Ajker Patrika

মুখ তেলতেলে মানেই কি ত্বক হাইড্রেটেড?

ফারিয়া রহমান খান 
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১১: ০০
মুখ তেলতেলে মানেই কি ত্বক হাইড্রেটেড?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মুখ ধুলে ত্বকের স্বাভাবিক স্কিন ব্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ত্বক তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। ছবি: পেক্সেলস

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই চিটচিটে ও তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। এমন আবহাওয়ায় অনেকেই মনে করেন, বাতাসে এত জলীয় বাষ্প থাকার ফলে ত্বক বুঝি পর্যাপ্ত হাইড্রেশন বা আর্দ্রতা পাচ্ছে। বিশেষ করে যাদের মুখ তেলতেলে, তারা ধরেই নেয় যে তাদের ত্বকে আলাদা করে কোনো পানির ঘাটতি নেই। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বাতাসের আর্দ্রতা ত্বক থেকে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর করতে পারে; তবে এর মানে এই নয় যে ত্বকের ভেতরে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে।

তেল ও আর্দ্রতার পার্থক্য

তৈলাক্ত ত্বক মানেই হাইড্রেটেড ত্বক নয়। এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ত্বকের প্রাকৃতিক তেল এবং হাইড্রেশনের ভেতরের পার্থক্য বোঝা।

সিবাম বা প্রাকৃতিক তেল: সিবাম হলো ত্বকের গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত একধরনের তেল, যা ত্বকের ওপরে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে।

হাইড্রেশন: হাইড্রেশন বলতে বোঝায় ত্বকের কোষের ভেতরের পানির পরিমাণ।

আপনার ত্বকের উপরিভাগে অতিরিক্ত তেল জমা থাকলেও ত্বকের ভেতরে পানির চরম ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন থাকতে পারে। ফলে ত্বক বাইরে থেকে চকচক করলেও ভেতর থেকে টানটান ভাব, চুলকানি বা সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা

আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম সহজে শুকাতে চায় না। এর ফলে ঘাম ও ত্বকের প্রাকৃতিক সিবামের সঙ্গে বাতাস থেকে আসা ধূলিকণা, মেকআপ ও দূষণ মিশে যায়। এই মিশ্রণটি খুব সহজে ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশেষ করে তৈলাক্ত ও ব্রণ প্রবণ ত্বকে আকস্মিক ব্রণের উপদ্রব, ব্ল্যাকহেডস এবং ত্বকে সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

বারবার মুখ ধুলেই কি ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমে?

মুখ চিটচিটে লাগলেই দিনে বারবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া অনেকের অভ্যাস। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মুখ ধুলে ত্বকের স্বাভাবিক স্কিন ব্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ত্বক তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। তখন নিজেকে রক্ষা করতে ত্বক আরও দ্বিগুণ পরিমাণে তেল নিঃসরণ শুরু করে। ফলে তৈলাক্ত ভাব কমাতে গিয়ে ত্বক উল্টো আরও বেশি তেলতেলে ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মুখ ধুলে ত্বকের স্বাভাবিক স্কিন ব্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ত্বক তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। ছবি: পেক্সেলস
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মুখ ধুলে ত্বকের স্বাভাবিক স্কিন ব্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ত্বক তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। ছবি: পেক্সেলস

ত্বকের ওপর আবহাওয়ার প্রভাব

কেবল মুখের ত্বকই নয়, চিটচিটে আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে পুরো শরীরে। দীর্ঘক্ষণ ঘাম জমে থাকা এবং আর্দ্র পরিবেশ ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ভেজা পোশাক বা ঘামে ভেজা ব্যায়ামের পোশাক দীর্ঘক্ষণ পরে থাকার কারণে শরীরে ব্রণ ও ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি, এয়ার কন্ডিশনড রুম বা গাড়ির শুষ্ক পরিবেশ থেকে হঠাৎ বাইরের আর্দ্র আবহাওয়ায় বারবার যাতায়াতের ফলেও ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন

স্কিনকেয়ার রুটিন যতটা সম্ভব সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা উচিত। যেমন—

মৃদু ক্লিনজার: দিনে দুবার হালকা ও জেন্টল ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।

হালকা ময়শ্চারাইজার: ত্বক তৈলাক্ত হলেও ময়শ্চারাইজার বাদ দেওয়া যাবে না। এর জন্য ওয়াটার-বেসড বা জেল-টাইপ নন-কমেডোজেনিক ময়শ্চারাইজার বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

নিয়মিত সানস্ক্রিন: মেঘলা আকাশ হলেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। তাই প্রতিদিন হালকা ও অয়েল-ফ্রি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

অ্যাকটিভ উপাদানের সঠিক ব্যবহার: স্যালিসিলিক অ্যাসিড বা এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড ব্যবহারে যত্নশীল হতে হবে। অতিরিক্ত পণ্য একসঙ্গে ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা ভালো।

অতিরিক্ত তেল এবং হাইড্রেশন—এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তাই এখনকার আবহাওয়ায় ত্বক কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত ম্যাট বা শুষ্ক করে ফেলার চেষ্টা না করে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় টিকিয়ে রাখা আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ত্বকের ভেতরে পানির ঘাটতি মেটাতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সেই সঙ্গে বাহ্যিক যত্নও বজায় রাখুন।

সোর্স: হেলথলাইন ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত