
সকালের শুরুটা অনেকের ক্ষেত্রে এখন একই রকম। ঘুম থেকে উঠে হাতে তুলে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন। একবার ফেসবুক, একবার ইনস্টাগ্রাম, তারপর হয়তো ইউটিউব স্ক্রলিং। চোখের সামনে ভেসে ওঠে একের পর এক পোস্ট, খবরের ছবি বা ভিডিও কিংবা মতামত। প্রায় প্রতিটি জিনিস আমাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করে তোলে। ভিন্নমতের মানুষদের নিয়ে ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ কিংবা তীব্র সমালোচনাও থাকে। অজান্তেই হয়তো মনে হতে শুরু করে, যারা আমার মতো করে ভাবছে না, তারা ভুল! এভাবেই কি আমরা ধীরে ধীরে একে অন্যের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি?
প্রশ্নটা অমূলক নয়। গবেষকেরা বলছেন, এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম। এই অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি, যাতে ব্যবহারকারীরা বেশি সময় অনলাইনে থাকে। তাই প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের পছন্দ, আগ্রহ ও বিশ্বাস অনুযায়ী কনটেন্ট দেখায়। ফলে আমরা এমন এক ডিজিটাল জগতে আটকে পড়ি, যেখানে নিজের মতের বাইরে অন্য দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে খুব কমই পরিচয় হয়।
এতে ভিন্নমতের মানুষের প্রতি সহনশীলতা কমে যায়। ভুল-বোঝাবুঝি বাড়ে। আলোচনা পরিণত হয় তর্কে, আর তর্ক রূপ নেয় বিভাজনে। কিন্তু কখনো ভেবেছেন কি, প্রযুক্তি আমাদের আরও বিভক্ত না করে কাছাকাছি নিয়ে এলে কী ঘটত? বা যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আমাদের শুধু উত্তর না দিয়ে, অন্যের কথা শুনতে এবং ভিন্নভাবে ভাবতে শেখায়, তাহলে কেমন হয়? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গবেষণায় নেমেছিলেন গবেষক ট্যাং ও পুত্রা।
তাঁরা তৈরি করেন একটি বিশেষ এআই চ্যাটবট, ডায়ালজিক সায়েন্স টিচার, যা সাধারণ চ্যাটবটের মতো সরাসরি উত্তর দেয় না; বরং প্রশ্ন করলে পাল্টা প্রশ্ন করে। এটি যুক্তি খুঁজে বের করতে উৎসাহ দেয় এবং শিক্ষার্থীদের নিজের চিন্তাকে নতুন করে যাচাই করতে বাধ্য করে।
ইন্দোনেশিয়ার দুটি উচ্চবিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। বিজ্ঞান বিষয়ের বিভিন্ন অধ্যায়; যেমন তড়িৎ চুম্বক, রাসায়নিক বন্ধন এবং এইচআইভি পড়ার সময় তারা ডায়ালজিক সায়েন্স টিচার ব্যবহার করে।
এই গবেষণা চলার সময় প্রতিটি আলোচনা শুরু হতো একটি প্রশ্ন দিয়ে। শিক্ষার্থীদের দুটি সম্ভাব্য উত্তর থেকে একটি বেছে নিতে হতো। এরপর শুরু হতো কথোপকথন। শিক্ষার্থীরা যদি শুধু হ্যাঁ বা না বলে উত্তর দিত, চ্যাটবটের আলোচনা সেখানে থেমে যেত না; বরং সে জানতে চাইত, ‘তুমি এমনটা কেন ভাবছ?’ অথবা ‘অন্যভাবে কি বিষয়টি দেখা যায়?’ কিংবা ‘যদি কেউ তোমার সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে সে কী যুক্তি দিতে পারে?’
চ্যাটবটটি কখনোই নিজের মত চাপিয়ে দিত না শিক্ষার্থীদের ওপর; বরং এমন প্রশ্ন করত, যা শিক্ষার্থীদের আরও গভীরভাবে ভাবতে, যুক্তি খুঁজতে এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করতে সাহায্য করত। ফলে গবেষণার ফলও ছিল আশাব্যঞ্জক।
অধিকাংশ শিক্ষার্থী শুধু তথ্য মুখস্থ করেনি; তারা যুক্তি দিয়েছে, নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে, অন্য মত নিয়ে ভেবেছে এবং নতুন সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। আলেনা নামের এক শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা ছিল বেশ চমকপ্রদ। প্রথমে সে একটি রাসায়নিক বন্ধনের সমস্যার সমাধান নিয়ে নিশ্চিত ছিল। কিন্তু ডায়ালজিক সায়েন্স টিচারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সে বুঝতে পারে, সমস্যাটি অন্যভাবেও দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত সে নিজের আগের ধারণা সংশোধন করে আরও ভালো সমাধানে পৌঁছায়।
আরেক শিক্ষার্থী প্যাট্রিসিয়ার গল্প আরও বেশি ভাবিয়ে তোলে গবেষকদের। শুরুতে তার ধারণা ছিল, এইচআইভির কোনো চিকিৎসা নেই। কিন্তু ডায়ালজিক সায়েন্স টিচারের সঙ্গে ২৫টি প্রশ্নোত্তরের পর তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত সে উপলব্ধি করে, এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা যেমন জরুরি, তেমনি রোগ প্রতিরোধেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার। চ্যাটবটটি তাকে কোনো মতামত চাপিয়ে দেয়নি; বরং প্রশ্নের মাধ্যমে তাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
তবে এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ছিল মাত্র ২১ জন শিক্ষার্থী। তাই এর ফলাফল পুরো বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য না-ও হতে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা। তবে গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অ্যালগরিদম কাজ করে, যা বিভাজন, উত্তেজনা ও বিরোধকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কারণ, মানুষ যত বেশি বিতর্কে জড়ায়, তত বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে থাকে।
কিন্তু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আমাদের ভিন্নমত শুনতে যদি উৎসাহিত করে—তাইওয়ানের সাবেক ডিজিটালমন্ত্রী অড্রি ট্যাং ঠিক এমন একটি ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি পলিস নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন, যেখানে মতবিরোধ উসকে না দিয়ে বরং মানুষের মিলের জায়গাগুলো খুঁজে বের করা হয়। উদ্দেশ্য—বিতর্ক তৈরি নয়, সংলাপের মাধ্যমে সমাধান।
ডায়ালজিক সায়েন্স টিচার এবং পলিস—দুটিই প্রায় একই বার্তা দেয়, তা হলো সমাজের বড় সমস্যার সমাধান তখনই সম্ভব, যখন মানুষ একে অন্যের কথা শুনতে শিখবে। হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না, কিন্তু যদি এটি আমাদের আরও সহানুভূতিশীল হতে শেখায়, ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখায় এবং নিজের বিশ্বাসকে প্রশ্ন করার সাহস জোগায়, তাহলে প্রযুক্তি শুধু তথ্যের উৎস নয়, বরং আরও মানবিক সমাজ গড়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। হয়তো ভবিষ্যতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান এআই সেটি নয়, যে সব প্রশ্নের উত্তর জানে; বরং সেটি, যে আমাদের আবার একে অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতে শেখাবে।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে

শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টি দিনে বড় দ্বিধা তৈরি হয় আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে—‘আজ কোন পোশাক পরব?’ বৃষ্টির দিনে ফ্যাশনেবল পোশাক পরার চেয়ে বরং কোন পোশাক পরলে সুবিধা বেশি হবে, সে কথাই বেশি ভাবি। যে ধরনের কাপড় পরলে বৃষ্টিতে ভেজার পর দ্রুত শুকিয়ে যাবে, কাদার দাগও সহজে তোলা যাবে, সে কাপড়কেই প্রাধান্য দিই।
২ ঘণ্টা আগেযাঁরা পশ্চিমা ঘরানার পোশাক পরে অভ্যস্ত, তাঁদের ওয়ার্ডরোবে একটি হলেও স্ট্রাইপড টপস বা শার্ট থাকে। এটি জিনস, ফরমাল প্যান্ট বা স্কার্ট—সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়। তবে কখন, কোথায়, কীভাবে স্টাইলিং করবেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
৪ ঘণ্টা আগে
একসময় ধারণা করা হতো, সৌন্দর্যচর্চা বা নিজের যত্ন নেওয়া শুধু নারীদের কাজ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের মানসিকতা ও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক ও ব্যস্ত জীবনে সুস্থ, সতেজ এবং আত্মবিশ্বাসী থাকতে পুরুষদের জন্য আত্মযত্ন বা সেলফ কেয়ার এখন অন্যতম জরুরি বিষয়। খুব বড় কিছু নয়, দৈনন্দিন জীবনের...
৮ ঘণ্টা আগে
ইন্ডাকশন কুকার এখন অনেকের রান্নাঘরের জনপ্রিয় একটি যন্ত্র। এটি দ্রুত রান্না করে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং ব্যবহার করাও সহজ; যদিও নির্দিষ্ট পাত্র ছাড়া এটি ব্যবহার করা যায় না। তবে, প্রায় সব ধরনের পাত্রে রান্না করা যায় এবং গ্যাসের ভালো আরেকটি বিকল্প হলো ইনফ্রারেড ইলেকট্রিক কুকার। এ ছাড়া ভাত, খিচুড়ি...
১০ ঘণ্টা আগে