গল্পটি বনি ইসরাইলের এক আলেমের কথা বলে। স্ত্রী মারা গেলে তিনি শোকে মুহ্যমান হয়ে নিজেকে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। তখন এক নারী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন যে, তিনি তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি এক কৌশল অবলম্বন করেন। এক ওয়াজের মাধ্যমে তাঁকে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করান, যা অজান্তেই তাঁর নিজের অবস্থাকে প্রতিফলিত করছিল।
নারীর ওয়াজ আলেমের হৃদয় স্পর্শ করে, তিনি গভীর শিক্ষা গ্রহণ করেন, তাঁর তীব্র শোক কেটে যায় এবং তিনি আবার মানুষের মাঝে ফিরে আসেন। কী ছিল সেই ওয়াজ, আসুন জেনে নিই সহিহ হাদিসের আলোকে—
ইমাম মালেক (রহ.) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন—তিনি বলেন, আমার স্ত্রী ইন্তেকাল করলে আমি প্রচণ্ড শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ি। তখন মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযি আমার কাছে এলেন এবং আমাকে সান্ত্বনা দিলেন। তিনি বললেন, বনি ইসরাইলের এক বড় আলেম ছিলেন। জ্ঞানী, ধার্মিক ও নিষ্ঠাবান ইবাদতগুজার ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন এবং তাঁকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন।
হঠাৎ করেই তাঁর স্ত্রী ইন্তেকাল করলেন। এতে তিনি এতটাই মর্মাহত হলেন যে, দুঃখে-কষ্টে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেন। তিনি নিজেকে মানুষের কাছ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেললেন। ঘরের দরজা বন্ধ করে একাকী বসবাস করতে লাগলেন। কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারত না। কেউ তাঁর কাছে আসতেও পারত না।
একদিন এক নারী তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলেন এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলেন যে, তাঁকে বুঝিয়ে এই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনবেন। তিনি আলেমের বাড়িতে এলেন এবং বললেন, ‘আমার একটি জরুরি মাসআলা আছে, যার সমাধান কেবল তিনিই দিতে পারেন। আমি তাঁর কাছ থেকে সরাসরি জবাব ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হব না।’
লোকজন চলে গেলেও তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং বললেন, ‘আমি এখান থেকে যাব না। আমাকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতেই হবে।’
অবশেষে আলেমের কাছে একজন গিয়ে বললেন, ‘দরজার বাইরে এক নারী এসেছেন, যিনি আপনার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলার সমাধান জানতে চাচ্ছেন। তিনি বলে গেছেন, কেবল আপনার মুখ থেকেই তিনি উত্তর শুনতে চান এবং কোনোভাবেই ফিরে যাবেন না।’
আলেম বললেন, ‘তাঁকে ভেতরে আসতে দাও।’
নারী ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, ‘আমি আপনার কাছে একটি ফতোয়া জানতে এসেছি।’
আলেম জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী মাসআলা?’
তিনি বললেন, ‘আমি আমার এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে কিছু গয়না ধার নিয়েছিলাম। অনেকদিন তা ব্যবহার করেছি, পরেছি, উপভোগ করেছি। এখন তারা
তাদের গহনা ফেরত চেয়েছে। বলুন, আমি কি তাদের তা ফেরত দেব?’
আলেম বললেন, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই! আল্লাহর কসম, তুমি অবশ্যই তা ফিরিয়ে দেবে।’
নারী বললেন, ‘কিন্তু আমি তো এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করেছি!’
আলেম বললেন, ‘বরং এটিই তো অধিক গুরুত্বপূর্ণ যে, যাঁরা তোমাকে এটি কিছুদিনের জন্য ধার দিয়েছিলেন, এখন তাঁদের তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’
তখন ওই নারী বললেন, ‘আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। তবে কি আপনি এমন কিছু নিয়ে শোক করছেন, যা আল্লাহ আপনাকে কিছু সময়ের জন্য দিয়েছিলেন, আর এখন তিনি সেটি ফিরিয়ে নিয়েছেন? অথচ তিনিই এর প্রকৃত মালিক!’
এই কথাগুলো শুনে আলেম হঠাৎ নিজের অবস্থার গভীরতা বুঝতে পারলেন। তাঁর চেতনা ফিরে এল। তিনি উপলব্ধি করলেন, তিনি যে শোকে মুহ্যমান ছিলেন, তা অনর্থক। আল্লাহর ইচ্ছাই শ্রেষ্ঠ, আর যা তিনি ফিরিয়ে নিয়েছেন, তা তাঁরই ছিল।
অবশেষে তিনি দুঃখ কাটিয়ে উঠলেন এবং আবার মানুষের মাঝে ফিরে এলেন। (মুয়াত্তা মালেক, পৃষ্ঠা: ১৬৩, হাদিস: ৪৩)
গল্প থেকে শিক্ষা
জ্ঞানী ও আলেমরা অনেক সময় সেই শিক্ষা ভুলে যান, যা তাঁরা শিখেছেন ও হেফজ করেছেন—যেমন এই আলেম ভুলে গিয়েছিলেন যে, তিনি নিজেই মানুষকে ধৈর্যের শিক্ষা দিতেন এবং বোঝাতেন যে, আল্লাহ যা কিছু আমাদের থেকে নিয়ে নেন, তা মূলত তিনি আমাদের কাছে কিছু সময়ের জন্য আমানত হিসেবে রেখেছিলেন, যা পরে ফিরিয়ে নেওয়া তাঁরই অধিকার।
যারা প্রজ্ঞা ও বোধশক্তির অধিকারী, তাঁদের দায়িত্ব হলো—অন্যদের সেই জ্ঞান ও উপলব্ধি করিয়ে দেওয়া, যা তারা ভুলে গেছেন বা খেয়াল করেননি। যেমন, এই বিচক্ষণ নারী আলেমকে তাঁর ভুলে যাওয়া শিক্ষা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।
ফিকহ ও জ্ঞান অর্জন কেবল পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং এটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই এক অভিন্ন সম্পদ। এই গল্পে দেখা যায়, এক নারী কেবল জ্ঞান অর্জন করেননি, বরং এক বিদ্বান পুরুষকেও তাঁর ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন।
যদি কোনো নারী নিশ্চিত হন যে, তিনি নিজেকে বিপদ ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন, তাহলে তাঁর জন্য জ্ঞান বিতরণ, শিক্ষা দেওয়া এবং সমাজে কল্যাণ ছড়িয়ে দেওয়ার কোনো বাধা নেই।
উপমা ও উদাহরণের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, উপমা সন্দেহ দূর করে, অস্পষ্টতা দূর করে, পথহারা মানুষকে শিক্ষা দেয় এবং বিভ্রান্তদের সঠিক পথে পরিচালিত করে।

গভীর রাতে অপছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে সুন্নাহ অনুযায়ী কিছু আমল করলে দ্রুতই মনের ভয় কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত থাকা সম্ভব হয়। দুঃস্বপ্ন দেখলে ৫টি করণীয় হলো...
৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৭ ঘণ্টা আগে
ইসলামে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বংশীয় পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোরআন-হাদিসে স্থায়ী ও সাময়িক নিষিদ্ধ নারীদের (মাহরাম) যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে ফিকহের ইমামগণ প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয়ের সমাধান প্রদান করেছেন।
২০ ঘণ্টা আগে
আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতার একক মালিক। মানুষের জীবনের আলো-ছায়া, সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ—সবই তাঁর সৃষ্টি ও হুকুমের অধীন। অরণ্যের একটি বৃক্ষপত্রও তাঁর অগোচরে এবং হুকুম ছাড়া ঝরে পড়ে না—এ সত্য প্রতিটি মুমিনের সুদৃঢ় বিশ্বাস। তবু প্রাত্যহিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে দেখা যায়, মানুষ অজান্তেই ইমানের সরল-সোজা পথ
১ দিন আগে