
রমজান মাসে ইফতারের আয়োজনে বেসন, চালের গুঁড়া, আটা কিংবা কর্নফ্লাওয়ারের ব্যবহার বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তাই ঝামেলা এড়াতে অনেকে মাসের শুরুতে একবারে সব কিনে সংগ্রহ করে রাখেন। কিন্তু সঠিক সংরক্ষণের অভাবে বা অসচেতনতায় এই প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। রান্নার আগে আপনার রান্নাঘরে থাকা এই গুঁড়া উপাদানগুলো ব্যবহারের উপযোগী আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। এই রমজানে পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে রান্নার আগে আপনার কেনা উপকরণের ভালো থাকা নিশ্চিত করুন। যদি কোনো খাবারের গন্ধ বা রং সন্দেহজনক মনে হয়, তবে তা ব্যবহার না করাই ভালো। সুস্থ শরীরে ইবাদত সম্পন্ন করাই হোক এই মাসের লক্ষ্য।
কোন আটা কত দিন ব্যবহারের উপযোগী

সাধারণ ময়দা: এটি বেশি ব্যবহৃত হয়। পরিশোধিত এবং প্রোটিন কম থাকায় এটি সাধারণ তাপমাত্রায় ১ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।
রুটি তৈরির আটা: এতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। এটি সাধারণত ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
কেক ফ্লাওয়ার: খুবই হালকা এবং মিহি এই ময়দা ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
পেস্ট্রি ফ্লাওয়ার: ক্রসাঁ বা পাই ক্রাস্ট তৈরির এই ময়দা ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।
সেলফ-রাইজিং ফ্লাওয়ার: এতে বেকিং পাউডার মিশ্রিত থাকে। বেকিং পাউডারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এটি ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ব্যবহার করা উচিত।
লাল আটা: গমের কুঁড়া, ভুসিসহ চূর্ণ করা হয় বলে এতে তেলের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এটি দ্রুত নষ্ট হওয়ার প্রবণতা রাখে। এটি সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস ভালো থাকে।
কীভাবে বুঝবেন, আটা নষ্ট হয়েছে কি না
আটা নষ্ট হয়েছে কি না, তা বোঝার সহজ উপায় হলো এর ঘ্রাণ। তাজা আটার গন্ধ সাধারণত হালকা মাটির মতো বা নিরপেক্ষ হয়। কিন্তু এটি নষ্ট হয়ে গেলে তা থেকে ঝাঁজালো, টক বা অনেকটা পুরোনো তেল বা বাদামের মতো দুর্গন্ধ বের হয়। এর বাইরেও কিছু লক্ষণ দেখে আপনি পচন শনাক্ত করতে পারেন।
স্বাদের পরিবর্তন: যদি আটা স্বাদে তিতা বা কড়া লাগে, তবে বুঝবেন, এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
রঙের পরিবর্তন: বেসন উজ্জ্বল হলুদ রঙের হয়। যদি এটি ধূসর-হলুদ বা কালচে বর্ণ ধারণ করে, তবে তা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ। একই কথা আটা বা ময়দার ক্ষেত্রেও। এগুলো প্রাকৃতিক রং হারালে ব্যবহার করা উচিত নয়।
পোকার উপস্থিতি: ময়দা বা বেসনের ভেতরে ছোট পোকা, লার্ভা বা মাকড়সার জালের মতো সরু সুতা দেখা গেলে বুঝতে হবে, এতে সংক্রমণ ঘটেছে।
দলা পাকানো বা ছত্রাক: আর্দ্রতার কারণে ময়দা বা বেসন দলা পাকিয়ে শক্ত হয়ে যেতে পারে। যদি এতে ছত্রাক বা ছাঁচ দেখা দেয়, তবে তা অবিলম্বে ফেলে দেওয়া উচিত।
সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম
সাধারণত সাদা আটা বা ময়দা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ৩ থেকে ৮ মাস ভালো থাকে। তবে সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করে এর স্থায়িত্ব বাড়ানো সম্ভব।
বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন: আটা বা বেসন সব সময় বায়ুরোধী পাত্রে ঠান্ডা এবং শুকনো জায়গায় রাখা উচিত।
রেফ্রিজারেশন: দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চাইলে এটি ফ্রিজ বা ফ্রিজারে রাখা যেতে পারে। এতে আটার গুণমান ১ থেকে ২ বছর পর্যন্ত বজায় থাকে। তবে ফ্রিজে রাখার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন কোনোভাবেই আটা, ময়দা বা বেসন আর্দ্র হয়ে না যায়।
চেলে নেওয়া: ব্যবহারের আগে পুরোনো আটা বা বেসন অবশ্যই চেলে নেবেন। এতে দলা বা পোকা থাকলে সহজে ধরা পড়বে।
মেয়াদোত্তীর্ণ আটা বা বেসন ব্যবহারের ঝুঁকি
প্যাকেটের গায়ে থাকা ‘বেস্ট বিফোর’ বা ‘ইউজ বাই’ তারিখটি মূলত গুণমানের নিশ্চয়তা দেয়। অনেক সময় এই তারিখ পার হওয়ার পরেও ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত আটা বা বেসন ভালো থাকতে পারে, যদি তা সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়। তবে নষ্ট বা ছত্রাক ধরা ময়দা খাওয়া বিপজ্জনক। নষ্ট হয়ে যাওয়া ময়দার আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয়ে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি করতে পারে। ছত্রাক ধরা আটা খেলে বমি ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ছত্রাকযুক্ত খাবার খেলে লিভারের রোগ বা ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে সেলফ-রাইজিং আটার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা দিয়ে তৈরি খাবার ঠিকমতো ফোলে না এবং স্বাদও নষ্ট হয়ে যায়।
সূত্র: হেলথ লাইন, টেস্ট অব হোম

পিরিয়ড চলাকালে মেয়েদের মুড সুইং হয়। কথাটা এখন মোটামুটি সবাই জানেন। এ সময় এই ভালো লাগা আবার মুহূর্তেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি আজকাল নারীদের ঘরের মানুষেরাও সদয় দৃষ্টিতেই দেখেন। কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছেন, পিরিয়ড শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকে নিজের জীবনের খারাপ স্মৃতিগুলোর ফ্ল্যাশব্যাকই...
২ ঘণ্টা আগে
গ্রীষ্মকালে সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। কিন্তু তাপমাত্রা বেশি হলে শুধু পানি পানই যথেষ্ট নয়, এমন সময়েই হাইড্রেটিং ড্রিংকস পান করতে হয়। শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে কোন সময় হাইড্রেটিং ড্রিংকস পান করবেন...
৩ ঘণ্টা আগে
উজ্জ্বল ত্বকের জন্য বেশ পরিচিত তামান্না ভাটিয়া। এই উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য তামান্না ভাটিয়া ঘরে তৈরি ফেস প্যাক ব্যবহার করেন বলে জানা যায়। প্রায় ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী তাঁর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া বহু পুরোনো ত্বকের যত্নের রীতির ওপরই নির্ভর করে চলেছেন। আর ত্বকে ব্যবহার করার জন্য সেসব প্যাক...
৫ ঘণ্টা আগে
জীবন যখন একঘেয়ে মনে হয়, সব অর্জন আর সম্পর্ক অর্থহীন হয়ে ওঠে, তখন মনে হতে পারে, আপনি হয়তো বিষণ্নতায় ভুগছেন। কিন্তু আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘ডার্ক নাইট অব দ্য সোল’ বা আত্মার অন্ধকার সময়। আপনি কি জীবনের ডার্ক নাইট কাটাচ্ছেন? জেনে নিন উত্তরণের পথ...
২০ ঘণ্টা আগে