আমরা সবাই সাবান ব্যবহার করি। বেশির ভাগ সাবানে থাকে বিভিন্ন পশুর চর্বি। প্রসাধনী তৈরিতেও প্রচুর চর্বি প্রয়োজন। ফলে বিভিন্ন প্রাণীর চর্বি সংগ্রহ করা হয়। এসব প্রাণীর কোনো কোনোটির চর্বিতে যে কৃমি থাকে, তা বহু বছর জীবিত থাকতে পারে। এই চর্বি গরম করা হলেও কিছু কৃমি সক্রিয় থাকে।
এই ধরনের শক্তিশালী পরজীবী আপনার ব্যবহার করা সাবানে থাকলে সেই সাবান থেকে আপনার শরীরে এগুলো প্রবেশ করতে পারে। শুধু সাবান নয়, লিপস্টিক, ক্রিম কিংবা মাস্কের মতো প্রসাধনীও মোলায়েম করার জন্য পশুর চর্বি ব্যবহার করা হয়। ফলে এসব পণ্যের মধ্য়েও প্রচুর কৃমি থাকতে পারে।
লিপস্টিক নিয়ে সম্প্রতি অনেক গবেষণা হয়েছে। মাইক্রোস্কোপের নিচে লিপস্টিক রেখে দেখা গেছে, এতে ক্রিমি সক্রিয় রয়েছে। ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে, পণ্য়ে চর্বির পাশাপাশি যেসব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, তাতেও এই পরজীবীগুলো মরে না। তাপ ব্যবহারে কিছু পরজীবী মরলেও সেগুলোর বড় অংশ সক্রিয় থাকে।
এখন কোল্ড প্রেসড বিউটি পণ্যের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই প্রক্রিয়ায় চর্বির সঙ্গে রাসায়নিক মিশিয়ে যখন সাবান বা অন্যান্য কসমেটিক তৈরি করা হয়, তখন সব পরজীবীই বেঁচে থাকে। ফলে কোল্ড প্রেসড বিউটি পণ্য আমাদের ত্বক আর শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর।
চর্বির সঙ্গে রাসায়নিক মিশিয়ে যখন সাবান বা অন্যান্য কসমেটিক তৈরি করা হয়, তখন সব পরজীবীই বেঁচে থাকে। ফলে কোল্ড প্রেসড বিউটি পণ্য আমাদের ত্বক ও শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও কেন প্রসাধনীতে পশুর চর্বি ব্যবহার করা হয়? এর মূল কারণ হচ্ছে, যেকোনো ভেগান উপকরণের তুলনায় পশুর চর্বির দাম তুলনামূলক কম। চর্বির পরিবর্তে যখন ভেগান প্রক্রিয়ায় পণ্য তৈরি করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে পণ্যের দাম অনেকটা বেড়ে যায়। অন্যদিকে যাঁরা চর্বিতে তৈরি পণ্য ব্যবহার করে অভ্যস্ত, তাঁরা মনে করেন, এত দাম দিয়ে ভেগান পণ্য কিনেও ব্যবহারে আরাম পাচ্ছেন না। মূলত এ কারণেই বিউটিপণ্য তৈরিতে পশুর চর্বির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। আবার কিছু কিছু পণ্য চর্বি ছাড়া তৈরি করা গেলেও কিছু কিছু আবার পুরোটাই পশুর চর্বির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এসব পণ্যের ব্যবহার না কমালে পরজীবীর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়তে থাকবে। নিয়মিত কৃমির ওষুধও খেতে হতে পারে।
অনেকে ভাবেন, শুধু রাস্তার পাশের খাবার খেলেই ক্রিমির সংক্রমণ হতে পারে। আবার অনেকে ভাবেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেই বুঝি কৃমির ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিউটি পণ্য থেকেও যে কৃমির সংক্রমণ হতে পারে, এ ধারণা অধিকাংশেরই নেই। কৃমি শরীরের পুষ্টি শুষে নিয়ে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই এ ধরনের পণ্য কেনার সময় পণ্যের গায়ে লেখা উপকরণ সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। চেষ্টা করতে হবে ভেগান পণ্য কেনার। এটি ত্বক ও শরীরের জন্য ভালো এবং হালালও বটে। সাবানের ক্ষেত্রে অন্য কোনো পশুর চর্বি না থাকলেও গরুর চর্বি থাকে। আর এতেও পরজীবী থাকতে পারে। তাই বাইরের খাবার না খেলেও বছরে নিয়ম করে কৃমির ওষুধ খেতে হবে।
কৃমির কারণে শরীরের বেশি সমস্যা হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। এর মতো পরজীবীকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মানুষের মস্তিষ্কে চলে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সৌন্দর্যপণ্য কেনার ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন: শোভন সাহা, কসমেটোলজিস্ট ও স্বত্বাধিকারী, শোভন মেকওভার

আমাদের ফোনের গ্যালারিটা খুললেই চোখে পড়ে রাশি রাশি ছবির মেলা। কোথাও ঘুরতে গেলে পাহাড়, সমুদ্র, সূর্যাস্ত কিংবা বিশেষ মুহূর্তগুলো আমরা ক্যামেরায় বন্দী করে রাখি। উদ্দেশ্য একটাই—সময় চলে গেলেও মুহূর্তটা যেন হারিয়ে না যায়। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, গ্যালারিতে জমে থাকা এই হাজারটা ছবির মধ্যে ঠিক...
১০ ঘণ্টা আগে
পুরুষ মানেই যে অগোছালো আর খামখেয়ালি—এ ব্যাপারটা বোধ হয় এখন আর সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ২০২৬-এ এসে পুরুষেরা অনেক বেশি রূপ ও ফ্যাশন সচেতন হয়েছেন। অফিসে, শপিং মলে বা যাওয়া-আসার পথে আশপাশে তাকালেই টের পাবেন, চলতি সময়ের পুরুষেরা নিজেদের ত্বক ও চুল নিয়ে কতটা ভাবেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
অনেক সময় সকালে উঠেই ক্লান্ত লাগে। এমনকি সারা দিন ক্লান্তিতে কাটে। এ ধরনের অলস সময় অনেকের যায়। সব সময় ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করার পেছনে জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস কিংবা নানা শারীরিক কারণ জড়িত থাকতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তির পেছনে থাকা প্রধান কারণগুলো জানা থাকলে এই ক্লান্তি থেকে মুক্তি মেলা সহজ হয়ে যায়।
১৭ ঘণ্টা আগে
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখন অনেকটাই স্ক্রিননির্ভর। বাজার করার তালিকা বানানো থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নোট—সবকিছুতেই আমাদের আঙুল চলে কি-বোর্ডের ওপর। তবে সম্প্রতি মনস্তত্ত্ব ও নিউরোসায়েন্সের গবেষণায় দেখা গেছে, কম্পিউটারে টাইপ করার চেয়ে হাত দিয়ে লেখার মধ্যে মস্তিষ্কের এক দারুণ ক্ষমতা
১৯ ঘণ্টা আগে