Ajker Patrika

শরতে অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া উপায়

নাহিন আশরাফ, ঢাকা
শরতে অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া উপায়
ঘাম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই ঘাম হওয়াকে সমস্যা হিসেবে না দেখে অতিরিক্ত ঘামের কারণ ও অস্বস্তি কমানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

শরতে রোদের তাপ যেহেতু বেশি থাকে, ফলে ঘামও হয় প্রচুর। বাইরে বের হলে, একটু হাঁটাহাঁটি করলে কিংবা দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে ঘেমে জামাকাপড় ভিজে যাওয়ার মতো অস্বস্তি তৈরি হয়। কারও কারও আবার হাত, পা, মুখ বা বগলে তুলনামূলক বেশি ঘাম হয়। এতে শুধু অস্বস্তিই নয়, শরীরে দুর্গন্ধ, ত্বকে জ্বালাপোড়া ও চুলকানির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তবে ঘাম হওয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ঘামের মাধ্যমে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখে। তাই ঘাম পুরোপুরি বন্ধ করার চেষ্টা না করে অতিরিক্ত ঘাম থেকে তৈরি হওয়া অস্বস্তি কমানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে শরৎকালের অতিরিক্ত ঘাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। তাই শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে না দেওয়ার জন্য নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। একসঙ্গে অনেক পানি পান করার বদলে সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো। বাইরে বের হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখা যেতে পারে। শরীর দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে পানিশূন্যতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে না দেওয়ার জন্য নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। ছবি: পেক্সেলস
শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে না দেওয়ার জন্য নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। ছবি: পেক্সেলস

সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন

শরতে অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা কমাতে পোশাকের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। সিনথেটিক বা খুব আঁটসাঁট পোশাকে শরীরে বাতাস চলাচল করতে পারে না। ফলে ঘাম বেশি মনে হয় এবং শরীরেও অস্বস্তি তৈরি হয়। এ সময় সুতি ও হালকা পোশাক পরলে শরীর তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকে। বাইরে যাওয়ার সময় এমন পোশাক বেছে নেওয়া ভালো, যাতে ঘাম সহজে শুকিয়ে যেতে পারে।

শরীর পরিষ্কার ও শুকনা রাখুন

অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর দীর্ঘ সময় ভেজা রাখা ঠিক নয়। বাইরে থেকে ফিরে গোসল করে শরীর ভালোভাবে মুছে নেওয়া যেতে পারে। যাঁদের বেশি ঘাম হয়, তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী মুখ, ঘাড় বা বগল পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। গোসলের পর শরীরের ভাঁজযুক্ত জায়গাগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। এতে ঘামের কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তি ও দুর্গন্ধ কিছুটা কমতে পারে।

ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখুন

ঘরে অতিরিক্ত গরম থাকলে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। তাই ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা ভালো। জানালা খুলে রাখা, ফ্যান ব্যবহার করা বা প্রয়োজন অনুযায়ী ঘর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে খুব বেশি ঠান্ডা পরিবেশে থাকার চেষ্টাও না করাই ভালো। মূল বিষয় হলো শরীর আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখা।

বগল ও পায়ের যত্ন নিন

বগল ও পায়ের মতো জায়গায় ঘাম বেশি জমে থাকতে পারে। ফলে দুর্গন্ধ বা ত্বকের সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন পরিষ্কার পানি দিয়ে এসব জায়গা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উচিত। ঘাম বেশি হলে মোজা পরিবর্তন করা এবং একই জুতা দীর্ঘ সময় না পরাও উপকারী। জুতা ব্যবহারের পর কিছু সময় বাতাসে রেখে শুকিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

সঙ্গে রুমাল রাখুন

বাইরে থাকলে ঘাম মুছতে পরিষ্কার রুমাল বা ছোট তোয়ালে সঙ্গে রাখা যেতে পারে। ঘাম মুছতে একই কাপড় বারবার ব্যবহার না করে পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করা ভালো। এতে ত্বকে ময়লা ও জীবাণু জমে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। তবে খুব জোরে ঘষে ঘাম মুছলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই আলতোভাবে মুছে নেওয়াই ভালো।

অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

অনেকেই ঘামের সমস্যা ঢাকতে অতিরিক্ত সুগন্ধি, বডি স্প্রে বা বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করেন। এতে সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ কম মনে হলেও সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে ত্বকে সেটি সহ্য হচ্ছে কি না, খেয়াল করা উচিত। ঘাম কমানোর জন্য ব্যবহৃত পণ্যও প্রয়োজন অনুযায়ী এবং নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করা ভালো।

ঘরোয়া উপায় মেনে চলুন, তবে বুঝেশুনে

ঘাম কমানোর জন্য অনেক ধরনের ঘরোয়া টোটকা প্রচলিত আছে। কিন্তু সব টোটকা সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ নয়। লেবু, বেকিং সোডা বা অন্য কোনো উপাদান সরাসরি ত্বকে লাগানোর আগে সতর্ক থাকা দরকার। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে এসব ব্যবহারে জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই সহজ ও নিরাপদ অভ্যাস পরিষ্কার থাকা, শরীর শুকনা রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং আরামদায়ক পোশাক পরা সবচেয়ে ভালো।

সব শেষে মনে রাখতে হবে, ঘাম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই ঘাম হওয়াকে সমস্যা হিসেবে না দেখে অতিরিক্ত ঘামের কারণ ও অস্বস্তি কমানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। তবে ঘাম যদি হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, রাতে ঘুমের মধ্যেও অতিরিক্ত ঘাম হয়, দৈনন্দিন কাজে সমস্যা তৈরি করে বা এর সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ থাকে, তাহলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শরতের সুন্দর সময়টুকু উপভোগ করতে তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি পান ও সঠিক পোশাকের মতো ছোট ছোট অভ্যাস হতে পারে সবচেয়ে সহজ সমাধান।

সূত্র: হেলথলাইন, স্টাইলক্রেজ ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত