Ajker Patrika

‘মজার ছবি’ তুলতে গিয়ে মাঝপথে কোমর ভাঙলেন সাইকেলে বিশ্বভ্রমণকারী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৩৮
‘মজার ছবি’ তুলতে গিয়ে মাঝপথে কোমর ভাঙলেন সাইকেলে বিশ্বভ্রমণকারী
সাইকেলে একা একা বিশ্বভ্রমণের সময় মাতিলদা এই সেলফিটি তুলেছিলেন গ্রিসে। ছবি: বিবিসি

বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে সাইকেলে দুই বছরের অভিযানে বেরিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর বয়সী মাতিলদা পাইন। কিন্তু তুরস্কে একটি ‘মজার বিদায়ের ছবি’ তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পিঠের দুটি হাড় ভেঙে যাওয়ায় আপাতত থেমে গেছে তাঁর সেই যাত্রা। তবে সুস্থ হয়ে আবারও বিশ্বভ্রমণের অসমাপ্ত অভিযান শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মাতিলদা ইতিমধ্যে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া, আলবেনিয়া ও গ্রিস পেরিয়ে তুরস্কে পৌঁছেছিলেন। গত ১০ জুলাই এক বন্ধুর কাঁধে উঠে একটি হাস্যরসাত্মক বিদায়ের ছবি তুলতে গিয়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। এতে তাঁর পিঠের দুটি স্থানে গুরুতর জখম হয়।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাতিলদা জানান, দুর্ঘটনাটি ঘটে একটি প্রত্যন্ত মাঠে। আহত অবস্থায় তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা মাটিতে পড়ে ছিলেন। পরে তাঁর বন্ধু তাঁকে কাছের একটি সড়কে নিয়ে যান। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে করে তাঁরা একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছান, যেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় তাঁর আঘাতের মাত্রা ধরা পড়ে।

দুর্ঘটনার পর দুই সপ্তাহের বেশি সময় তুরস্কে চিকিৎসাধীন ছিলেন মাতিলদা। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, শুয়ে না থাকলে অন্তত ১৫ দিনের আগে বিমানে ভ্রমণ করা তাঁর পক্ষে নিরাপদ নয়। শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে তাঁকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।

দুর্ঘটনার পরের এই ছবিটি মাতিলদা তাঁর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন
দুর্ঘটনার পরের এই ছবিটি মাতিলদা তাঁর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন

মাতিলদা বলেন, দেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য মানসিকভাবে খুব কঠিন ছিল। বিশ্বভ্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে তিনি নিজের বেশির ভাগ জিনিসপত্র বিক্রি করে দিয়েছিলেন এবং দুই বছরের জন্য বাড়ি ছাড়ার মানসিক প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। তাই হঠাৎ স্বপ্নের যাত্রা থেমে যাওয়ায় তিনি গভীর হতাশায় পড়েন।

মাতিলদা আরও জানান, তাঁর সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল মধ্য এশিয়ার পামির পর্বতমালা অতিক্রমের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়া। তুরস্কে যাদের সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল, তাদের সঙ্গে সেই অংশের ভ্রমণও আর করা হলো না।

গত ৪ এপ্রিল মাতিলদা তাঁর দুই বছরের এই বিশ্বভ্রমণ শুরু করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ‘সাইকেল ফর গুড’ নামের একটি দাতব্য উদ্যোগের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিলেন, যা থাইল্যান্ডের একটি শরণার্থীশিবিরে বসবাসকারী মিয়ানমারের শিশুদের সহায়তা করে।

সব প্রতিকূলতার পরও মাতিলদা আশাবাদী। তিনি সুস্থ হয়ে আবার সাইকেলে ফিরতে চান এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী মধ্য এশিয়া হয়ে চীন পর্যন্ত যাত্রা সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ভ্রমণবিমার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছে, দীর্ঘ অভিযানে ভ্রমণবিমা কতটা অপরিহার্য। অন্যদের উদ্দেশে তাঁর ভাষ্য হলো—নিজের স্বপ্ন যদি সত্যিই আপনাকে ডাকে, তবে সাহস করে সেই পথে এগিয়ে যান। চেষ্টা না করলে কখনোই জানা যাবে না, আপনার সামর্থ্য কত দূর।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত