
মানুষের শিকারের পেছনে ছোটার যে কালপর্ব, নৃবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সে সময় পরিষ্কার নীল আকাশ ভালো আবহাওয়া আর খাবারের নিশ্চয়তা নির্দেশ করত। তাই বলা হয়, জীবনধারণের সেই সহজাত প্রবৃত্তি হাজার হাজার বছর পেরিয়ে আজও মানুষের মনে নীল রঙের প্রতি ভালোবাসা ধরে রেখেছে।
আমাদের আদিম জীবনের সঙ্গে যুক্ত বলেই কি নীল রং নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই! এই বিরাট গবেষণা করার জন্য আমরা বসিনি। বসেছি নীল রঙের শাড়ি নিয়ে আলাপ করতে।
এটি বড়ই কঠিন প্রশ্ন। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় রঙের ধারণায় পরিবর্তন এসেছে বহুভাবে, বহু কারণে। ফলে এর প্রতীক বদলে গেছে, অর্থ বদলে গেছে। তবে মজার বিষয় হলো, বর্তমানে অনেক গবেষক মনে করেন, গোলাপি মেয়েদের এবং নীল ছেলেদের রং। কিন্তু ইতিহাসে বিষয়টি উল্টো ছিল। বিশ শতকের শুরুতে পশ্চিমের কোনো কোনো সমাজে গোলাপিকে ছেলেদের জন্য এবং নীল রংকে মেয়েদের জন্য বেশি উপযুক্ত মনে করা হতো। অর্থাৎ রঙের সঙ্গে লিঙ্গের সম্পর্কের একটি বড় অংশই সাংস্কৃতিকভাবে তৈরি।
ভারত উপমহাদেশের সংস্কৃতিতে আবার আগাগোড়াই নীল পুরুষের রং! সে জন্যই নারীর পোশাকে নীল রঙের রোমান্টিক উপস্থিতি তৈরিতে পুরুষ চেষ্টা করে গেছে বহু বহু বছর ধরে। বৈষ্ণব পদাবলিতে বলা হয়েছে, ‘চলে নীল শাড়ী নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি...’। হৃদয় নিংড়ে নিয়ে নীল শাড়ি পরা রাধা চলেছেন পথ দিয়ে! রাধার কথা যখন উঠলই, কৃষ্ণের কথা কি আর আসবে না? কৃষ্ণের শরীরের রং নীল। এখানে নীল রং অসীমের প্রতীক—যাকে ধরা যায় না, কোনো কিছুতে বেঁধে রাখা যায় না।
তবে উপমহাদেশে নীল রং একদিকে যেমন কৃষ্ণের রং, অন্যদিকে আকাশ ও নদীর রং। ফলে নীলকে প্রায়ই প্রেমিকের অপেক্ষায় থাকা নারী, দূরের প্রিয়জন কিংবা অনন্ত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রতীকগুলো একেবারেই সাংস্কৃতিক। এ কারণে বাংলা গান ও কবিতায় ‘নীল শাড়ি’, ‘নীল আকাশ’, ‘নীল নয়না’ বা ‘নীলিমা’ শব্দগুলো এত জনপ্রিয়।
নীলকে প্রায়ই প্রেমিকের অপেক্ষায় থাকা নারী, দূরের প্রিয়জন কিংবা অনন্ত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রতীকগুলো একেবারেই সাংস্কৃতিক।
এ জন্য বলা কঠিন, নীল রং এককভাবে নারীর নাকি পুরুষের। তবে যা-ই হোক, ঋতুভেদে নীল রং নারী বা পুরুষ—উভয়কেই ঠিকঠাক মানিয়ে যায়।
আমাদের পুরোনো সাহিত্যগুলোতে প্রচুর শাড়ির কথা উল্লেখ আছে। উল্লেখ আছে সেসবের নকশা ইত্যাদির কথা। কিন্তু সেই শাড়িগুলোর রঙের কথা কোথাও নেই। ‘সোনাইবিবি’র পালার অজ্ঞাতনামা কবি জানাচ্ছেন, তাঁর নায়িকা গঙ্গার জল, গুয়ার ফুল, উনী, হিয়া, ধ্যাতি ইত্যাদি নামে শাড়ি পরত। কিন্তু সেসব শাড়ির রং কী ছিল, সে কথা কবি লিখে যাননি। কবি দ্বিজ ঈশানের নায়িকা কমলা যে শাড়ি পরেছিল, তার নাম ‘অগ্নি-পাটের শাড়ি’। এমনই সুন্দর সেই শাড়ি, যা দেখে স্বর্গের তারারাও লজ্জা পেয়ে গিয়েছিল। কবি সেই শাড়ির রঙের কথাও বলেননি। এদিকে রাজহাঁস, বালিহাঁস, সরালি, চকোর, বুলবুলের নকশা তোলা যে শাড়ি পরে গোপীচন্দ্রের বড় স্ত্রী ‘রদুনা রানি’ (অদুনা) গিয়েছিলেন জীবন ও সতীত্বের গূঢ় পরীক্ষায়। ‘গোপীচন্দ্রের গান’-এর সেই বিখ্যাত লক্ষ্মীবিলাস শাড়ির নকশার বর্ণনা থাকলেও, তার রং কী ছিল, কবি তা বলে যাননি। শুধু চণ্ডীদাসকেই পাওয়া যায়, যিনি বলেছিলেন, নীল শাড়ি পরে রাধা চলেছেন কৃষ্ণের হৃদয় হরণ করে।

কবিরা বলে যাননি বলেই কি আর নারীরা নীল শাড়ি পরেননি? আলবত পরেছিলেন। কারণ, ভারত উপমহাদেশে চাষ হতো পৃথিবীর অন্যতম সেরা মানের নীল—যাকে বলা হতো ইন্ডিগো। তবে এর ইতিহাসও ঠিক সরল নয়। নীল রং (ইন্ডিগো) একদিকে যেমন বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে কিছু সময়ে এর ব্যবহার সীমিতও ছিল। বিশাল ব্যাপ্তিতে এখানে আলোচনার অবকাশ নেই। তাই সংক্ষিপ্ত করে বলা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশে শাড়িতে বা পোশাকে নীল রঙের ব্যবহার দুই হাজার বছরের বেশি পুরোনো বলে মনে করা হয়। আর রঞ্জক হিসেবে নীলের ব্যবহারের ইতিহাস সম্ভবত চার হাজার বছরের বেশি প্রাচীন। নীল শাড়ি কোনো আধুনিক ফ্যাশন নয়, বরং উপমহাদেশের দীর্ঘ বস্ত্র-ঐতিহ্যের একটি প্রাচীন ও ধারাবাহিক অংশ।
আধুনিক সময়ে এসে ১৪৪ থেকে শুরু করে ২২৫টির বেশি নীল রঙের শেডের কথা জানা যায়। স্বাভাবিকভাবে নারীদের পোশাকে এই রঙের প্রভাব পড়েছে।
এত গবেষণা না করে, এই বর্ষায় নীল রঙের শাড়ি পরে একটু ভিজে নিলে খুব খারাপ কিছু হবে কি?

চিকিৎসকের একটি সতর্কবার্তা আমূল বদলে দিয়েছিল দিল্লির দম্পতি রূপিকা আনন্দ ও রাকেশ আনন্দের জীবন। শারীরিক অসুস্থতা থেকে সুস্থ জীবনের খোঁজে শহরের আরাম-আয়েশ ও সফল করপোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন কৃষিকাজ।
৬ ঘণ্টা আগে
ওজন কমানো বা নিজেকে ফিট রাখা যে কতটা কঠিন, তা ভুক্তভোগীরাই ভালো বোঝেন। এর চিন্তা মাথায় এলেই মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে ওঠে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রিয় চকলেট কেকটিকে না ছুঁয়ে বিদায় জানানোর দুঃখ। কিংবা ধোঁয়া ওঠা কাচ্চি বিরিয়ানি প্লেটে নেওয়ার পর অপরাধবোধে ভোগার দৃশ্য। মন বলে ‘আরেকটু খাই’, যুক্তি বলে ‘না’।
১০ ঘণ্টা আগে
মানসিকভাবে মানুষ প্রতিটি সম্পর্কের এক জটিল ছক বা মানচিত্র তৈরি করতে ওস্তাদ। কে কার অনুগত, কার সঙ্গে কার প্রতিযোগিতা কিংবা কে কখন কার বিরুদ্ধে যেতে পারে—প্রতিনিয়ত আমাদের মন এসবের হিসাব রাখে। কিন্তু সম্পর্কের এই অভ্যন্তরীণ মানচিত্রে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বা বিরোধের ছাপ বেশি স্পষ্ট হয়। কখনো ভেবে দেখে
১১ ঘণ্টা আগে
ধারণা করা হয়, প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পান বা ঘাবড়ে যান। অনেকের হয়তো ভয়ে বুক ধুকধুক করে বা হাতের তালু ঘামতে শুরু করে। অনেক সময় আমাদের মাথা ফাঁকা হয়ে যায়, কণ্ঠস্বর ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয় এবং হাত-পা কাঁপতে থাকে। অনেক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আমরা
১৩ ঘণ্টা আগে