Ajker Patrika

ঘুম যেভাবে সুন্দর রাখে ত্বক, জেনে নিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
ঘুম যেভাবে সুন্দর রাখে ত্বক, জেনে নিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের ভালো ঘুম আমাদের ত্বকের জন্য বিস্ময়করভাবে উপকারী হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

পর্যাপ্ত ঘুমালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, এ কথা কম-বেশি সবাই শুনেছেন। বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের ভালো ঘুম আমাদের ত্বকের জন্য বিস্ময়করভাবে উপকারী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) পরামর্শ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত সুফলের জন্য ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

সিডিসি আরও উল্লেখ করেছে, ঘুমের সঠিক অভ্যাস একজন ব্যক্তির টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে।

ত্বকের যত্নের রুটিনে ঘুম কেন অপরিহার্য, সে সম্পর্কে কথা হয়েছে কসমেটোলজিস্ট ও শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহার সঙ্গে। ঘুমের অভাবে ত্বকের কী ক্ষতি হয় এবং ঘুমের মাধ্যমে কীভাবে ত্বকের উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে জানিয়েছেন তিনি।

ঘুমের অভাব কীভাবে ত্বককে প্রভাবিত করে

শোভন সাহা বলেন, ‘চোখের নিচের কালো দাগ এমন একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ, যা থেকে বোঝা যায়, কেউ রাত জেগে কাজ করছে। তা ছাড়া পর্যাপ্ত না ঘুমালে ত্বক শুষ্ক এবং গাল বসে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এগুলোর বেশির ভাগই ক্লান্তির কারণে সৃষ্ট পানিশূন্যতার ফল।’

আমরা মনে করি, খুব কম পানি পানের ফলে পানিশূন্যতা হয়। কিন্তু শোভন সাহা জানান, ঘুম কম হলেও এটি হতে পারে। ঘুমের অভাব হলে ত্বকের আর্দ্রতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে ত্বকের উন্নতি হয়

আপনার হয়তো সকাল ও সন্ধ্যায় ত্বকের যত্নের নির্দিষ্ট রুটিন আছে, তাতে অন্তত একটি ক্লিনজার, ময়শ্চারাইজার ও এসপিএফ থাকে। শোভন সাহা জানান, ত্বকের যত্নের রুটিনে পর্যাপ্ত ঘুম যুক্ত করতে পারলে বাড়তি কসরত কম করতে হয়।

রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করে ভালো মানের ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করে তারপর ঘুমাতে হবে। এভাবে ঘুমালে ঘুমের গভীর পর্যায়ে শরীর বেশি মাত্রায় কোলাজেন তৈরি করতে পারে। এই কোলাজেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে এবং বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমের সময় ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ও কোষ বিভাজনের হার বেড়ে যায়। এ প্রক্রিয়া সারা দিনের রোদের ক্ষতি ও দূষণ থেকে ত্বক দ্রুত পুনরুদ্ধার করে। পর্যাপ্ত ঘুম ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে ব্রণ ও চোখের নিচের কালো দাগের সমস্যা দূর হয়। ঘুম ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ত্বক শুষ্ক ও মলিন হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

ত্বকের ওপর বিছানার চাদর ও বালিশের প্রভাব রয়েছে

শোভন সাহা বলেন, ‘আপনি কখন এবং কতক্ষণের জন্য বিছানায় মাথা রাখছেন, শুধু সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং কিসের ওপর মাথা রাখছেন সেটাও জরুরি।’ তিনি সাটিনের চাদর ও বালিশের কভার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। বিশেষ করে যাদের ব্রণ বা সংবেদনশীল ত্বক আছে অথবা যারা পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে ঘুমান, তাদের জন্য সাটিনের চাদর ও বালিশের কভার ভালো কাজ করে।

শোভন সাহা বলেন, ‘এই বালিশের কভার এবং চাদরগুলো সুতির কাপড়ের চেয়ে কোমল। এই কাপড়গুলো বেশি উপকারী, কারণ, সংবেদনশীল ত্বকে সুতি কাপড়ের ঘর্ষণ বেশি প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা ব্রণ, একজিমা বা অন্যান্য ত্বকের সমস্যাকে আরও খারাপ করে তোলে।’

মুখ ও চুলের প্রাকৃতিক তেল এবং ব্যাকটেরিয়া রাতারাতি আপনার বালিশের কভারে জমে সেটিকে ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন ক্ষেত্র বানিয়ে তোলে। সুতির কাপড় সেই তেল ও ব্যাকটেরিয়ার ময়লা শোষণ করে। ফলে এ কাপড়ে তৈরি বালিশের কভার ব্রণ-প্রবণ ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠার আশঙ্কা বেশি। সাটিনের বালিশের কভার এবং চাদর কম আর্দ্রতা ও ময়লা শোষণ করে। ফলে ব্রণ-প্রবণ বা সংবেদনশীল ত্বকের ওপর এর প্রভাব কমে যায়। শোভন সাহা জানান, সাটিনের মসৃণ কভার ও চাদর ব্যবহারে ঘুমের মান এবং সময়সীমা বাড়ে, এটি বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত