প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে প্রতি বছর ফিরে আসে পবিত্র মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার এই মাসটি যখন তার শেষ দশকে এসে দাঁড়ায়, তখন মুমিনের হৃদয়ে এক অদ্ভুত ব্যাকুলতা জাগে এক মহিমান্বিত রজনীকে পাওয়ার জন্য; যার নাম লাইলাতুল কদর বা মহিমান্বিত ভাগ্য রজনী। এটি আত্মশুদ্ধি এবং পরম করুণাময়ের সান্নিধ্য লাভের এক মাহেন্দ্রক্ষণ।
আরবি কদর শব্দের অর্থ মহিমা, সম্মান ও পরিমাপ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই রাতের নামকরণ কদর হওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে:
মর্যাদা: এটি অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ রাত।
ভাগ্য নির্ধারণ: এই রাতে মানুষের আগামী এক বছরের ভাগ্যলিপি ফেরেশতাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘সে রাতে প্রত্যেক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থিরীকৃত হয়।’ (সুরা দুখান: ৪)
শবে কদরের মাহাত্ম্য মূলত আল-কোরআনের কারণে। এই রাতেই কোরআন লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়। কোরআনের সংস্পর্শে এসে একটি সাধারণ রাত যেমন হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছে, তেমনি একজন মানুষ যদি এই রাতে কোরআনের আদর্শ ধারণের শপথ নেয়, তবে তার জীবনও অসাধারণ হয়ে উঠবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত তালাশ করো।’ (সহিহ্ বুখারি: ২০২০)। যদি এটি একটি নির্দিষ্ট রাতে হতো, তবে মানুষ কেবল সেই রাতেই ইবাদত করত। আল্লাহ চেয়েছেন বান্দা অন্তত শেষ দশটি দিন তাঁর দুয়ারে পড়ে থাকুক। এই রাতটি খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে নিশ্চিত উপায় হলো ইতিকাফ করা।
হাদিস শরিফে এই মহিমান্বিত রাতের কিছু নিদর্শনের কথা বলা হয়েছে:

মদিনার রাত তখন শান্ত, নিস্তব্ধ। কিন্তু আবু হুরায়রা (রা.)-এর চোখে ঘুম নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জাকাত-ফিতরার কিছু জিনিস দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন। এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সারা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। হঠাৎ তিনি দেখতে পান, এক রহস্যময় ছায়ামূর্তি গুদামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
উম্মতে মুহাম্মদির স্বল্প হায়াতের ইবাদতের ঘাটতি পূরণে মহান আল্লাহর এক বিশেষ উপহার হলো লাইলাতুল কদর। হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে বান্দা তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। এই তাৎপর্যপূর্ণ রাতের ফজিলত পূর্ণমাত্রায় পেতে হলে আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট করণীয়...
২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৭ ঘণ্টা আগে
রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সময়। এই ইবাদতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেহরি ও ইফতার—দিনের শুরু ও সমাপ্তির দুই বরকতময় মুহূর্ত। সেহরি কেবল খাবারের নাম নয়, বরং এটি সুন্নাহর অনুসরণ; আর ইফতার হলো আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের বিশেষ সময়।
১ দিন আগে