ওজন কমানোর নামে খাবার তালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সবার আগে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি কতটুকু বৈজ্ঞানিক?
খাবারের প্রধান উপাদান ছয়টি–শর্করা, আমিষ বা প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ ও পানি। এগুলোর মধ্যে শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবার শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে।
ফলে ডায়েটের নামে খাদ্যতালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া মোটেও উচিত নয়। দেশ অঞ্চলভেদে মানুষের প্রধান খাবার ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশির ভাগ মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। গম ও ভুট্টা বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের প্রধান খাবার। মাংস, আলু ও পাস্তা ইউরোপ কিংবা আমেরিকার মতো অঞ্চলে বেশি প্রচলিত।
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে আমাদের শরীরের কোষের কর্মকাণ্ডের বিবর্তন ঘটে। আমরা যখন একধরনের খাবার দীর্ঘ সময় ধরে খেতে থাকি, তখন আমাদের কোষগুলোর কর্মকাণ্ড ওই খাবারকে ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে। আমরা ৬ মাস বয়সের পর থেকে প্রধান খাবার হিসেবে ভাত বা ভাতজাতীয় শর্করা খেতে অভ্যস্ত। আবার আমাদের দেশের মায়েরাও গর্ভাবস্থায় একই ধরনের খাবার খেতে অভ্যস্ত। সে জন্য আমাদের কোষের কর্মকাণ্ডে শর্করার প্রভাব বেশি। ফলে শর্করা একেবারে বাদ দিলে কোষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এটি আমাদের জ্বালানি। নিয়ম হচ্ছে শর্করা খেয়ে সেটা পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে। কিন্তু আমরা বেশি পরিমাণে এটি খেলেও তার সবটুকু ব্যয় করার মতো শারীরিক পরিশ্রম করি না। সমস্যাটা এখানেই।
করণীয় কী
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুই মেপে করি। কিন্তু খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে খুব উদাসীন থাকি। সুস্বাদু হলে পরিমাণে বেশি খাই, না হলে খাই না। খাবার খাওয়া নিয়ে আমাদের এমন অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে হবে। খাবার সব সময় পরিমিত খেতে হবে। এমনকি পানিও অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। সময় ও বয়সের সঙ্গে শর্করার ধরন এবং পরিমাণ মানিয়ে নিতে হবে। সে সঙ্গে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী শর্করা বাছাই করা শিখতে হবে।
যেসব শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি, সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন চিনি, গুড়, ময়দা, সাদা আটা, নুডলস, আতপ চাল, চালের আটা বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। অন্যদিকে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সসমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল আটা, লাল চাল, ওটস, বার্লি, বার্লিফ্ল্যাক্স, পপকর্ন বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। অর্থাৎ খাবারের গুণাবলি ও পরিমাণ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।
শর্করা বন্ধ করলে যেসব সমস্যা হয়
তাই যেকোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে সবার আগে শর্করাজাতীয় খাবারের ওপরে ছুরি চালাবেন না। আপনার বয়স, ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করে জটিল শর্করা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ওজন কমানোর জন্য শর্করা পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর উৎস থেকে এটি গ্রহণ করা উচিত। প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

স্বাস্থ্যখাতে চীনের চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করে তা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিট ও সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা চান।
১ দিন আগে
রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
৩ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
৩ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
৪ দিন আগে