Ajker Patrika

ওজন কমানো মানেই শর্করা বাদ নয়

মো. ইকবাল হোসেন
ওজন কমানো মানেই শর্করা বাদ নয়

ওজন কমানোর নামে খাবার তালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সবার আগে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি কতটুকু বৈজ্ঞানিক?

খাবারের প্রধান উপাদান ছয়টি–শর্করা, আমিষ বা প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ ও পানি। এগুলোর মধ্যে শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবার শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে।

ফলে ডায়েটের নামে খাদ্যতালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া মোটেও উচিত নয়। দেশ অঞ্চলভেদে মানুষের প্রধান খাবার ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশির ভাগ মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। গম ও ভুট্টা বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের প্রধান খাবার। মাংস, আলু ও পাস্তা ইউরোপ কিংবা আমেরিকার মতো অঞ্চলে বেশি প্রচলিত।

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে আমাদের শরীরের কোষের কর্মকাণ্ডের বিবর্তন ঘটে। আমরা যখন একধরনের খাবার দীর্ঘ সময় ধরে খেতে থাকি, তখন আমাদের কোষগুলোর কর্মকাণ্ড ওই খাবারকে ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে। আমরা ৬ মাস বয়সের পর থেকে প্রধান খাবার হিসেবে ভাত বা ভাতজাতীয় শর্করা খেতে অভ্যস্ত। আবার আমাদের দেশের মায়েরাও গর্ভাবস্থায় একই ধরনের খাবার খেতে অভ্যস্ত। সে জন্য আমাদের কোষের কর্মকাণ্ডে শর্করার প্রভাব বেশি। ফলে শর্করা একেবারে বাদ দিলে কোষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এটি আমাদের জ্বালানি। নিয়ম হচ্ছে শর্করা খেয়ে সেটা পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে। কিন্তু আমরা বেশি পরিমাণে এটি খেলেও তার সবটুকু ব্যয় করার মতো শারীরিক পরিশ্রম করি না। সমস্যাটা এখানেই।

করণীয় কী

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুই মেপে করি। কিন্তু খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে খুব উদাসীন থাকি। সুস্বাদু হলে পরিমাণে বেশি খাই, না হলে খাই না। খাবার খাওয়া নিয়ে আমাদের এমন অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে হবে। খাবার সব সময় পরিমিত খেতে হবে। এমনকি পানিও অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। সময় ও বয়সের সঙ্গে শর্করার ধরন এবং পরিমাণ মানিয়ে নিতে হবে। সে সঙ্গে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী শর্করা বাছাই করা শিখতে হবে।

যেসব শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি, সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন চিনি, গুড়, ময়দা, সাদা আটা, নুডলস, আতপ চাল, চালের আটা বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। অন্যদিকে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সসমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল আটা, লাল চাল, ওটস, বার্লি, বার্লিফ্ল্যাক্স, পপকর্ন বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। অর্থাৎ খাবারের গুণাবলি ও পরিমাণ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।

শর্করা বন্ধ করলে যেসব সমস্যা হয়

  • শারীরিক দুর্বলতা এবং ক্লান্তি দেখা দেয়।
  • শরীর দ্রুত চর্বি ভাঙতে শুরু করে, যা কেটো ফ্লু (মাথাব্যথা, ক্লান্তি) এবং অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
  • মস্তিষ্ক গ্লুকোজ ব্যবহার করে। এর অভাবে কাজে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে।
  • প্যানক্রিয়াস দুর্বল হয়ে এর স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে।
  • সেরোটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়। ফলে মেজাজ হারানো এবং মুড সুইং হয়ে থাকে।
  • চুল পড়া বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।
  • ডায়াবেটিক ব্যক্তির হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দিতে পারে।

তাই যেকোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে সবার আগে শর্করাজাতীয় খাবারের ওপরে ছুরি চালাবেন না। আপনার বয়স, ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করে জটিল শর্করা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ওজন কমানোর জন্য শর্করা পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর উৎস থেকে এটি গ্রহণ করা উচিত। প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ: মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

শেরপুরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত, আহত ৫

তিন বাহিনীর ১৪১ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি

‘ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমিরকে টাকা বহনে অনাপত্তি দিয়েছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ’

গোপালগঞ্জে ৪ ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ

চন্দনাইশে গভীর রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১০ লাখ টাকাসহ মাইক্রোবাস জব্দ, আটক ৩

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত