মদিনার পবিত্র মসজিদে নবীজি (সা.) সাহাবিদের নিয়ে বসে আছেন। তাঁদের কথোপকথন আর আল্লাহর জিকিরে বাতাস মুখরিত। এমন সময় একজন অপরিচিত ব্যক্তি সেখানে এলেন। তাঁর চেহারা দেখে মনে হয় না তিনি এই এলাকার কেউ। তিনি সোজা নবীজি (সা.)-এর সামনে এসে বসলেন।
তিনি বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল ইমান কী?’
নবীজি (সা.) শান্তভাবে উত্তর দিলেন, ‘ইমান হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, কিয়ামত এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি ইমান রাখা। পুনরুত্থানে বিশ্বাস রাখা।’
লোকটি আবার প্রশ্ন করলেন, ‘ইসলাম কী?’
নবীজি (সা.) বললেন, ‘ইসলাম হলো আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে অংশীদার না করা, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, জাকাত আদায় করা এবং রমজানের রোজা পালন করা।’
অপরিচিত ব্যক্তিটি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইহসান কী?’
নবীজি (সা.) বললেন, ‘আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন—যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর যদি তাঁকে দেখতে না পান, তবে মনে করবেন তিনি আপনাকে দেখছেন।’
অবশেষে লোকটি শেষ প্রশ্নটি করলেন, ‘কিয়ামত কবে?’
এই প্রশ্নে নবীজি (সা.) একটু থামলেন। তারপর বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমি প্রশ্নকর্তার চেয়ে বেশি জ্ঞাত নই। তবে আমি কিছু আলামত বলে দিচ্ছি: যখন দাসী তাঁর প্রভুকে প্রসব করবে এবং উটের রাখালরা বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে, তখন কিয়ামত নিকটবর্তী।’
কথা শেষ করে লোকটি চলে গেলেন।
নবীজি (সা.) সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা তাকে ফিরিয়ে আনো।’
কিন্তু তাঁরা বাইরে গিয়ে কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘তিনি জিবরাইল (আ.)। তোমাদেরকে দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।’
তথ্যসূত্র: সহিহ্ মুসলিম: ৪৭৭৭

হাজিদের পদচারণায় মুখরিত হতে যাচ্ছে কাবা প্রাঙ্গণ। শুরু হয়েছে হজের ফ্লাইট—বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সৌভাগ্যবান মুসলমানরা ছুটছেন মক্কার পানে। হজ আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মহড়া। ইসলামের এই পঞ্চম স্তম্ভ মানুষকে শেখায় সমতা, একতা এবং পরম রবের প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।
৮ ঘণ্টা আগে
জিলহজ ইসলামের অন্যতম সম্মানিত ও ফজিলতপূর্ণ মাস, যা আমাদের মাঝে নিয়ে আসে পবিত্র হজ ও মহান ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত কোরবানি। পবিত্র কোরআনে এই মাসের প্রথম ১০ রাতকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বছরের অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়।
১৪ ঘণ্টা আগে
হজের দীর্ঘ ইতিহাসে অগণিত পুরুষ পরিব্রাজক তাঁদের অভিজ্ঞতার ডালি সাজিয়ে ভ্রমণকাহিনি লিখেছেন। কিন্তু কোনো নারীর হাতে লেখা প্রথম হজ ভ্রমণকাহিনির কৃতিত্ব যাঁর, তিনি কোনো সাধারণ নারী নন, ভারতের ভূপাল রাজ্যের প্রতাপশালী শাসক নবাব সিকান্দার বেগম। ১৮৬৪ সালে লেখা তাঁর এই সফরনামাটিকে বলা যায়...
১৪ ঘণ্টা আগে
হজ ও ওমরাহর পবিত্র সফরে হাজিদের মুখে সবচেয়ে বেশি যে ধ্বনিটি উচ্চারিত হয়, তা হলো ‘তালবিয়া’। এটি মহান আল্লাহর ডাকে বান্দার সাড়া দেওয়ার এক বিশেষ স্লোগান। ইহরাম বাঁধার পর থেকে হজের বিভিন্ন আমল চলাকালীন তালবিয়ার গুঞ্জরণে মুখরিত থাকে মক্কা ও মিনা প্রান্তর। তবে তালবিয়া পড়ার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও সময় রয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে