ফিফা বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর উন্মাদনা, গ্যালারিতে রঙের মেলা আর খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় নৈপুণ্যের দারুণ এক প্রদর্শনী। কিন্তু জাপান যে আসরে খেলে, সেই আসরে চোখে পড়ে একেবারে ভিন্ন এক ঘটনা। দল জিতুক কিংবা হারুক; ম্যাচ শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই মাঠ ছাড়েন জাপানিরা। শুধু গ্যালারিতে জাপানি দর্শকেরাই নয়, জাপানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরাও ড্রেসিংরুম একদম ঝকঝকে করে রেখে আসেন। জাপানিদের এই পরিচ্ছন্নতা কোনো ক্যাম্পেইনের অংশ নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের এক অনন্য সামাজিক দায়িত্বের প্রতিফলন। এই একটি জায়গায় জাপান একেবারে ভিন্নভাবে মানুষের হৃদয় কেড়ে নিয়েছে।
জাপানিদের এই অভ্যাস রাতারাতি তৈরি হয়নি। এর পেছনে আছে তাদের শত শত বছরের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। এর বীজ রোপণ করা হয় একেবারে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। জাপানের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিচ্ছন্নতা বিষয়টিকে পাঠ্যসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে দেশের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার পর তাদের প্রথম কাজগুলোর একটি থাকে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করা। শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে বেঞ্চ-টেবিল সরিয়ে আনন্দের সঙ্গে মেঝে, সিঁড়ি এমনকি স্কুলের শৌচাগার পর্যন্ত পরিষ্কার করে। জাপানে একটি প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে, ‘যে পাখি উড়ে যায়, সে কখনো নিজের কোনো চিহ্ন রেখে যায় না’। এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে জাপানি শিশুরা বড় হয়, যা তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
গ্যালারিতে জাপানিদের আবর্জনা পরিষ্কারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সব সময় ইতিবাচকভাবে তুলে ধরলেও কিছু সমালোচক একে ‘লোকদেখানো’ বা ‘দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন। তবে মনে রাখা উচিত, টিকিট কেটে খেলা দেখতে আসার অর্থ এই নয় যে কেউ সেখানে নোংরা করার অধিকার পেয়ে গেছেন। জাপানিরা স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠকে অত্যন্ত পবিত্র জায়গা মনে করে। তা ছাড়া অন্য মানুষের ফেলে যাওয়া অর্ধেক খাওয়া খাবার বা পানীয় পরিষ্কার করা একটি অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা হলেও একবার এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলে মানুষ নিজের জীবনেও কখনো যেখানে সেখানে ময়লা ফেলার কথা ভাববে না। এটি মানুষকে আরও বেশি দায়িত্বশীল নাগরিক হতে সাহায্য করে।
২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের টুর্নামেন্টগুলোতে দেখা গেছে, জাপানি ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরা ম্যাচ শেষ হওয়ার পর লকার রুম বা ড্রেসিংরুম এমনভাবে পরিষ্কার করে রেখে আসেন; দেখে বোঝার উপায় থাকে না, সেখানে কেউ ছিল! একই সঙ্গে তাঁরা টেবিলের ওপর একটি ধন্যবাদ বার্তা এবং কাগজের তৈরি পাখি রেখে আসেন। এই পাখিকে সাধারণত শান্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
জাপান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাকোতো হাসেবে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, জাপানিদের এই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস বিশ্বজুড়ে তাঁদের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বর্তমানে এই উদ্যোগ শুধু জাপানিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; স্টেডিয়ামে অন্যান্য দেশের সমর্থকেরাও এখন জাপানিদের সঙ্গে উদ্বুদ্ধ হয়ে আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগাচ্ছেন।
মূলত ময়লা পরিষ্কার করা হলো স্বেচ্ছাসেবী মনোভাবের সবচেয়ে সহজ এবং প্রাথমিক ধাপ। তবে কিছু সমালোচকের বক্তব্য ছিল, সমর্থকেরা নিজেরাই ময়লা পরিষ্কার করে এলে স্টেডিয়ামের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের সুযোগ কমে যাবে। তবে কাতার বিশ্বকাপে দেখা গেছে, জাপানি সমর্থকদের এই কাজের ফলে স্টেডিয়ামের প্রায় ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী দ্রুত কাজ শেষ করে আগেভাগে বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তাঁরা জাপানিদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে জাপানিদের এই নিয়মানুবর্তিতা বিশ্বকে একটি বড় বার্তা দিয়েছে; পরিচ্ছন্নতা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এটি একটি সমষ্টিগত অভ্যাস। জাপানি ফুটবল দল ও সমর্থকেরা প্রমাণ করেছে, মাঠের খেলার পাশাপাশি আচরণ এবং সংস্কৃতির মাধ্যমেও বিশ্ববাসীর মন জয় করা সম্ভব, যা বর্তমানে পৃথিবীর যেকোনো সমাজের জন্যই একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
সূত্র: সিএনএন ও অন্যান্য

চিকিৎসকের একটি সতর্কবার্তা আমূল বদলে দিয়েছিল দিল্লির দম্পতি রূপিকা আনন্দ ও রাকেশ আনন্দের জীবন। শারীরিক অসুস্থতা থেকে সুস্থ জীবনের খোঁজে শহরের আরাম-আয়েশ ও সফল করপোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন কৃষিকাজ।
৯ ঘণ্টা আগে
ওজন কমানো বা নিজেকে ফিট রাখা যে কতটা কঠিন, তা ভুক্তভোগীরাই ভালো বোঝেন। এর চিন্তা মাথায় এলেই মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে ওঠে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রিয় চকলেট কেকটিকে না ছুঁয়ে বিদায় জানানোর দুঃখ। কিংবা ধোঁয়া ওঠা কাচ্চি বিরিয়ানি প্লেটে নেওয়ার পর অপরাধবোধে ভোগার দৃশ্য। মন বলে ‘আরেকটু খাই’, যুক্তি বলে ‘না’।
১২ ঘণ্টা আগে
মানসিকভাবে মানুষ প্রতিটি সম্পর্কের এক জটিল ছক বা মানচিত্র তৈরি করতে ওস্তাদ। কে কার অনুগত, কার সঙ্গে কার প্রতিযোগিতা কিংবা কে কখন কার বিরুদ্ধে যেতে পারে—প্রতিনিয়ত আমাদের মন এসবের হিসাব রাখে। কিন্তু সম্পর্কের এই অভ্যন্তরীণ মানচিত্রে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বা বিরোধের ছাপ বেশি স্পষ্ট হয়। কখনো ভেবে দেখে
১৪ ঘণ্টা আগে
ধারণা করা হয়, প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পান বা ঘাবড়ে যান। অনেকের হয়তো ভয়ে বুক ধুকধুক করে বা হাতের তালু ঘামতে শুরু করে। অনেক সময় আমাদের মাথা ফাঁকা হয়ে যায়, কণ্ঠস্বর ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয় এবং হাত-পা কাঁপতে থাকে। অনেক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আমরা
১৫ ঘণ্টা আগে