Ajker Patrika

কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখবেন কীভাবে

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখবেন কীভাবে
কোরবানির মাংসের সঠিক পুষ্টি ও স্বাদ বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি হলো বায়ুরোধী প্যাকেজিং, সঠিক তাপমাত্রা এবং নিরাপদ উপায়ে বরফ গলানো। ছবি: পেক্সেলস

কোরবানির ঈদে অনেক বেশি মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ করার প্রয়োজন পড়ে। সঠিক পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ না করলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। মাংস সংরক্ষণের জন্য সবার আগে যে কাজ করা প্রয়োজন, সেটি হলো ফ্রিজ পরিষ্কার করা। ফ্রিজে জমা বরফ পরিষ্কার না করলে ভেতরের জায়গা কমে যায়। তা ছাড়া আগের মাছ ও মাংসের গন্ধ থাকলে ফ্রিজের ভেতরের তরতাজা ভাব আর থাকে না। তাই দীর্ঘদিন মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ পরিষ্কার থাকা খুবই জরুরি। জেনে নিন, কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখবেন কীভাবে —

ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের পদ্ধতি

  • কোরবানির মাংস প্যাকেজিংয়ের আগে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। মাংস থেকে পানি ঝরে গেলে ভালো মানের মোটা পলিথিন বা প্লাস্টিকের প্যাকেটে রেখে, ভালোভাবে মুখ পেঁচিয়ে বা বন্ধ করে ফ্রিজে রাখতে হবে। তবে প্যাকেটগুলো আয়তাকার পাতলা করে প্যাক করুন। এতে ফ্রিজে সাজিয়ে রাখতে সুবিধা হবে।
  • কোরবানির তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত মাংস শক্ত থাকে। এই সময় মাংস ফ্রিজে না রাখা ভালো। পরে খানিকটা নরম হলে মাংস সংরক্ষণ করতে হবে।
  • মাংস কাটার পর ঘরে এনেই ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখা যাবে না। এ সময় মাংস অনেকটা গরম থাকে বলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পর ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করা উচিত।
  • মাংস সংরক্ষণের আগে অবশ্যই চর্বি সরিয়ে রাখতে হবে। মাংসে যতটা কম চর্বি থাকবে, তা বেশি দিন সংরক্ষণ করা যাবে।
  • ফ্রিজে মাংস রাখার পর তাপমাত্রা কমিয়ে দিতে হবে। এতে মাংস তাড়াতাড়ি জমে যাবে।
  • ফ্রিজে মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে মাইনাস ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাংস রাখলে পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে।
  • মাংসের প্যাকেটের গায়ে তারিখ লিখে রাখুন। এতে মাংসগুলো কত দিন সংরক্ষণ করা হয়েছে, সেটা বোঝা যাবে।

ফ্রিজ ছাড়াও মাংস সংরক্ষণ করা যায়

ফ্রিজ ছাড়াও অন্য উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করা যায়। আগেকার দিনে যখন ফ্রিজ ছিল না, তখন নানা উপায়ে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করা হতো। জেনে নিন নিরাপদ কয়েকটি উপায়—

  • মাংস কেটে ভালোভাবে পরিষ্কার করে আদা, রসুন ও পেঁয়াজবাটা বেশি করে দিয়ে ডুবানো তেলে মাংস ছেড়ে দিন। ভালোভাবে সেদ্ধ করুন, যাতে মাংসের ভেতরে মসলা ঢুকে যায়। তবে খেয়াল রাখবেন, মাংস যাতে নরম হয়ে না যায়। এক দিন পর মাংসগুলো গরম করুন। ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত এগুলো ভালো থাকবে।
  • মাংস লম্বা লম্বা করে টুকরো করুন। এরপর লবণ ও হলুদ মেখে রোদে শুকিয়ে নিন। এটি তেলে ভেজেও খেতে পারেন। তবে রান্নার আগে মাংসগুলো ভিজিয়ে নিন।
  • মাংসের টুকরোগুলো কাঁটা চামচ বা ছুরি দিয়ে কেচে নিন। এরপর লবণ ও লেবুর রসে ডুবিয়ে নিন, যাতে ভালোভাবে এই মিশ্রণ মাংসের ভেতরে ঢোকে। এভাবে রাখলেও মাংস অনেক দিন ভালো থাকে।
  • সিরকা বা ভিনেগারে ডুবিয়েও মাংস সংরক্ষণ করা যায়। প্রথমে দু-তিন কেজি মাংসে ৪ টেবিল-চামচ বিট লবণ ও ৪ টেবিল-চামচ বাদামি চিনি মাখিয়ে নিতে হবে। পরে ১ লিটার সিরকা বা ভিনেগারে মাংস পুরোপুরি ডুবানো অবস্থায় ঢেকে রেখে দিতে হবে। তবে ৬ মাসের মধ্যে এই মাংস খেয়ে ফেলা ভালো।

কোন মাংস কত দিন ফ্রিজে ভালো থাকে

শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাংস টেকনিক্যালি অনির্দিষ্টকালের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে দীর্ঘদিন রাখলে এর স্বাদ ও গুণগত মান কমতে থাকে। নিচে বিভিন্ন ধরনের মাংসের আদর্শ সময়সীমা দেওয়া হলো।

কাঁচা বা তাজা মাংস

কিমা করা মাংস: কাঁচা হ্যাম বার্গার মিট, গবাদিপশু বা ভেড়ার কিমা ৩ থেকে ৪ মাস ভালো থাকে।

গরু, বাছুর ও ভেড়ার আস্ত মাংস: স্টেক ৬ থেকে ১২ মাস, রোস্টের মাংস ৪ থেকে ১২ মাস এবং চপের মাংস ৪ থেকে ৬ মাস ভালো থাকে।

অন্যান্য অংশ: কলিজা, জিহ্বা ও ভুঁড়ি ৩ থেকে ৪ মাস ফ্রিজে রাখা যায়।

বেকন ও সসেজ: বেকন ১ মাস এবং কাঁচা সসেজ ১ থেকে ২ মাস রাখা যায়।

হাঁস-মুরগি: আস্ত মুরগি ১২ মাস, কাটা অংশ ৯ মাস এবং গিবলেটস বা কলিজা ও গিলা ৩ থেকে ৪ মাস সংরক্ষণ করা যায়।

মাছ: চর্বিহীন মাছ ৬ থেকে ৮ মাস, চর্বিযুক্ত মাছ ২ থেকে ৩ মাস এবং চিংড়ি বা স্কুইড ৩ থেকে ৬ মাস সংরক্ষণ করা যায়।

রান্না করা বা প্রক্রিয়াজাত মাংস

রান্না, স্মোকড বা প্রক্রিয়াজাত মাংস সংরক্ষণের মেয়াদ কাঁচা মাংসের চেয়ে অনেক কম হয়। কারণ, রান্না করা খাবারের কিছু উপাদান ফ্রিজের ভেতরেও অক্সিডাইজ হয়ে স্বাদ ও সুগন্ধ নষ্ট করে ফেলে। গরুর মাংস রান্নার পর বেঁচে যাওয়া মাংস ২ থেকে ৩ মাস, মাংসের ঝোল, ব্রোথ বা স্টু ২ থেকে ৩ মাস সংরক্ষণ করা যায়। রান্না করা হাঁস-মুরগির টুকরো মাংস ৪ মাস, ঝোলসহ ৬ মাস, ভাজা মাংস ৬ মাস এবং নাগেটস বা প্যাটি ১ থেকে ৩ মাস ফ্রিজে রাখা যাবে। রান্না করা মাছ ৪ থেকে ৬ মাস, স্মোকড বা ক্যানজাত মাছ (ক্যান থেকে বের করার পর) ২ মাস ভালো থাকে।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত