
হাজিদের পদচারণায় মুখরিত হতে যাচ্ছে কাবা প্রাঙ্গণ। শুরু হয়েছে হজের ফ্লাইট—বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সৌভাগ্যবান মুসলমানরা ছুটছেন মক্কার পানে। হজ আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের এক অনন্য ইবাদত। ইসলামের এই পঞ্চম স্তম্ভ মানুষকে শেখায় সমতা, একতা এবং পরম রবের প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।
ইসলামের বিধানমতে, শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছানোর সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর জন্য এ ঘরে হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)
সামর্থ্য থাকার পরও যাঁরা হজে যেতে গড়িমসি করেন, তাঁদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠিন সতর্কবাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্বল থাকা সত্ত্বেও হজ করল না, সে ইহুদি হয়ে মারা যাক বা খ্রিষ্টান হয়ে—তাতে আল্লাহর কিছু আসে-যায় না।’ (জামে তিরমিজি: ৮১২)
তাই সামর্থ্যবান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই ফরজ ইবাদত পালন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশুদ্ধ নিয়তে হজ পালনের প্রতিদান অপরিসীম। হাজিরা আল্লাহর মেহমান। তাঁরা দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন এবং ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি গুনাহমুক্তভাবে হজ পালন করেন, তিনি সেই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসেন, যেদিন তাঁর মা তাঁকে জন্ম দিয়েছিলেন। এ ছাড়া কবুল হজের (হজে মাবরুর) একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত।
হজ হলো এক বিশাল আদর্শিক মঞ্চায়ন। এখানে কোনো রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র বা বর্ণভেদের পার্থক্য থাকে না। সাদা দুই খণ্ড ইহরামের কাপড়ে ঢাকা কোটি কোটি মানুষ যখন একই কাতারে দাঁড়ান, তখন পৃথিবীর সব বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে যায়।
হজ শেষে হাজিরা যখন ফিরে আসেন, তাঁরা তখন কেবল ‘হাজি’ উপাধিধারী নন, বরং এক একজন ‘সোনার মানুষ’ হিসেবে সমাজে আবির্ভূত হন। হজের মাধ্যমে অর্জিত ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও ত্যাগের শিক্ষা আমাদের জাগতিক জীবনে শান্তি এবং পারলৌকিক মুক্তি নিশ্চিত করে। হজের আসল সার্থকতা তখনই, যখন একজন মানুষ হজের শিক্ষাগুলো নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করে অন্যায় ও অনৈতিক কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখেন।

গুনাহ মূলত দুই প্রকার; ১. সগিরা গুনাহ (ছোট পাপ) এবং ২. কবিরা গুনাহ (মহাপাপ)। কবিরা গুনাহ থেকে মাফ পেতে খাঁটি মনে তওবা করা আবশ্যক। তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ মাফ হয় না; এমনকি কোনো কোনো কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও হাদিসে এসেছে...
১৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৯ ঘণ্টা আগে
সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমাবার। মুমিনের জীবনে দিনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এ দিনের নামে স্বতন্ত্র সুরা অবতীর্ণ করেছেন। জুমার আজানের সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ার যাবতীয় কাজকর্ম ত্যাগ করে তাঁর দরবারে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
১ দিন আগে
হিজরি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাসের নাম রবিউল আউয়াল। আরবি ভাষায় রবি শব্দের অর্থ বসন্তকাল এবং আউয়াল অর্থ প্রথম; অর্থাৎ রবিউল আউয়াল মানে হলো প্রথম বসন্ত বা বসন্তকালের সূচনা। ঋতুচক্রে প্রকৃতি যেমন শুষ্কতার খোলস ভেঙে বসন্তের ছোঁয়ায় ফুলে-ফলে সুবাসিত ও সজীব হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনই চৌদ্দ শ বছর আগে...
১ দিন আগে