
একসময় বাংলাদেশে ‘বিয়ে’ বা ‘সম্পর্ক’ মানেই ছিল পারিবারিক জানাশোনা কিংবা বন্ধুদের মাধ্যমে পরিচয়। কিন্তু প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপগুলো এখন এ দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ পরিচিত। ডেটিং অ্যাপগুলোতে এক ক্লিকেই পছন্দের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার এই রোমাঞ্চ যতটা না রঙিন, এর নেপথ্যের গল্প ঠিক ততটাই ধূসর। অতিমাত্রায় ডেটিং অ্যাপের ব্যবহার আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ, তা নিয়ে এখন ভাবার সময় এসেছে।
শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি, অ্যাপের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লেও আদতে বাড়ছে একাকিত্ব। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাপে কথোপকথন অনেক সময় ভাসা ভাসা স্তরেই থেকে যায়। ফলে মানুষের সঙ্গে গভীর আবেগময় বন্ধন তৈরি হয় না। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ভার্চুয়াল জগতের হাজারো কথা দিন শেষে তাঁদের মনকে তৃপ্ত করতে পারছে না, বরং একধরনের শূন্যতা তৈরি করছে।
ডেটিং অ্যাপের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিক হলো, মানুষকে পণ্য হিসেবে দেখা। আপনার যোগ্যতা বিচার করা হচ্ছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। কেবল আপনার গুটিকয়েক ছবি দেখে আপনাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে অনেকের মধ্যে নিজের চেহারা বা শারীরিক গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতা তৈরি হচ্ছে। যখন কাঙ্ক্ষিত ‘ম্যাচ’ পাওয়া যায় না, তখন ব্যবহারকারীরা নিজেদের মূল্যহীন ভাবতে শুরু করেন। বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই বিষণ্নতা বা উদ্বেগে ভুগছেন, অ্যাপের ব্যবহার তাঁদের মানসিক অবস্থাকে তিন গুণ বেশি খারাপ করে দিতে পারে।
বর্তমান সময়ের ডেটিং কালচারে ‘ঘোস্টিং’ একটি সাধারণ বিষয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘোস্টিং অর্থ হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া। অর্থাৎ কোনো কারণ ছাড়াই যখন কেউ কথা বলা বন্ধ করে দেয়, তখন অন্যজনের মধ্যে একধরনের ‘রিজেকশন ফ্যাটিগ’ বা প্রত্যাখ্যানের ক্লান্তি তৈরি হয়। এটি মানুষের প্রতি বিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতি অনীহা তৈরি করে।

ডেটিং প্রোফাইলে আমরা সবাই নিজেদের সেরা সংস্করণটি দেখানোর চেষ্টা করি। ফিল্টার করা ছবি আর কৃত্রিম তথ্যের ভিড়ে যখন বাস্তব জীবনে দেখা হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না। ফলে ডেটগুলো হতাশাজনক হয়ে পড়ে। এ ছাড়া অ্যাপে অবারিত বিকল্প থাকায় মানুষের মধ্যে ‘কাউকে স্থায়ীভাবে বেছে না নেওয়া’র প্রবণতা বাড়ছে। সব সময় মনে হয়, ‘এর চেয়ে ভালো কেউ হয়তো পরের সোয়াইপেই আছে!’
ভার্চুয়াল চ্যাটিংয়ে আমরা ইমোজি ব্যবহার করি। কিন্তু সামনাসামনি কথা বলার সময় গলার স্বর বা চোখের ভাষা বুঝতে পারি না। অ্যাপে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার ফলে বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অনেকেই জড়তা অনুভব করছেন। অনেক সময় দীর্ঘ মাসব্যাপী কেবল চ্যাটিং করেই কেটে যায়, কিন্তু বাস্তবে দেখা করার সাহস বা আগ্রহ তৈরি হয় না। একে বলা হয় ‘সিউডো-রিলেশনশিপ’ বা মেকি সম্পর্ক।
না, সবকিছুরই ইতিবাচক দিক থাকে। সামাজিক জড়তা বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার আছে, এমন ব্যক্তিদের জন্য এই অ্যাপগুলো অনেক সময় বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া যাঁরা বাস্তব জীবনে মেলামেশার সুযোগ কম পান, তাঁদের জন্য এটি জীবনসঙ্গী খোঁজার একটি আধুনিক মাধ্যম হতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, অনেক সফল দাম্পত্য সম্পর্কের শুরুটাও হয়েছে অনলাইন থেকেই।
ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করা মানেই খারাপ কিছু নয়। তবে এটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। যদি দেখেন অ্যাপটি আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নিচ্ছে কিংবা আপনার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে, তবে এখান থেকে বিরতি নেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখবেন, স্ক্রিনের ওপারে থাকা মানুষটি যেমন রক্তমাংসের, তেমনি আপনার নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও আপনারই দায়িত্ব। ভালোবাসা যেন কেবল একটি ‘অ্যাপ ডিলিট’ করার আশঙ্কায় আটকে না থাকে।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, ভেরি ওয়েল মাইন্ড মাই ওয়েলবিং

ওজন কমানো মানেই চর্বি ছেঁটে ফেলা। এই ওজন কমানোর যাত্রায় আমরা প্রায়ই সব চর্বিকে একই নজরে দেখি। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সব চর্বি সমান নয়। আমাদের ত্বকের ঠিক নিচে যে চর্বি জমে, তা দেখতে খারাপ লাগলেও শরীরের জন্য ততটা বিপজ্জনক নয়। আসল শত্রু হলো ‘ভিসারেল ফ্যাট’ বা পেটের গভীরে থাকা চর্বি।
১২ ঘণ্টা আগে
কতটা সুস্থ থাকবেন, তা নির্ভর করে আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন। প্রতিদিন কী ধরনের বাসনকোসন ব্যবহার করছেন, কেমন খাবার খাচ্ছেন—এসব ব্যাপার যেমন স্বাস্থ্য়ের ওপর প্রভাব ফেলে, তেমনি এগুলোর প্রভাব পরিবেশের ওপরও পড়ে। নিজের স্বাস্থ্য ও বাড়ির পরিবেশ ভালো রাখার জন্য সব সময় বড় কোনো উদ্যোগই নিতে হবে এমন....
১৪ ঘণ্টা আগে
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কনভেনশন হলে ‘সুফি নাইটস ও ডিনার’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
১৫ ঘণ্টা আগে
অনেকেই বলেন বাথরুমে বসে নাকি সবচেয়ে সৃজনশীল বুদ্ধিটা মাথায় আসে। মনে আছে ছোটবেলায় শোনা বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সেই গল্প। যেখানে বিজ্ঞানী এই মনীষী গোসলের টাবে নামতে গিয়েই পদার্থবিজ্ঞানের একটি যুগান্তকারী সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন।
১৮ ঘণ্টা আগে