেই সংসার টিকে যাবে। কিন্তু প্রেমের মানুষ আর সংসারের মানুষ সব সময় এক নয়। প্রেমে আমরা একে অপরের সবচেয়ে সুন্দর সময়টুকু দেখি। সংসারে দেখি সবচেয়ে ক্লান্ত সময়টা, যখন মাসের হিসাব মেলে না, অফিস থেকে ফিরে কথা বলার শক্তিটুকুও থাকে না, আর দুই পরিবারের প্রত্যাশা দুই দিক...
১৫ ঘণ্টা আগে