Ajker Patrika

চিনি খাওয়ার ইচ্ছা প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চান? জেনে নিন ৫ ঘরোয়া প্রতিকার

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
চিনি খাওয়ার ইচ্ছা প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চান? জেনে নিন ৫ ঘরোয়া প্রতিকার
অতিরিক্ত চিনি খেলে ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন, জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা হ্রাস, ঘুমের সমস্যা, অস্বাস্থ্যকর ওজন বাড়াসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

ইদানীং আপনার কি খুব বেশি চিনিযুক্ত বা মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে? প্রতিবারই চায়ে চিনি নেওয়ার সময় বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়ার সময় অপরাধবোধে ভুগছেন? একটু স্বস্তির খবর দিই। সামান্য চিনি খেলে খুব একটা অসুবিধা হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে এটি ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা; যেমন জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা হ্রাস, ঘুমের সমস্যা এবং অস্বাস্থ্যকর ওজন বাড়ার কারণ হতে পারে। তাহলে উপায়? খুব পরিশ্রম না করে শুধু ঘরোয়া টোটকার মাধ্যমেই চিনি ও মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাগে আনা সম্ভব।

জেনে নিন এখানে—

খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখুন

ক্রমাগত চিনিজাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগছে, মানে শরীর আপনাকে কিছু বলতে চাইছে। শরীরে ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি এবং জিংকের ঘাটতি থাকলে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এই পুষ্টি উপাদানগুলো গ্লুকোজ উৎপাদনে একটি বড় ভূমিকা পালন করে এবং শরীরে ইনসুলিন ও শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীরে এই পুষ্টি উপাদানগুলো বাড়ানোর জন্য পালংশাক, কলা, দুধ ও মটরশুঁটির মতো খাবার খান। এতে করে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমতে থাকবে।

সুষম খাবার খেতে হবে

সুস্থ শরীর বজায় রাখার জন্য সুষম খাবার খাওয়া অপরিহার্য। সুষম খাবারে শর্করা, ভালো চর্বি, প্রোটিন, মৌসুমি শাকসবজি ও ফল এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক বাটি ডাল, দুই ধরনের সবজি, রুটি, ভাত, সালাদ এবং একটি স্বাস্থ্যকর মিষ্টি পদ রাখতে পারেন। আয়ুর্বেদ অনুসারে, সারা দিনের খাবারে মিষ্টি, টক, নোনতা, ঝাল, তেতো ও কষ—এই ছয়টি স্বাদই থাকা উচিত। প্রতিটি স্বাদ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোনো স্বাদই অন্যগুলোর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

সময়মতো খাবার খাওয়া

শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়। মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কার্যকরভাবে দমন করার জন্য আপনাকে সঠিক সময়ে খেতে হবে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে খাবার খেলে আপনার শরীর নিরাপদ বোধ করে। শরীর বুঝতে শুরু করে কখন পরবর্তী খাবারের থেকে শক্তি পাবে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে। অসময়ে বা অনিয়মিত বিরতিতে খাবার খেলে শরীর বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এতে হরমোন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে কর্টিসল এবং ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

বেশির ভাগ সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধা ভেবে ভুল করি আমরা। ফলে অনেকে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে, সঠিক হজমে সহায়তা করতে এবং শক্তি ও মানসিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

পানি পান করা ছাড়াও শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে লেবুপানি, ডাবের পানি এবং ভেষজ চায়ের মতো পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে। শসা ও কমলার মতো পানির পরিমাণ বেশি থাকা ফলও খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

প্রাকৃতিক চিনি গ্রহণ

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, খাবারের ছয়টি স্বাদই শরীরের প্রয়োজন। কিন্তু আপনি কোন ধরনের চিনি খাচ্ছেন, তা রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা এবং প্রতিক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। চিনির প্রতি আপনার আকাঙ্ক্ষা কমাতে, আম, আপেল, তরমুজ ও খেজুরের মতো মিষ্টি ফল এবং মিষ্টিআলু ও গাজরের মতো সবজির প্রাকৃতিক চিনিযুক্ত খাবার খান। এগুলো মিষ্টিজাতীয় খাবারের স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এগুলো আপনার শরীর হঠাৎ দুর্বল করে দেবে না বা শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণ হবে না।

সূত্র: ফেমিনা ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত