
জানালার বাইরে মেঘের গুড়গুড় শব্দ আর ঘরের ভেতর এক বাটি ধোঁয়া ওঠা গরম স্যুপ! বর্ষার এমন দিনে এর চেয়ে দারুণ মেলবন্ধন আর কীই-বা হতে পারে। খিচুড়ি তো অনেক খাওয়া হলো, এই বৃষ্টির দিনে জিবে একটু ভিন্ন স্বাদ আনতে আপনি অনায়াসে তৈরি করে নিতে পারেন মিসরের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। আরবিতে একে বলা হয় ‘শাওরবাত আদস’। যার বাংলা অর্থ ডালের স্যুপ। এটি যেমন পুষ্টিকর, তেমনই তৈরি করাও সহজ। বৃষ্টির অলস সময়ে শরীর ও মন চাঙা করতে এই স্যুপের জুড়ি মেলা ভার।
বিশ্বজুড়ে ডালের স্যুপের নানান রেসিপি থাকলেও মিসরের এই ডালের স্যুপের রয়েছে কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। এটি তৈরি হয় একদম ছোট ছোট লাল রঙের মসুর ডাল দিয়ে। নিরামিষ এই স্যুপ ব্লেন্ড করে একদম ক্রিমি ও ঘন টেক্সচার দেওয়া হয়। মিসরে এই সাধারণ স্যুপের একটি বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম প্রধান একটি পদ এই স্যুপ। আবার খ্রিষ্টানদের দীর্ঘ নিরামিষ উপবাসের দিনগুলোতে এটিই তাদের প্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। এই লাল ডাল ভিটামিন বি, আয়রন, ফোলেট, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং জিঙ্কে ভরপুর, যা বর্ষার দিনে আপনার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
আপনার রান্নাঘরে থাকা খুব সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে এটি তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য লাগবে ছোট দানার মসুর ডাল ১ কাপ, পেঁয়াজ, রসুন, গাজর, টমেটো, আলু পরিমাণমতো, টমেটো পেস্ট ১ টেবিল চামচ, জিরা, মরিচ ও গোলমরিচ বা লাল মরিচের গুঁড়া পরিমাণমতো, লেবুর রস, স্বাদ অনুযায়ী লবণ এবং তেল বা অলিভ অয়েল। এ ছাড়া এতে চাইলে ধনে বা হলুদগুঁড়াও দেওয়া যায়।
এই স্যুপ তৈরি করার জন্য আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে মিহি করে সবজি কাটতে হবে না। খুব অল্প কয়েকটি ধাপেই এটি তৈরি হয়ে যায়। প্রথমে ডাল একটি পাত্রে নিয়ে ভালো করে দেখে নিন, কোনো ছোট পাথর বা ময়লা আছে কি না। এরপর পানি দিয়ে কচলে ৩ থেকে ৪ বার ধুয়ে নিন। সবজিগুলো কাটার জন্য কোনো বাড়তি খাটনি নেই—পেঁয়াজ, রসুন, গাজর, টমেটো—যা-ই দেবেন, সব বড় বড় টুকরো বা কিউব করে কেটে নিলেই চলবে। একটি গভীর পাত্রে মাঝারি আঁচে তেল গরম করুন। এবার কেটে রাখা সবজিগুলো দিয়ে হালকা সাঁতলে নিন। সবজি নরম হয়ে এলে তাতে টমেটো পেস্ট ও জিরাগুঁড়া, পাপরিকা ও মরিচগুঁড়া দিয়ে দিন। মসলার ঘ্রাণ বের হওয়া পর্যন্ত সামান্য নাড়াচাড়া করুন। এবার ধুয়ে রাখা ডাল পাত্রে ঢেলে সবজির সঙ্গে একটু মিশিয়ে নিন। এরপর পরিমাণমতো পানি বা সবজির স্টক যোগ করুন। পাত্রে বলক চলে এলে চুলার আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন। এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট রান্না করুন, যতক্ষণ না ডাল ও সবজিগুলো একদম নরম হয়ে গলে যাচ্ছে।
চুলা বন্ধ করে স্যুপ সামান্য ঠান্ডা হতে দিন। এবার একটি হ্যান্ড ব্লেন্ডার বা ডাল ঘুটনি দিয়ে পাত্রের ভেতরে সবকিছু একদম মসৃণ বা ক্রিমি হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করে নিন। গরম স্যুপ ব্লেন্ড করার সময় সাবধানে করবেন যেন ছিটকে না আসে। ব্লেন্ড করার পর এতে প্রচুর লেবুর রস ও স্বাদমতো লবণ মিশিয়ে নিন। লেবুর রস এই স্যুপের স্বাদ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
যেহেতু স্যুপটি একদম ক্রিমি ও মসৃণ হয়। তাই এর ওপরের অংশে খানিক মুচমুচে ভাব আনার জন্য মিসরের মানুষ কিছু চমৎকার টপিংস ব্যবহার করেন। আপনিও পরিবেশনের সময় ওপর থেকে ছড়িয়ে দিতে পারেন—
বাইরে ঝুম বৃষ্টি, আর আপনার হাতে এক বাটি এই গরম-গরম সুস্বাদু মিসরীয় ডাল স্যুপ আর মুচমুচে রুটির টুকরো—ভাবুন তো, বর্ষার দিনটা কতটা জাদুকরি হয়ে উঠবে! আজই ট্রাই করে দেখতে পারেন।
সূত্র: এম হোয়াট আই ইট

বাংলাদেশে বসে ছাগল নিয়ে আমরা যতই হাসাহাসি করি না কেন, কেপ ভার্দের বেলায় হিসাবটা একেবারে ঠিক। সেই দ্বীপদেশটিতে আছে প্রতি দুজনের জন্য একটি ছাগল! আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে জেগে থাকা এক টুকরো বিস্ময় রিপাবলিক অব কেপ ভার্দে। অবশ্য দেশটি বিশ্বজুড়ে সংক্ষেপে কেপ ভার্দে নামে পরিচিত। বিশ্ব ফুটবলে দেশটি এখন...
৭ ঘণ্টা আগে
মানুষের শিকারের পেছনে ছোটার যে কালপর্ব, নৃবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সে সময় পরিষ্কার নীল আকাশ ভালো আবহাওয়া আর খাবারের নিশ্চয়তা নির্দেশ করত। তাই বলা হয়, জীবনধারণের সেই সহজাত প্রবৃত্তি হাজার হাজার বছর পেরিয়ে আজও মানুষের মনে নীল রঙের প্রতি ভালোবাসা ধরে রেখেছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
আমরা সবাই সাবান ব্যবহার করি। বেশির ভাগ সাবানে থাকে বিভিন্ন পশুর চর্বি। প্রসাধনী তৈরিতেও প্রচুর চর্বি প্রয়োজন। ফলে বিভিন্ন প্রাণীর চর্বি সংগ্রহ করা হয়। এসব প্রাণীর কোনো কোনোটির চর্বিতে যে কৃমি থাকে, তা বহু বছর জীবিত থাকতে পারে। এই চর্বি গরম করা হলেও কিছু কৃমি সক্রিয় থাকে।
১৬ ঘণ্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর উন্মাদনা, গ্যালারিতে রঙের মেলা আর খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় নৈপুণ্যের দারুণ এক প্রদর্শনী। কিন্তু জাপান যে আসরে খেলে, সেই আসরে চোখে পড়ে একেবারে ভিন্ন এক ঘটনা।
১৭ ঘণ্টা আগে