Ajker Patrika

ঈদে ভারী খাবার খাওয়ার পর যা করবেন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
ঈদে ভারী খাবার খাওয়ার পর যা করবেন
আদা খাবার দ্রুত হজমে সহায়তা করে এবং বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। ছবি: পেক্সেলস

কোরবানির ঈদ মানেই ঘরে ঘরে গরু বা খাসির মাংসের নানা রকম খাবারের আয়োজন। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরপর কয়েক দিন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাংস খাওয়া হয়ে যায়। সারা দিনে খাওয়ার রুটিনও হয়ে যায় এলোমেলো।

আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে বন্ধুদের আড্ডা—সবখানেই চলতে থাকে তেল, চর্বি ও মসলাযুক্ত ভারী খাওয়া। কিন্তু এই অতিরিক্ত ভারী খাবার খেয়ে অনেকেরই দেখা দেয় বদহজম, গ্যাস, বুক জ্বালাপোড়া কিংবা পেটে অস্বস্তির মতো নানান সমস্যা। তাই এই ঈদে ভারী খাবার খাওয়ার পর যাতে ভালোভাবে হজম হয় ও শরীরও ঝরঝরে থাকে, তাই কয়েকটি বিষয় মনে রাখা চাই—

  • ঈদের এ কয়েক দিন আঁশ ও পানিবহুল খাবার বেশি করে খান।
  • খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান।
  • মাংস, পোলাও কিংবা বিরিয়ানির মতো ভারী খাবারের সঙ্গে সালাদ খান। সালাদ খাবার হজমে সাহায্য করে।
  • কোন কোন খাবারে আপনার সমস্যা বাড়ছে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • খাবারের পরপরই শুয়ে পড়বেন না। খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন।
  • একসঙ্গে বেশি বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

যাঁরা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে মাংস খাবেন।

ঈদে ভারী খাবার খাওয়ার পর কিছু খাবার ও পানীয় পান করলে আরাম পাওয়া যাবে। সেগুলোর মধ্যে আছে—

টক দইয়ে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের জন্য উপকারী। ছবি: পেক্সেলস
টক দইয়ে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের জন্য উপকারী। ছবি: পেক্সেলস

কুসুম গরম পানি

ভারী খাবার খাওয়ার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর হালকা গরম পানি পান করতে পারেন। কুসুম গরম পানি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার কাজে সহায়তা করে। ফলে আরাম পাওয়া যায়।

দই বা লাচ্ছি

যেকোনো ভারী খাবার খেয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর প্রোবায়োটিকস-জাতীয় খাবার খান। টক দই দ্রুত খাবার হজম করে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের জন্য উপকারী। তা ছাড়া এই গরমে টক দই খেলে শরীর ঠান্ডাও থাকে।

বোরহানি

ভারী খাবার খাওয়ার পর ঘরে তৈরি বোরহানি খেতে পারেন। এটি হজমে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আদা চা

গরুর মাংসের ভুনা বা কাবাবজাতীয় খাবার খাওয়ার পর এক কাপ আদা চা পান করতে পারেন। আদা খাবার দ্রুত হজমে সহায়তা করে এবং বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। এটি পেটের গ্যাস ও অস্বস্তি কমাতেও সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া পুদিনার চা, কাঁচা হলুদ ও মৌরি সেদ্ধ পানি পানেও খাবার দ্রুত হজম হয়।

এনজাইমসমৃদ্ধ ফল খান

এনজাইমসমৃদ্ধ ফল হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়। পেঁপে, আনারস বা কলার মতো ফল শরীরে পানির ঘাটতি দূর করে এবং হজমে সাহায্য করে। কিন্তু ভারী খাবার খাওয়ার পর এগুলো খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াই ভালো।

পরিমিত পরিমাণে খান

অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বেশি না খাওয়াই ভালো। খেতে হলে অল্প পরিমাণে খান ও পাতে সালাদের পরিমাণ বেশি রাখুন।

কোমল পানীয় পানে সতর্কতা

সব পানীয় কিন্তু হজমের জন্য ভালো নয়। কার্বোনেটেড কোমল পানীয় পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে পান করুন।

খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুধ চা বা কফি খাবেন না

অনেকেই খাবার খাওয়ার পরপরই দুধ চা বা কফি পান করেন। এতে পেটে গ্যাস তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অন্তত দুই ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দুধ চা বা কফি পান করুন।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

উৎসবে মসলাদার খাওয়া হবেই। কিন্তু সুস্থ থাকতে সচেতনও থাকতে হবে। শরীর সুস্থ থাকলেই তো ঈদের প্রতিটি মুহূর্ত আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই মাংস ও অন্যান্য বিশেষ খাবার খান। এতে উৎসবের আনন্দ অটুট থাকবে।

সূত্র: হেলথ লাইন ও অন্যান্য

ছবি: পেক্সেলস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত