Ajker Patrika

ফলাফল নাকি দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রে কোনটি বেশি জরুরি

শিক্ষা ডেস্ক
ফলাফল নাকি দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রে কোনটি বেশি জরুরি
ছবি: আজকের পত্রিকা

মাত্র কয়েক বছর আগেও ভালো ফল, অর্থাৎ উচ্চ সিজিপিএ ক্যারিয়ারে প্রবেশের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু দ্রুত পরিবর্তনশীল বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক ফল আর যথেষ্ট নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এখন এমন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যিনি কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানেই নয়, বাস্তব কাজের দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানে পারদর্শী। ফলে ‘ফল নাকি দক্ষতা’—এই প্রশ্নটি এখন বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হয়ে উঠেছে। পরামর্শ দিয়েছেন বরিশালের ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নাদিয়া আফরিন নিগার।

সিজিপিএ একজন শিক্ষার্থীর অধ্যবসায় ও তাত্ত্বিক জ্ঞানের একটি ধারণা দেয়, এটি নিঃসন্দেহে খুব ভালো। তবে প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান কর্মক্ষেত্রে এর পাশাপাশি প্রয়োজন বাড়তি কিছু দক্ষতা। বিশেষ করে সফট স্কিল; যেমন যোগাযোগদক্ষতা, দলগত কাজের মানসিকতা, সময় ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্বগুণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা—নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একজন শিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ থাকায় ইন্টারভিউ বা বাস্তব কাজের পরিস্থিতিতে পিছিয়ে পড়েন। আবার এমন অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যাঁদের সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলেও যোগাযোগ ও উপস্থাপন দক্ষতার কারণে তাঁরা পড়াশোনার সময়ে চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে যাঁরা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানেই মনোযোগী, তাঁদের অনেককে চাকরি পেতে বেশি বেগ পোহাতে হচ্ছে।

এখানে ভাষাগত দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে ইংরেজিতে সাবলীলতা অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তি সুবিধা এনে দেয়, কারণ অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভাষাগত দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সফট স্কিল গড়ে তোলা।

কেন সফট স্কিল জরুরি

প্রথমত, আধুনিক কর্মক্ষেত্রে কাজের ধরন দলনির্ভর। সহকর্মীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ করতে না পারলে কাজের গতি ও মান—দুটিই ব্যাহত হয়।

দ্বিতীয়ত, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অত্যন্ত মূল্যবান। শুধু তত্ত্ব জানা নয়, সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করে সমাধান দেওয়াই মুখ্য।

তৃতীয়ত, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা না থাকলে টিকে থাকা কঠিন।

যেভাবে সফট স্কিল উন্নয়ন সম্ভব

বর্তমানে শিক্ষার্থীরা খুব সহজে কিছু সফট স্কিলে পারদর্শী হতে পারে—

প্রথমত, ক্লাস প্রেজেন্টেশন ও দলগত কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে। এগুলোকে আনুষ্ঠানিকতা মনে না করে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করলে আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ে।

দ্বিতীয়ত, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ জরুরি। বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ভলান্টিয়ারিং—এসব কার্যক্রম নেতৃত্বগুণ, দলগত কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বাড়ায়।

তৃতীয়ত, সময় ব্যবস্থাপনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিকল্পিতভাবে দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করলে এ দক্ষতা ধীরে ধীরে তৈরি হয়।

চতুর্থত, ডিজিটাল-দক্ষতার পাশাপাশি ভাষাগত ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করা প্রয়োজন। মাতৃভাষা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় স্পষ্টভাবে ভাব প্রকাশের ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চমত, আত্মমূল্যায়ন ও ফিডব্যাক গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এতে দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব।

ক্যারিয়ারে প্রভাব

সফট স্কিল উন্নত হলে একজন শিক্ষার্থী শুধু চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নয়, কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা এবং অগ্রগতির দিক থেকেও এগিয়ে থাকে। ইন্টারভিউ বোর্ডে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপন, গোছানো চিন্তাপ্রকাশ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা একজন প্রার্থীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। পাশাপাশি নেতৃত্বগুণ ও দল পরিচালনার দক্ষতা থাকলে পদোন্নতির সুযোগও দ্রুত তৈরি হয়।

সবশেষে বলা যায়, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত যোগ্যতা নির্ভর করে তাঁর জ্ঞান, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের সমন্বিত প্রকাশের ওপর। তাই আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে ‘ভালো ফলাফল’-এর পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা অর্জনই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অধ্যক্ষকে জড়িয়ে আপত্তিকর কথা বলায় প্রথমে থাপ্পড় দেন প্রদর্শক

উত্তরায় মদের বারে অভিযান, নারীসহ ১৪০ জন গ্রেপ্তার

প্রচণ্ড গরম ও তাপপ্রবাহের মধ্যে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

ন্যাটো থেকে স্পেনকে বাদ ও যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

৭ দিনের গণভোট প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক: রিফাত রশিদ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত