
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মেসওয়াক তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি দাঁত পরিষ্কারের প্রাকৃতিক উপায়ের পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ। মেসওয়াকের মাধ্যমে যেমন মুখ ও দাঁত পরিচ্ছন্ন থাকে, তেমনি আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জিত হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও মেসওয়াকের নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা স্বীকার করেছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াককে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন, ‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি প্রত্যেক নামাজের সময় তাদের মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (সহিহ্ বুখারি: ৮৮৭)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, উম্মতের কষ্টের কথা বিবেচনা করে তা ফরজ করা হয়নি, কিন্তু এর গুরুত্ব এত বেশি যে নবীজি (সা.) প্রায় প্রতিটি নামাজের আগে এটি করতে উৎসাহিত করেছেন।
মেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মেসওয়াক মুখকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে।’ (সুনানে নাসায়ি: ৫)
এই হাদিসে মেসওয়াকের দুটি বড় উপকারিতা উল্লেখ করা হয়েছে, একটি দুনিয়াবি, অন্যটি আখিরাতের। দুনিয়াবি উপকার হলো মুখের পরিচ্ছন্নতা ও দুর্গন্ধ দূর হওয়া। আর আখিরাতের উপকার হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
রাসুল (সা.)-এর দৈনন্দিন জীবনে মেসওয়াক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। তিনি ঘুম থেকে জেগে, অজুর সময়, নামাজের আগে, ঘরে প্রবেশের সময় এবং কোরআন তিলাওয়াতের আগে মেসওয়াক করতেন। এমনকি মৃত্যুশয্যাতেও তিনি মেসওয়াক করেছেন। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, মৃত্যুর আগে আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.)-এর হাতে থাকা মেসওয়াক দেখে রাসুল (সা.)-এর আগ্রহ প্রকাশ পেলে তিনি সেটি নরম করে নবীজিকে দেন এবং তিনি তা দিয়ে মেসওয়াক করেন। (সহিহ বুখারি: ৪৪৪৯)
মেসওয়াকের রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা। এটি দাঁতের ময়লা দূর করে, মাড়ি শক্ত করে, মুখের দুর্গন্ধ কমায়, জীবাণুর আক্রমণ হ্রাস করে এবং দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে। বর্তমান সময়ে অনেকেই শুধু টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের ওপর নির্ভর করেন। এগুলো ব্যবহার করা অবশ্যই বৈধ। তবে এর পাশাপাশি মেসওয়াকের সুন্নাহকেও জীবিত রাখা উচিত।

নফল ইবাদত বান্দার আমলনামার সৌন্দর্য। নফল ইবাদতের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে আল্লাহ তাআলার অনেক কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়া যায় অনেক সহজে। মুমিন যখন ফরজ ও সুন্নতে মুআক্কাদা পালন শেষে নফল ইবাদতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করে—প্রতিটি রুকু-সেজদা এবং তাসবিহের বিনিময়ে তার মর্যাদা বাড়তে থাকে।
৭ ঘণ্টা আগে
ইবাদত ও আমলকে গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রধান ও বহুল চর্চিত পরিভাষা হলো ‘ফরজ’ ও ‘নফল’। ফরজ, ওয়াজিব কিংবা সুন্নতের মতো পরিভাষাগুলো সরাসরি আল্লাহ তাআলা বা তাঁর রাসুল (সা.) নির্ধারণ করে দিয়ে যাননি।
১৭ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২১ ঘণ্টা আগে
নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পাঠ করার পর দরুদ শরিফ পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, আবার কোনো কোনো ফকিহের মতে তা ওয়াজিব। আমল ও ফজিলতের দিক থেকে নামাজের মধ্যে দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা সবচেয়ে উত্তম ও সর্বজনবিদিত। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের নামাজে পাঠ করার জন্য বিশেষভাবে এই...
১ দিন আগে